Friday, December 9, 2016

ব্যাডমিন্টন

তখনও রাতে টর্চ নিয়ে ঘুমোতে যায়, আর সন্ধ্যা বেলায় মাফলার জড়িয়ে পড়তে বসি। আর শীতকাল বললে নভেম্বর ডিসেম্বর বুঝি। তখন, যখন বিশ্বাস করি ডট্ পেন দিয়ে শুধু বড়রা লিখে আর ফাউন্টেন পেন-এ কালি ভরতে গিয়ে দোয়াতের কালি গোটা হাতে মেখে বসে থাকি।

বিকেল বেলায় উলের হাফ সোয়েটার পড়ে ক্রিকেট মাঠে খেলতে গিয়ে ঠিক হল,
'যথেষ্ট ঠান্ডা পড়েছে রাতে ব্যাডমিন্টন চালু করতে হবে !' যেমন ভাবা তেমনি কাজ। আমার দাদুর বাড়ির সামনের রাস্তাটা বেশ চওড়া, সন্ধ্যা বেলায় চকের গুড়ো জোগাড় করে কোর্ট বানানো হল। আর একটা নাইলনের দড়ি বেঁধে নেট বানানো হল। কারা যেন বাড়ি থেকে এক জোড়া আধ ছেড়া র‌্যাকেট নিয়ে এল। এবার শুধু একটা শাটল্ কক্ এলেই খেলা চালু। একটা শাটল কক খুঁজে আনলাম, যার দুটো ফেদার ইঁদুরের পেটে গেছে।

সাড়ে সাতটা প্লেয়ার, কে আগে খেলবে ? সহজ হিসেব, যার যেমন কাঁচামালের যোগান। খেলার জায়গাটা আমার দাদুর বাড়ি তাই আমি প্রথমে থাকতেই পারি ! এরকম একটা প্রস্তাব দিতেই যাব আমার বাকি ভাই বোনরা খেঁকিয়ে উঠল।

পাশে দাদা গোত্রের কয়েকজন ওঁত পেতেই ছিল। যেই না সবে চালু শুরু আরম্ভ করব , 'একবার দেখি' বলে কোর্টে সার্জিকল স্ট্রাইক করল। চোখে চোখে ইশারা করে দু'জন ঠিক করে নিয়েছিল কেউ কাউকে আউট করবে না।
আমরা হাতপাখার মতো মাথা এদিক আর ওদিক করতে থাকলাম। শাটল্ ককটা আদতেই দুর্বল, বেশ কয়েক রাউন্ড এঁকে বেঁকে চলে শেষে হাত তুলে দিল।

'দিলে তো আমাদের খেলাটা শেষ করে!' সমবেত গালাগালি শুরু করতেই একজন পকেট থেকে দশ টাকার নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল 'যা দুটো কিনে নিস' আর আমার বাড়িতে একটা নেট আছে নিয়ে আসিস।
আর শোন, কাল একটু তাড়াতাড়ি শুরু করিস একটা 500 ওয়াটের বাল্ব লাগিয়ে নিতে হবে।

পরদিন থেকে ধুন্ধুমার খেলা চালু হল। সন্ধ্যা বেলা হলেই জায়গাটা সরগরম হয়ে উঠত। গন্ডগোলটা শুরু হল পাঁচ দিনের মাথায়, যখন র‌্যাকেটবান আর র‌্যাকেটবতীরা 'তোদের সাথে আর খেলব না' বলে বেঁকে বসল।
আমার কাছে একখানা র‌্যাকেট ছিল বটে আর একটাও জোগাড় করা যেত, কিন্তু বালখিল্য বাহিনী ভীড় না করলে আর খেলে মজা কোথায় ? সুতরাং দুবার আউটের শর্তে র‌্যাকেট ভ্রাতৃদ্বয়দের রাজী করালাম।
আর আটকাতে হয়নি। ফিবছর শীত পড়লেই সাড়ম্বরে ব্যাডমিন্টন খেলা হত।

বেশ কয়েক বছর পর পড়াশোনার জন্য অন্য শহরে চলে আসতে হয়েছিল। শীতকালে বাড়ি ফিরে দেখলাম কেউ আর নেট টাঙায়নি।
আবার সবাইকে জড়ো করে একটা উদ্যোগ নেওয়া হল, যেকদিন বাড়িতে ছিলাম খেলা চলল, ফিরে এসে খবর নিলাম আবার বন্ধ হয়ে গেছে। জাঁকিয়ে শীত পড়তে শুরু করেছিল আর আমাদের সম্পর্ক গুলোও ঠান্ডা হচ্ছিল।

এখনও নিয়ম মেনে শীত পড়ে, কখনও আগে, কখনও পরে।
দাদুর বাড়ির রাস্তাটাও এখনও চওড়া রয়েছে ,শুধু চেনা খেলার সাথী গুলো অচেনা হয়ে গেছে।

- অভিষেক বোস

শীতের সেরা

কে কবে ফেসবুকে আপডেট দেবে আর কোন চ্যানেলে গ্লিসারিন সাবানের বিজ্ঞাপন দিবে  তা দেখে শীতের সূচনা শুধু বেরসিকরা করতে পারে । আমার খাওয়ারের মেনুতে যেদিন নতুন গোল আলুর দম পড়বে (ফুলকপির বড়া সহ) সেদিন আমার শীত শুরু হবে । আরো আগে যখন জোর করে গলা দিয়ে  হাফ সোয়েটার গলিয়ে দেওয়া হত তখন মানতে হত শীত পড়েছে । সোয়েটারটা পড়ার সাথে সাথে মনে হত এখানে কুটকুট, ওখানে কুটকুট সুতরাং সঙ্গে সঙ্গে খুলে দেওয়ার জোরালো অ্যাপিল জানাতাম, অত্যন্ত নির্মম ভাবে অ্যাপিল নাকচ করা হত, তারপর যখন মা'র মনে হোত যে এবার খুলে ফেলা যেতে পারে তখন গৌরাঙ্গের মতো হাত তুলে দাঁড়াতে হত, মিনিট সাতেকের যুদ্ধ, চোখ মুখ লাল করে সোয়েটারটা বেরিয়ে আসত ।

পরদিন দুপুরে দেখতাম রঙ বেরঙের উলের গোলা আর উলকাঁটা নিয়ে মা বসে পড়েছে ।প্রতিদিন দেখতাম গোলাটা আস্তে আস্তে ছোট হচ্ছে আর সোয়েটারের হাত পা গজিয়ে উঠছে । মাঝে মাঝে উল্টো করে দাড় করিয়ে মাপ মিলিয়ে নেওয়া হত ।

স্নো ফলস আমি অনেক দেখেছি কিন্তু আমার এক বন্ধুর বাড়িতে যে পরিমাণে স্নো মাখা হত তার কাছে এসব কিছুই না । আড়াইশো গ্রাম করে মাখা সফেদ মুখ গুলো আলাদাই জেল্লা ছড়াতো । নামটা এখনও মনে আছে 'চার্মস' ।

যেকোনো রকম ঠোঁট ফাটার একমাত্র কারণ ছিল বোরোলিন না লাগানো এবং মুক্তির একমাত্র উপায় স্বয়ং বোরোলিন । জানিনা কেন, ভি বালসারার সুর বাদ দিয়ে বোরোলিনের সাথে কোনোদিনই কোনো আত্মীয়তা রাখতে পারলাম না । নাম বোরোলিন হলেও মোটেও লীন হত না । সাদা  কাদার মতো লেপ্টে থাকত আর উগ্র গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসত ।

শীতকালের ছাদে মাদুর বিছিয়ে আলসে ভাবে রোদ পোহানোকে আজও আমি নবাবিয়ানার সেরা মনে করি । এই নবাবিয়ানার জন্য কুমীরদের আমার বাঙালি বাঙালি মনে হয় । 'ল্যাদ খেয়ে পড়ে আছি, হালকা ঝিমুনি আর মিঠে কড়া রোদ্দুর'  এমন সুখটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! 

শীত আর বিয়ে বাড়ি হল রাজযোটক । একসাথে দল বেঁধে খেতে যেতাম আর ফেরার সময় হু হু  করে কাঁপতে কাঁপতে শুধু একটাই কথা মনে হত, বাড়িতে পৌছলেই একটা নরম লেপ, একটা অন্ধকার ঘর আর সবুজ নাইট বাল্বের আলো । নিশির ডাকের থেকেও মায়াবী ।

আর ছিল পিকনিক । যেখানে শীতের জয় সেখানে পিকনিক হয় । বাঙালিরা পিকনিকও পঞ্জিকা দেখে করত । পৌষ পড়ার আগেও নয়,  পৌষ শেষ হওয়ার পরেও নয় । বেলুন সজ্জিত আর চোঙ্ মাইক শোভিত গাড়ি দেখলেই পিকনিকের গাড়ি খেতাব জুটত ।

পিকনিকটা অবশ্য এখনও আছে,  শুধু পৌষ নেই ।

— অভিষেক বোস

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1006283959444601&id=900039906735674

Tuesday, October 11, 2016

শুভ বিজয়া

এক :

আবার কবে আসবি?

- পরের বছর

দেখিস, যদি ডিসেম্বরে আসতে পারিস

আর ছুটি নেই,  আবার আসছে পুজোয় । আমি এবার বেরোয় মা, এয়ারপোর্ট পৌছাতে দেরি হয়ে যাবে ।

ভালো থাকিস । দুগ্গা দুগ্গা ।

দুই :

আজকে মা এর বিসর্জনের দিন তোর আনন্দ হচ্ছে?

-হবে না !  সেই যে ভোটের দিন তুলে নিয়ে গেল,  আজ দাদার সাথে দেখা হবে ।তাড়াতাড়ি চল ছোটকা, জেলখানা পৌছাতে আধ ঘণ্টা লাগবে, দেরি করে ফেললে দশ মিনিটও কথা বলা যাবে না ।

তিন :

আজ একবার দেখতে যাবে না ছেলেটাকে? গোটা পুজোটা তো একা একা হাসপাতালে কাটালো!!

-মন খারাপ কোরো না, ওর চিকিৎসা চলছে, ডাক্তার বলেছে এখন আমাদের দেখলে ও আবার বেপরোয়া হয়ে যাবে,   শুধু ভেবো এই নেশা কাটিয়ে  পরের বছর যেন সুস্থ হয়ে পুজো কাটাতে পারে ।

চার :

কি রে মেয়ে এত রান্না বান্না!

-আজ যে বাবা ফিরে আসছে ।

তোর বাবা তো  ফি বছর মন্ডপ সাজাতে শহরে চলে যায়,  এতদিনে মানিয়ে নিতে পারিসনি?

-মানিয়ে তো নিয়েছি,  তাই তো বসে থাকি কবে পুজো শেষ হবে, কবে বাবা ফিরবে !!

শুভ বিজয়া   

অভিষেক বোস

Friday, September 30, 2016

পুজোর সেরা


কি বললি , বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ভালো লাগে না?

তা তো বলিনি! 

এই যে বললি একটু আগে? 

না ,বলিনি ৷ আমি বলেছি ভদ্র বাবু পাঠ না করলেত্ত মহালয়া , মহালয়া থাকবে ৷ কাল হয়তো অন্য কেউ ওনার চেয়ে ভালো করবে ৷ 

অসম্ভব , উত্তম কুমার পারেননি 

আচ্ছা ছাড়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ বাবুর ঠিক কি ভালো লাগে ?

ঐ তো , ভোরবেলা যখন অমন জলদ্ গম্ভীর গলায় " যা দেবী .... " বলে গেয়ে উঠেন !  আহ্ হা !! 

তারপর? 

তারপর কি ? 

তারপর কি ভালো লাগে?  " যা দেবীর " পর কমার্শিয়াল শুরু হয়ে যায় নাকি ? 

না , মানে ? 

মহালয়া তো শুধু চণ্ডীপাঠ নয় , পঙ্কজ মল্লিক , আরতি মুখোপাধ্যায় , দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় এদের কথা তো বলিসনা ?

এরা কারা ? মহালয়ার সাথে এদের কি সম্পর্ক ?

ছাড় তুই যা দাঁত ব্রাশ করে আয় , কি সম্পর্ক  !! 

শোন,  আমি বরং তোকে তিনটে চালু,  সোজাসাপ্টা গান বলছি ,  আমার সেরা তিন 

কি কি ? 

'বাজল ছুটির ঘন্টা '  ইস্কুল ছেড়েছি পনেরো বছর হল কিন্তু আজও ছুটির ঘন্টা কানে বাজে ।

শিলাজিতের এই গানটা কিন্তু খাসা! আর দুটো? 

' ঢাকের তালে ' ....   ধুনুচি নাচের সেরা কম্বো... 

অ্যাঃ,  তুই দেব - এর ফ্যান !? দেবের !? 

সুখেন দাস থাকলেও গানটা একই রকম থাকত, আর তাছাড়া গানটা অভিজিতের, দেবের নয় ।

আচ্ছা মানলাম, আর তিন নম্বর? 

' সপ্তমীতে প্রথম দেখা,  অষ্টমী তে হাসি.... '

ধুর!  এটা তো জিঙ্গল ।

তো,  হাতে কোকোকোলার বটল নিয়ে গাইতে হবে নাকি!!  আরে বাবা,  দশমীতে হঠাৎ কেমন আকুল করে প্রাণ'  এই লাইনটাই তো মারকাটারি ।

আর, কাঁদাসনা ভাই, আজ সবে মহালয়া..... 


- অভিষেক বোস

Monday, September 26, 2016

ছুটি ছুটি



আকাশের দিকে না তাকিয়ে শুধু অনলাইন হলেই  বেশ বোঝা যাচ্ছে পুজো চলে এসেছে ৷ নিউজ ফিডে ২ : ১ রেশিওতে  ' মা আসছে ! মা আসছে !' স্টেটাস আপডেট হচ্ছে , অটোওয়ালারা বেশ বিনীত ভাবে ১০ এর ভাড়া ২৫ করে দিয়েছে , আহা রে! বেচারাদের বোনাস নেই ! ট্যাক্সি গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মাত্র ৪০-৫০ এক্সট্রা চাইছে , জানতে চাইলেই বলছে " গরীব আদমি আছি" আপনারা বাবুরা পুজা টাইমে না দিলে , ক্যায়সে চলেগা বাবু ? Smart Cab অবশ্য Secular  প্রতিদিনই Surcharge বসিয়ে রেখেছে। 

অফিসের পাশে একটা ছোট রেস্তোঁরাতে আমার সহকর্মী একটা ফিস ফ্রাইয়ের আর আমি একটা কফির অর্ডার করলাম , মালিক ভদ্রলোক বলল " আমাদের চাইনিজ ট্রাই করুন স্যার  , আমাদের কুক্ চাইনিজ "   মেনুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম চিল্লি চিকেন  আর চাউমিন গোত্রের চাইনিজ, রিস্ক নিলাম না , মিনিট পাঁচেকের মধ্যে এক খদ্দের রাজী হওয়ায় ভদ্রলোক চাইনিজ কুক্ কে অর্ডার দিলেন " বিজয়! আচ্ছা করকে একঠো হাক্কা চাউমিন করনা, বেশী করে ঝাল দেখে ৷ বিজয়কে আমার উত্তরপূর্ব ভারতীয় মনে হল ....  যাই হোক্ এত গা' করলে চলেনা , পুজো এসে গেছে.....

আজ অফিসে একটা জোরালো পুজোর আলোচনা হল , অ্যান্টাসিড নিয়ে , কোন্ অ্যান্টাসিডের কি কি গুন আর কিই বা বেগুন সব সবিস্তারে আলোচনা হল । দেবীর যাতেই আগমন হোক, পুজোতে অ্যাসিডের আগমন , অ্যান্টাসিডে গমন ৷

মা দূর্গার সাথে অসুরের লড়াই তো সবাই জানে , দূর্গার সাথে দূর্গার লড়াই এখন লেটেষ্ট ট্রেন্ড ৷  আগের বছর এর বিজ্ঞাপন " সত্যি এত বড় !"  নীচে বড় বড় হরফে লেখা বিশ্বের সবথেকে বড় দূর্গা ৷ তো কারও পাল্টা " মায়ের আবার ছোট বড় " 
"পাগলা মা কি তোদের একার ? " 

এর মাঝখানে আবার কারা যেন হোর্ডিং টাঙ্গিয়েছিল "  লালেই বিপদ " ( বামপন্থী পুজো নাকি ? )।  এবার আর সিমেন্ট এর ঢ্যালা বানানোর কোনো রিস্ক নেয়নি তবে কোথাও সহস্রভূজা কোথাও বা হাজার খানেক অসুর।  সবথেকে চোখা বিজ্ঞাপন টা হল 'ত্রিনয়নে 360!' 
ত্রম্বকে গৌরি নারায়নীর তৃতীয় নয়নে ক্যামেরা লেন্স। 360° view দেখাবে হয়তো,  এক্কেবারে প্যানোরো-'মা' ভিউ।  খুব ভালো কথা, এমনিতেই চতুর্থী থেকে যা ভীড় হয় তাতে আকাশের দিকে না তাকালে শুধু মাথা দেখা যায় । 

বেণীমাধব দা যতই তিন চার দিনে পুজো নামাতে চান না কেন ! পুজো চলবে ৭ দিন ..... 

তা চলুক শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে জোড়া সপ্তমী , জোড়া অষ্টমী হোক্ 

পুজোতে তো শুধু মা দূর্গায় ঘরে ফেরে না , কার্ত্তিক ,গনেশ, সরস্বতী ,লক্ষীরাও ফেরে  , 
যারা আমাদের মতো সারাবছর বাড়ি থেকে অনেক দূরে 

- অভিষেক বোস 

Friday, September 9, 2016

মেমবউ জীবনবাবু আর তারা দের কথা

বেচারি মেমবউ! আহামরি সুন্দরী না হলেও মিষ্টি দেখতে।  এখন পরিচালক ওকে মাথায় শিবের জটা আর চোখে ঠুলি পরিয়েছে।  তারপর
'আ'   কে   'হা'
'ক'    কে    'খ'
'ত'    কে    'ট'
আর 'ট' কে  'ঠ'    বলতে শিখিয়েছে। 
তাতে করে হল কি বাঙালি ভীষণ রেগে গেছে। তো এতদিন ধরে যখন আলু, পটল, ঝিঙে, ভুতু, পুতু  3rd Generation অত্যাচার সহ্য করছিলে তখনই 4G মেমবউ গোকুলে বাড়ছিল । যাই হোক মেমবউ এর এই দুর্দশা দেখে আমার আরও একবার জীবন বাবুর কথা মনে পড়ে গেল।
জীবনবাবু ভীষন নিয়মনিষ্ঠ । নিয়ম করে ঝগড়া করেন,  নিয়ম করে কান্নাকাটি,  নিয়ম করে প্রেম,  ভালোবাসা । সময়ের কাজ সময়ে করাতে জীবনবাবুর জুড়ি নাই ।  ২৪ ঘন্টা ৩৬৫ দিন জীবন বাবুর জীবনে কোনও না কোনও ঘটনা ঘটেই চলেছে । নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন গোটাটাই নাকি মেকি! নইলে শ্বাশুরি আর বৌমা এক বয়সী হয় নাকি । আর বড্ড বেশী নাটুকেপনা,  নইলে ভারী ভারী গয়না পড়ে কেউ ছিঁচকাদুনের মতো কাঁদে নাকি? এত কান্নায় নাকি একটা আস্ত শহর ভেসে যেতে পারে । সম্প্রতি জীবনবাবুর মেয়ে টেনিস খেলতে শুরু করেছেন । তবে পাড়া প্রতিবেশীরা অবশ্য মুখ চেপে হাসছেন । বেনারসী পড়ে লন্ টেনিস!!  তা যে যা বলে বলুক,  ভুললে চলবে না জীবন মানে Zee Bangla ...... 

— অভিষেক বোস

Monday, September 5, 2016

Teachers' Day

খেয়ে এসেছিস?
না ।
খেয়ে নে, ডাল, ভাত, আলু ভাজা অমলেট ।
কোনো কথা না বাড়িয়ে বসে পড়লাম, বাড়ি থেকে তো খেয়েই এসেছি তবে এখানে খেতে বেশ লাগে ।
খাওয়া হলে ছাদে চলে আয় ।
উঠে এলাম ছাদে, আমার বয়সী আরো কিছু ছেলে মেয়ে গোল করে ঘিরে বসে আছে, আমিও সভা আলো করে বসে পড়লাম ।
পড়া হয়েছে?
হ্যাঁ ।
দে দেখি !
একবার দেখে নিব?
৫ মিনিট
(পাঁচ মিনিটের মধ্যে Damage control করতে শিখে ফেললাম)
আমার প্রথম টিচার গোপাল মামা, স্যার বলার অভ্যাস তখনও হয়নি ।
আরও কিছু বছর পরে :
ইস্কুল থেকে ফিরে এসে দেখি ঘরভর্তি লোক বসে VCP তে সিনেমা দেখছে, রুদালি । দু চার মিনিট দেখে এমন বিরক্ত হলাম, বলেই ফেললাম, এই সিনেমা কেউ দেখে নাকি?
দিনে দিনে বাঁদর হচ্ছো !
শ্যামা তুই সময় পেলে একটু দ্যাখ তো ওকে । আমার মায়ের অনুনয়, যাকে বলা হল তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কাল থেকে চলে আসবি । ব্যাস ভর্তি হয়ে গেলাম ।
৩ বছর পরে :
শ্যামা পিসী কে সবাই এখন জয়া মিস্ বলে ডাকে, সে যে যা ডাকে ডাকুক, শ্যামা পিসী এখন তিনটে ব্যাচ পড়ায়, আর আমি প্রতি ব্যাচের কমন্ মুখ।
রচনা লিখতে দিয়েছে ইস্কুলে ।
তো লিখ ।
পড়িনি তো !
রচনা মুখস্থ করে না, নিজে লিখতে হয়, আয় শিখিয়ে দিচ্ছি ।
ভাগ্যিস ! নাহলে আমাকেও “আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই, আর গ্রামের লোকের সেবা করতে চাই " লিখতে হত, যেটা আমি কোনোদিন হতে চাইনি । আমি ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম আর সেটাই পরীক্ষার খাতায় লিখতে পেরেছিলাম ।
আরো কয়েক বছর পর :
ক্যাম্পে দুটো ছেলের মা'য়েদের কথা কানে আসছিল “ এখন ফুটবল না খেলে , ভালো করে পড়াশোনা করুক, তারপর যত খুশি খেলুক"
এই কথাটা আমি আরও অনেক মা বাবা কে বলতে শুনেছি ।
Cool down করার পর সেদিন সন্ধ্যাবেলায় স্যার বলেছিল “ তোমরা যারা ফুটবল খেলতে চাও, তাদেরকে বলছি, এটাই সময়, দু ঘন্টা সময় পড়াশোনার কোন ক্ষতি করে না, তবে পড়াশোনা যেদিন শেষ হবে সেদিন আর শরীর দেবে না, আর সবথেকে বড় কথা সেদিন আর তুমি খেলবে না, জীবন তোমাকে নিয়ে খেলবে ।" পুস্পেন স্যারের ছেলেও আমাদের সাথে ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করত ।
তিন বছর ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করছি এবার চান্স পেয়েছি এবার ছাড়ব না । মাধ্যমিক বছর বছর আসবে কিন্তু SAI ক্যাম্পের ডাক বারবার আসবে না । বাড়ি থেকেও রাজি । পুস্পেন স্যারকে গিয়ে বললাম মাধ্যমিক দিব না ।
উত্তর এল : আবার চান্স পাবি । পড়াশোনা Discontinue করিস না ।
সেদিন বুঝিনি, আজকে বুঝেছি ।
কিছু বছর আগে :
পুস্পেন স্যার আর নেই । ওনার আজীবন কীর্তির সম্মানে অসংখ্য মানুষ ওনার নশ্বর দেহের পিছু পিছু হেটে আসছেন । আমরা কয়েকজন ক্যাম্পের পুরনো বন্ধু একসাথে হাঁটছিলাম ।
এক উৎসুক পথচারী জিজ্ঞেস করলেন : “ ভাই উনি কোন্ পার্টির নেতা ছিলেন? "
উনি নেতা নন
তবে?
উনি ফুটবল কোচ ছিলেন ।
ভদ্রলোক অস্ফুটে বলে উঠলেন “ফুটবল টিচার ! এত শয়ে শয়ে লোক স্বেচ্ছায় হাটছে ! !"

- অভিষেক বোস

Wednesday, August 17, 2016

জয় এর বৌ এর ফর্দ

 সকাল থেকে বাড়িতে হৈ হৈ কান্ড । তিরিশ কিলো ইলিশ আনা হয়েছে,  গাদা পেটি মিলিয়ে নিদেনপক্ষে ২৫০ খানা পিস্ আছে । গোটা ছয়েক পাঠার ঝোল হবে, আঠারো  কেজি চিতল মাছ, সাতাশ কিলো আলুর দম, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, শেষপাতে ভাইদের পছন্দের মিষ্টান্ন, এলাহী কান্ড ৷  বৌয়ের ফরমায়েশি ফর্দ জোগাড় করতে গিয়ে জয়দ্রথের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে ।(এর মাঝেই জয়দ্রদথের ছোট ছেলে সুরথ গন্ডা খানেক সন্দেশ সাবরে দিয়েছে।)  নেহাত্  রাজবাড়ির ব্যপার,  শুধু ঐ পদ্মার ইলিশটা যা এই সিন্ধু প্রদেশে পাওয়া যায় না । তবে আপ্যায়নে কোনও খামতি থাকবে না । বৌয়ের একশ ভাই,  এক সৎ ভাই আর পাঁচ কাকাতো ভাই,  সব মিলিয়ে একশ ছয় জন ভাই নিমন্ত্রিত । বড় শালা দুর্যোধন , সৎ শালা যুযুৎসু  আর কাকাতো বড় শালা যুধিষ্ঠির প্রায় সমবয়সী, কাকে আগে বসানো হবে তা নিয়ে একটা গন্ডগোল বাঁধতে পারে । মেজ শালা ভীমকে নিয়ে আর এক চাপ, ব্যাটা আগের বার তিন কিলো ময়দার লুচি শুধু নারকোল কুচি দেওয়া ছোলার ডাল দিয়ে জাস্ট উড়িয়ে দিয়েছিল।  অর্জুনের দৃষ্টি! সে এক জিনিষ , ইলিশের পেটি ছাড়া নজর কোনোদিকে নড়বে না।  আর নকুল সহদেবের মধ্যে গুলিয়ে আগের বার দু'বার নকুল কে পান্তোয়া দিয়ে দিয়েছিল, এদিকে বড় শালা যুধিষ্ঠির সে কথা জয়দ্রথকে জানাতেই কৌরবের দল গন্ডগোল শুরু করে দিল । বিকর্ন  ভালো মানুষ থামানোর চেষ্টা করছিল এদিকে দুঃশাসন সুযোগ বুঝে জয়দ্রথের মানি ব্যাগ নিয়ে হাওয়া। সন্ধ্যার আগেই এদের বিদেয় করতে হবে নইলে মামা শ্বশুর ঠিক শোবার ঘরে এসি চালিয়ে জুয়ার ঠেক বসিয়ে দিবে। সেসব পরে দেখা যাবে । এখন আপাতত একটা গোটা চন্দন গাছ, এক ঝুড়ি দূর্বা ঘাস আর কেজি দশেক ধান আনা হলেই দুঃশলার ভাইফোঁটার সব আয়োজন হয়ে যাবে ।

- অভিষেক বোস 

Sunday, August 14, 2016

স্বাধীনতার রঙ সবুজ আর সাদা কালো

না ভাই! কোনও স্বাধীনতা স্বাধীনতা অনুভূতি আসছে না।  না, অফিস নিয়ম মাফিক ছুটি রয়েছে, বাড়ির পাশের স্কুলে লতা মঙ্গেশকরের গান, ফেসবুকে স্বাধীনতা থিম, Happy Independence আর  same to you , আমরা কি সত্যিই স্বাধীন জাতীয় আলোচনা, এমনকি দুদিন আগে থাকতে টিভিতে 'তিরঙ্গা' টেলিভাইস হওয়ার নোটিশ অব্দি দিয়ে দিয়েছে।  ভি আই পি রোডে গাড়ির আওয়াজ কম, আমার নিজের কিচেন থেকে আর আশপাশের ফ্ল্যাট থেকে  ইলিশ আর মাংসের  গন্ধ মিলেমিশে একাকার। সব জায়গার জিনিষ জায়গায় তবু স্বাধীনতার দিন বড্ড স্বাদ হীন।  

আসলে গত  ২০ বছর ধরে ১৫ই অগাস্ট মানেই সবুজ মাঠ, সাদা কালো বল, সারাদিন ফুটবল টুর্নামেন্ট, অঝোরে বৃষ্টি আর সবুজ মাঠ থেকে  কাদা মাখা জার্সি গায়ে বাড়ি ফেরা। প্রথম প্রথম মাঠের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আর ভাবতাম কবে যে মাঠের ভেতর থেকে এই বাইরের লোকদের দিকে তাকাব!  

গো-ও-ও-ল  আওয়াজের সাথে সাথে আদ্ধেক দর্শক মাঠে ঢুকে যেত, লাইন্সম্যান আর রেফারি আবার সবাইকে বাইরে বের করে খেলা শুরু করত তবে টাই ব্রেকারের সময় প্যারামিলিটারিরও ক্ষমতা থাকত না যে জনগনকে আটকে রাখবে।   

আমার অবশ্য গোল হওয়ার থেকে সেভ হওয়া দেখতে বেশি ভালো লাগতো। ভবিতব্য!  এরপর যুবভারতী ফুটবল ক্যাম্পে ভর্তি হয়ে বছর দুয়েকের মধ্যেই এমন লায়েক যে মাঠে নামতে আর তর সইছিল না।  কিন্তু ক্যাম্পের অলিখিত নিয়ম যে এইসব পাড়াতুতো টুর্নামেন্ট আর খেপ খেলা যাবে না, তবে আমাদের আক্ষেপ ছিল না, লুকিয়ে চুরিয়ে সংক্ষেপে ঠিক খেলে নিতাম।  ক্যাম্পে আমার প্রথম বন্ধু কৌশিক আর সিদ্ধার্থ (লালু ) (আমার চোখে দেখা তিনজন ভালো স্ট্রাইকারের মধ্যে লালু একজন,  যেমন স্পিড, তেমনি ড্রিবল আর তেমন স্কিল )। কৌশিক বছর খানেকের মধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে দিল, থেকে গেলাম আমি আর লালু। 

এরকমই একটা ১৫ই অগাস্ট ওলাঙ্গা (ভালো নাম মনে নেই) এসে বলল বুড়াবুড়ি তলার মাঠে টুর্নামেন্ট আছে যাবে? আমি আর লালু একপায়ে রাজী।  নায়ার, তমাল, দুটো ট্রাইবাল স্টুডেন্ট আরও অনেকে হাত তুলল। স্কুলের ফার্স্ট বেঞ্চের মতই ক্যাম্পের সুবোধ বালকরা অবশ্য পিছিয়ে গেল।  

অতএব উক্ত ১৫ই অগাস্ট সকাল ৭.৩০ টার মধ্যে কিট্স আর বুট নিয়ে রেডি। সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু আর আকাশ কালো দেখে ভয় পেয়ে গেলাম, মোবাইল ফোন এর যুগ নয়, তাই সাইকেল নিয়ে সোজা লালুর বাড়ি, ওকে তুলে নিয়ে বাকি সবাইকে তুলতে তুলতে পৌঁছে গেলাম বুড়াবুড়ি তলার মাঠে। ততক্ষনে ভিজে চুপচুপে অবস্থা আর মাঠে গিয়ে দেখি ও হরি!  মাঠ কোথায় পাশের বিলের জলের সাথে মিশে পুরো জলাশয়, এক হাটু জল। 

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে বল ভাসলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়, অতএব খেলা বন্ধ।  অন্য কোনো মাঠের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ঠিক কোনো না কোনো টিমে জায়গা হয়েই যাবে কিন্তু আমরা নাছোড়বান্দা এসেছি যখন খেলেই যাব।  এরপর এক হাটু জলে নেমে পড়লাম।  আমি আর লালু জায়গা বদলে নিলাম , লালু গোলকিপার আর আমি ফরোয়ার্ড। ৯০ মিনিট সাতার কাটার পর আর কোনো খেলা হল না।  টুর্নামেন্ট শেষ, আবার আমরা অন্য মাঠে ভালোমানুষের মতো দাঁড়িয়ে থাকতেই একটা ক্লাবের দাদা বলল কি রে খেলবি? 
খেলব না আবার!  আবার নেমে পড়লাম আর সন্ধ্যাবেলা কাদা মেখে হেরে বাড়ি ফিরলাম। 

এরপরে আমি আর লালু অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছি, মালদার সব ভালো টুর্নামেন্ট, মালদার বাইরেও ডিস্ট্রিক্ট টিমের হয়ে কখনও কলকাতা কখনও কোচবিহার ।  কখনও এক টিমে আর কখনও অপোনেন্ট টিমে। আমার স্বাধীনতার রং সবসময় সবুজ আর সাদা কালো। বাড়ির বাইরে প্রথম যেদিন রাত কাটালাম সেটা পিকনিক এর জন্য নয় নাইট টুর্নামেন্ট খেলব বলে।  প্রথম বাড়ির লোক ছাড়া যেদিন কলকাতা যাওয়ার ট্রেনে উঠলাম  সেদিনও আমার সাথে ছিল আমার টিম আর লালু , এরপর একদিন কি জানি কেন মাঠছাড়া হয়ে গেলাম! সবুজ মাঠ কখন ধূসর হয়ে গেছে মনে নেই, কিন্তু ১৫ই অগাস্ট খেলার মাঠ  আর সাদা কালো বল এখনও হাতছানি দেয়।  

— অভিষেক বোস 


Sunday, August 7, 2016

হাওয়া বদল ২

যাক্ ছুটিটা শেষমেশ হয়েই গেল ।  পুজোর ছুটির থেকে কম কিছু আনন্দ না, তবে আর দু'চারটে কথা না বললে গল্পটা শেষ হবে না। 

আগেই বলেছি প্রথম দিনেই জানিয়ে দিয়েছিলাম "থাকব না কো বদ্ধ কেবিনে "। সার্জারির পর চারজনের সাথে ব্যবস্থা হল।  একটা বুড়ো ছিল যার স্ত্রী এই হসপিটালেরই ডাক্তার। উনি ওনার স্ত্রীর হাতে ছাড়া খেত না।  মজাদার লোক, তবে খুব কম কথা বলেন আর চোখাচোখি হলে একটা মিস্টি হাসি হেসে থাকান। মনে হয় খুব খারাপ কিছু হয়েছে।  তবে না হলেই ভালো। 

আর একটা বাচ্চা ছেলে, এই বছর দশেক বয়স। ইটালি তে ওর মামা থাকে আজ রবিবারে বিয়ে।  বেচারা গত চার মাস ধরে রেডি হচ্ছিল, নিজের হাতে শেরওয়ানি বেছে নিয়েছিল আরও কত কি প্ল্যান! বুধবার রাতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে আর ডাক্তার আসলেই জিজ্ঞেস করছে কাল ছাড়া পাবে কি না? 

আর একটা কলেজ স্টুডেন্ট ওরও ডেঙ্গু। খালি ফোন নিয়ে বসে থাকে আর মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যায়।   পরের সপ্তাহে বন্ধুদের সাথে গোয়ার প্ল্যান ছিল।  পুরনো বন্ধু, সবাই অন্য অন্য শহরে থাকে।  অনেকদিন পর দেখা হওয়ার কথা ছিল!

আর এক বুড়ো সারাদিন ধরে বকেই চলেছে।  ছেলে কখনও অক্সফোর্ডের স্টুডেন্ট তো কখনও অ্যাপোলোর ডাক্তার , একটু আগে অবশ্য ক্যাটারিং এর ব্যবসা বললেন।  ওনার শখ হাতে ব্লেড নিয়ে ঘুরবেন আর মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ কাটবেন।  কেন জানতে চাইলে বলছেন '' কেন মেয়েরাই শুধু ছেলেদের পকেট কাটতে পারে না কি !? ব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য রক্ষা আর কি!  বুড়োর পটাশিয়াম ইমব্যালেন্স হয়েছে।

আর একটা নাইটেঙ্গেল ছিল।  বিকেলে আসত। হাসি মুখে সবকটা কে সামলাত।  কাউকে বকে ঝকে আর কাউকে গল্প বলে।

আর একজনের সাথে দেখা হল।  ছেলেটা ফুটবল খেলতে ভালোবাসতো।  একসময় SAI এ চান্স পেয়ে পড়াশুনা ছেড়ে দেবে ভেবেছিল।  আটবছর আগে লাস্ট টুর্নামেন্ট খেলেছিল এবার 15th অগাস্ট আবার ম্যাচ খেলবে ঠিক করে রেখেছিল। একটু বেশি বিগড়ে যাওয়ায় আর মাইক্রো সার্জারি সম্ভব হয়নি,  মাঝপথে ওপেন  করতে হয়েছে।দুদিন ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারি ভেবে খুব লাফালাফি করেছে, ছাড়া পাওয়ার একটু আগেই জানতে পারে সব মিলিয়ে ৯ খানা সার্জিকল স্টেপল লাগিয়ে দিয়েছে । সার্জারির পর এখন বেশ কিছুদিন একদম নড়াচড়া বারণ তাই হসপিটাল থেকে ছাড়া পেলেও এবারও আর মাঠে নামা হল না।

বাকি দুনিয়া, আগের মতোই চলছে .......

- অভিষেক বোস

Friday, August 5, 2016

হাওয়া বদল

চার পাঁচ বছর আগে আমার এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল।  পরদিন ওর বাড়ির অনুষ্ঠানে যাব কি না, আর একবার নিশ্চিত হতেই ফোন করেছে। বাইরের গেটটা খুলে বেরোতে বেরোতে কানে ফোন চাপা দিয়ে বললাম "99% আসছি"।  1% নয় কেন?  উত্তর দেওয়ার আগেই এক সারমেয় দিল ঘ্যাঁক করে পা'য়ে বসিয়ে।" আর আসতে পারব না " বলেই বসে পড়লাম, বেশ খানিকটা রক্ত বেরোচ্ছে কিন্তু তখনও মাথায় চলছে 1% নয় কেন?  মনে মনে বললাম " এই জন্য "। 

গত তরশু দিন আমার বোন জামাইকে দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে আনার সময় সবাইকে এইসব বেসরকারি হাসপাতালে ছুলে কেমন বিয়াল্লিশ ঘা হয় সবিস্তারে বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম।  (শুধু কলকাতা কেন পূর্ব ভারতের যে কোনো বড় হসপিটালে আমার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। )

সেই আমিই কপাল ফেরে পরদিন বিকেলে উত্তর কলকাতার এক নামী হসপিটালে ভর্তি (সৌজন্যে আমার অফিস মেডিক্লেম, না থাকলে এক্ষুনি করে রাখুন, দু দিনে ৮০ হাজার খসিয়ে দিয়েছে আরও খসাবে )।   প্রথমে এমার্জেন্সি, সেখানে এই ডাক্তার একে ওকে ফোন করছে আর কনসাল্ট করছে আর আমি বেশ রুগী রুগী সেজে শুয়ে আছি। প্রসঙ্গত বেডে শোবার পর থেকেই বেশ সুস্থ বোধ করতে শুরু করলাম।  আমার কলিগ যে সারাদিন ধরে আমাকে নিয়ে নাজেহাল বোধ করি ঔ সুস্থ বোধ করতে শুরু করে।  আমার বন্ধু ভাগ্য ইর্ষনীয়।  ততক্ষণে আমার  বন্ধুরাও এসে হাজির।  এরপরে ওয়ার্ডে শিফ্ট করার পর পরীক্ষা শুরু।  জীবনে অনেক পরীক্ষা দিয়েছি, কোনো কোনো পরীক্ষায় তো পাশ মার্কস নিশ্চিত বুঝলেই এক ঘন্টায় পেপার জোর করে জমা দিয়ে এসেছি।  কিন্তু এই পরীক্ষায় কোনো ছাড় নেই।  কর্মসূত্রে আমি একটা বহুজাতিক মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে আছি। Ultrasound, Echo Cardiography,  Pulse Oximeter,  ECG,  Aneasthesia Workstation যে সব বস্তুর সাথে আমি রোজ খেলি আজ তারাই আমার সাথে খেলতে শুরু করল। 

কর্পোরেট হাসপাতালের সব ভালো কিন্তু ব্যাটারা পাশবালিশ দেয় না আর কথা বলতে দেয় না। (আমি কিন্তু মিষ্টি মিষ্টি মুখ করে একটা এক্সট্রা নধর পিলো জোগাড় করে ফেললাম )

রাতে ডাক্তার এসে বলল অ্যাপেন্ডিক্স আছে কাল বিকেলে সার্জারি।  সকাল থেকে আমি দাবি জানিয়ে আসছি এরকম ব্যাথা আমার এর আগেও একবার একবছর আগেও হয়েছে, সকালে সে কথা জানিয়ে অন্য একটা ডক্টরের কাছে তিন তিন খানা পরিচিত ইঞ্জেকশন আদায় করে নিয়েছিলাম তাতে ব্যাথা বিন্দুমাত্র কমেনি দেখে বিকেলে নিজেকে হসপিটালে সপে দিলাম।

বুঝলাম অভিষেক তুমি ইক্যুইপমেন্ট বোঝ, অ্যাপ্লিকেশন বোঝ কিন্তু নিজের শরীর বুঝতে তোমার ঢের বাকি। ডাক্তারি টা তোমার কম্মো নয়।
(আপনারাও গুগল ডাক্তারি ছেড়ে দিন আর শরীর খারাপ হলে যতই ডাকাত ডাকাত মনে হোক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন )

তাও বললাম Are you sure Doctor?

Ofcourse I'm sure. Still we will wait for the USG Confirmation.  Are you scared my Boy? 

Not at all.  I've attended hundreds of OT but in a different role.

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি ভাবে?

বললাম Live OT তে Training দিতে অথবা Technical Evaluation এর জন্য প্রায়ই থিয়েটারে ঢুকতে হয়।

"See you tomorrow" বলে হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলেন। 

কলকাতার প্রাচীন প্রবাদ,  এখানে থাকলে অন্তত একবার পক্স, ম্যালেরিয়া, জন্ডিস,  হসপিটালে প্রবেশ আর সার্জেন্ট এর কাছে গাড়ি নিয়ে  ধরা পড়তেই হবে (ঘাবরাবার কিছু নেই Any One of them, All of them নয়)

রাতে সিস্টার এসে বলল এখনই ঘুমোলে চলবে না আরও রক্ত দান করতে হবে। মনে মনে বললাম আপনি জানেন না ম্যাম আমার পূর্ব পুরুষ বাঁদর নয়, বাদুর)

বললাম ঠিকই কিন্তু খাসা ঘুমোলাম, একেবারে সকাল সাতটায় ঘুম ভাঙল। 

ফোন টা জোর করে রেখে দিয়েছিলাম।  আমার বন্ধুরা মোরাল সাপোর্ট জুগিয়ে চলেছিল।'  যেন প্রয়োজনে একসাথে ঢুকব, চিন্তা করিস না।  '

চিন্তা একটাই ছিল ওপেন সার্জারি যেন না হয় নইলে কাঁথা স্টিচ শিল্প কর্ম নিয়ে ঘুরতে হবে।  মাইক্রো সার্জারি টাই ভালো যাকে বলে গিয়ে সূক্ষ্ণ শিল্প কর্ম। 

দুপুর থেকেই আমার এত বছরের সঞ্চয়রা আসতে শুরু করল মানে আমার বন্ধু বান্ধব।  বোন এসে দাড়িয়ে রয়েছে আর অভয় দিয়ে যাচ্ছে। মা বাবা মালদা থেকে রওনা হয়ে গেছিল, অনেক পরে জানতে পারলাম। 

অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার আগে মা বাবা একবার দেখতে চাইছিল, বোঝানোর চেষ্টা করলাম এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। হাজার হোক মা বাবা।  এক স্টাফ এসে তাড়া দিল নিয়ে চলুন, এক সহৃদয় সিস্টার নরম সুরে বলল ওর মা বাবা আসছে একটু দাড়িয়ে যাও।  উল্টো দিক থেকে উত্তর এল একটু আগে আসতে পারল না?  আমি একটু গম্ভীর সুরে বললাম "ওনারা মালদা থেকে আসছেন" ।  সিস্টার এবার জিজ্ঞেস করল আর কিছু বলবেন?  ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন। সার্জেন ভারী মিষ্টি লোক, বলল "তুমি একদম উত্তেজিত হয়ো না, যেরকম হাসি মুখে ছিলে ঐভাবেই থিয়েটারে ঢোকো। 

মা বাবার সাথেও দেখা হয়ে গেল। চারটের সময় লগ্ন ছিল পৌনে পাচটা বেজে গেল।  শেষে লগ্ন ভ্রস্টা না হয়ে যায়, চলুন বলে তাড়া লাগালাম।

আগেই বলেছিলাম অপারেশন থিয়েটারে শতবার এসেছি, কিন্তু স্ট্রেচারে চড়ে নয়।  মাথার উপর যখন LED OT লাইট জ্বলে উঠল, চেনা পরিবেশ অচেনা হয়ে গেল।  ডক্টর বলল এবার তোমাকে ECG ইলেকট্রোড লাগাব।  আমি উত্তর দিলাম Doctor I'm well aware of this set up..  Go ahead..  মাস্ক লাগিয়ে আস্তে আস্তে অক্সিজেন দিতে শুরু করল, ততক্ষণে আমার হাত পা বাঁধা পড়েছে।  এবারে সেভোফ্লোরেন এজেন্ট চার্জ করতেই নাকে গন্ধ এল, বুঝলাম এবার অজ্ঞান হওয়ার পালা।  আঙুল দিয়ে 10-9-8-7 ইশারা করছিলাম। 

মাথাটা ঝিম ঝিম করছিল সামনে মা বাবা বন্ধুদের আবছায়া মূর্তি দেখে বুঝলাম খেলা শেষ।  আমার কলিগদের সামনে আসতে দেখে জানালাম কিভাবে আমাদের কম্পিটিটর কোম্পানির ইক্যুইপমেন্টের কাছে আমি জ্ঞান হারালাম।  তখনও ঘোর কাটেনি তবে বেশ কানে আসল করে কম্ম গায়ে গতরে বেশ বড় হয়েছিল বেয়াদপটা একদিকে ফেটেই গেছিল আর দেরী করলে বড় বিপদ হত।  যাক সে সব কিছু হয়নি।  রাতে জেনারেল বেড এ দেওয়ার পর একটা পেশেন্টের মা ছিল, উনি জিজ্ঞেস করলেন তোমার সার্জারি হয়েছে না।  মাথা নাড়ালাম। উনি বাচ্চাটাকে বললেন দেখ দাদা টার অপারেশন হয়েছে বোঝায় যাচ্ছে না !! মানসিক প্রস্তুতি আর কি!   একটা চওড়া হাসি দিলাম।

ভর্তির দিন থেকে দু দিন আমার মুখ দিয়ে কোনও খাওয়ার ঢোকেনি জলও না।  শিরা উপশিরা গুলো কিন্তু বোতলের পর বোতল টেনে গেছে দু দিন দু রাত।  কিন্তু তাতে কি আর তেষ্টা মিটে? জিজ্ঞেস করলাম কাল টেংরি বেংরি পাওয়া যাবে কি না?  যা চোখ দেখাল মাথা নীচু করে একটু জল দাও না, একটু।   আবার উত্তর এল "না"।

কাল রাতটা বেশ বেগ দিয়েছে তবে আমার বন্ধুরা আর দাদা ভাই বোনরা অসাধারণ, একদম পাশে থেকেছে।  অন্তত বার পঞ্চাশেক বার হুমকি দিয়েছে WhatsApp এ ঘুমিয়ে পড়ার।  একবার তো বোন Facebook এ লিখেই দিল "ওরে তোর আজকেই অপারেশন হয়েছে একটু থাম।"

সব খারাপের একটা ভালো দিক থাকে, অনেককেই বলতে শুনি "বন্ধু একজন দু'জনই হয়, বাকি নাম কা ওয়াস্তে ।  ভুল। অন্তত আমি এত দুর্ভাগা নয়।

আরও একদিন এখানে।  তারপর কাল ছুটি। 

— অভিষেক বোস

Friday, July 29, 2016

বড় মানুষ

"My 50th Blog submission dedicated to one of  my Favorite Author "


                      "My 50th Blog submission dedicated to one of my Favorite Author "


বছর দুয়েক আগের জানুয়ারির দ্বিতীয় দিনে অফিসের কাজ পড়ল , যেতে হবে মেঘালয়ে ৷ ঘণ্টা খানেকের কাজ ৷ ছবির মত সুন্দর মেঘ এর দেশে যেতে আমার আপত্তি নেই , কিন্তু বছরের প্রথমেই ! গজগজ করতে করতে রওনা হলাম ৷

ফেরার সময় আমার পাশে যে  সহযাত্রীটি এসে বসলেন তিনি  একজন নামজাদা ব্যাবসায়ী ,  টেক্ অফ করার আগে তিনি হাজার খানেক ফোন কল করলেন ,  আর ফোনের উল্টো প্রান্তের লোকেদের  প্রচুর বকা ঝকা করলেন ৷  এরপরে একটা ম্যাগাজিন তুললেন ,ছবি গুলোর উপর চোখ বোলালেন তারপর রেখে দিলেন ৷ এরপরে আমি কি করি জিজ্ঞেস করায় নির্লিপ্ত ভাবে উত্তর দিলাম 'চাকরী' , ভদ্রলোক একটু নিরাশ হলেন, কথাবার্তা না এগোনর ইঙ্গিত, তবু দমে না গিয়ে আবার বললেন পেছনের লোকটিকে চেনো ? না তাকিয়েই উত্তর দিলাম 'না' , মনে মনে ভাবলাম হবে কোনও কেউকেটা , আমার কি?

হাজার হোক্ বাঙালি তো পেছন ঘুরে তাকাতেই মুখ দিয়ে আর শব্দ বেরোল না', গলা নিচু করে পাশের লোকটিকে  বললাম " শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়" ! আরও একবার মাথা ঘুরিয়ে নিশ্চিত হলাম ৷   ভদ্রলোক স্মিত হেসে বললেন চেনো তাহলে?

আর কোনও উত্তর করলাম না, আমার ছোটবেলা জুড়ে রয়েছে পাতালঘর, ছায়াময় , গয়নার বাক্স , গোসাই বাগানের ভুত , আশ্চর্য্য প্রদীপ ..   গল্প তো গল্প , গল্পের উপর তৈরী সিনেমা গুলোও ছাড়ি না৷ আর শুধু ছোটবেলা কেন বড় হয়েও তো ঘুনপোকা, কাগজের বৌ গোগ্রাসে গিলেছি ......

আর কালবিলম্ব না করে বলেই বসলাম আপনাকে কে যে কতক্ষনে একটা প্রনাম করব !
উনি হেসে বললেন কি নাম তোমার?

আরও কিছু গল্প হল , নতুন লেখা কবে বেরোবে জানতে চাওয়ায় বললেন 'পূজোর সময়' ৷

এত বড় মানুষ কিন্ত নির্দ্বিধায় কথা বলে চলেছেন! কলকাতা এয়ারপোর্ট পৌঁছে বলেই ফেললাম কথাটা " একটা অন্যায় আবদার করব? আপনার সাথে একটা ফোটো তুলব" ? এককথায় রাজী হয়ে গেলেন ৷ ফোনের ব্যাটারী 8% , আজ যদি ফোটো তুলতে গিয়ে সুইচ অফ্ হয়ে যায় তবে আমার একদিন কি  স্মার্ট ফোনের একদিন ৷ যাহ্ সুইচ অফ হয়েই গেল ! হ্যান্ড ব্যাগ থেকে ব্যাটারি ব্যাকআপ্ বের করে কেবল লাগিয়ে আবার বললাম , আর একবার প্লিজ!

উনি অনুরোধ ফেললেন না ,  যাওয়ার সময় বলে গেলেন " ভালো থেকো অভিষেক "

বলেছিলাম না , বড় মানুষ ।

- অভিষেক বোস