Thursday, July 5, 2018

নেইমার, মন মানে না আর Uber Pool


নব্বই এর দশকের বুম্বা দা অভিনীত 'মন মানে না সিনেমা' টা না দেখে থাকলে পোস্ট টা বোঝা যাবে না।

১৯৯২ সালে একটা বাংলা সিনেমা এসেছিল নাম 'মন মানে না'। পরে এর একটা হিন্দি রিমেক ও হয়েছে ' দুলহন হম লে যায়েঙ্গে' । সিনেমার রিভিউ অথবা গল্প নিয়ে কিছু বলতে বসিনি। শুধু সিনেমার নায়িকা শিল্পা দাস (চরিত্রের নাম শিখা) কে জানলেই চলবে। তো শিখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যাকাশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী। সিনেমা তে শিখা অনাথ। তিন মামা রবি ঘোষ, অনুপ কুমার আর চিন্ময়ের কাছে মানুষ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিখা যখন "জানেন তো আমার না, মামারা ছাড়া আর কেউ নেই" বলে একটা ঘেউ মানে ডায়লগ ছাড়ে , বিশ্বাস করুন শতাব্দীর সেরা ন্যাকামি ছত্রিশ বার স্যালুট ঠুকে।

এবার গল্পে ফিরা যাক। উবার পুলে অফিস থেকে ফিরছি। পেছনে দুজন মহিলা সহযাত্রী। নিজেদের মধ্যে গল্পে মশগুল। এভাবে কারও গল্পে আড়িপাতা ঠিক নয়, কিন্তু প্রথম শব্দগুচ্ছ মুখ থেকে পড়ার সাথে সাথে চমকে উঠলাম " এ তো মন মানে না র শিখা! ' হুবহু এক গলা। এরপর বান্ধবীর উত্তর কানে এল। কিন্ত ইনি শিখার আরো তিন কাঠি উপরে, একেবারে বহ্নিশিখা।  এরপর যা যা কানে এল, এখানে তুলে দিলাম  ( পড়ার সময় শিখার মতো সুর করে পড়তে হবে কিন্তু)

শিখা :  কি রেএএএ! তোর ক্যামেরায় এত খচ খচ আওয়াজ হয় কেন?
(বহ্নিশিখা নিজস্বী মোডে একের পর এক টপাটপ ফোটো তুলে চলেছে )

বহ্নিশিখা : আরে আমি কতোওও চেষ্টা করলাম, কতো সেটিং চেঞ্জ করলামম্। কিছুতেইই অফ করা যাচ্ছে না

( একবার মনে হল জানিয়ে দিই। অনধিকার চর্চা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম, ভাবলাম Your  setting is your setting... None of my setting, আমি বরং গল্প মন দিই)

বহ্নিশিখা: জানিস তো কাল ব্রাজিল জিতে গেছে।
শিখা      : তাই নাকি, ব্রাজিল জিতে গেছে। আমি আগেই জানতাম ওরাই জিতবে, ফুটবলে ওরাই জিতে।

বহ্নিশিখা : হ্যাঁ। আর জানিস একটা নেইমার আছে, ও শুধু গড়াতেই থাকে, গড়াতেইই থাকে! (সাথে খিলখিল হাসি)

শিখা : কেন? কেন ও ওরকম করে গড়াতে থাকে?
বহ্নিশিখা : সেসব জানি না বুঝলি। কিন্তু ও না শুধু গড়াতেই থাকে, একটু টোকা খেলেই গড়াতেই থাকে আর গড়াতেই থাকে।

ততক্ষণে আমিও গড়িয়ে থ্থুড়ি গড়িয়া চলে এসেছি।
নেইমার তখনও গড়িয়েই চলেছে.......

- অভিষেক