Sunday, August 7, 2016

হাওয়া বদল ২

যাক্ ছুটিটা শেষমেশ হয়েই গেল ।  পুজোর ছুটির থেকে কম কিছু আনন্দ না, তবে আর দু'চারটে কথা না বললে গল্পটা শেষ হবে না। 

আগেই বলেছি প্রথম দিনেই জানিয়ে দিয়েছিলাম "থাকব না কো বদ্ধ কেবিনে "। সার্জারির পর চারজনের সাথে ব্যবস্থা হল।  একটা বুড়ো ছিল যার স্ত্রী এই হসপিটালেরই ডাক্তার। উনি ওনার স্ত্রীর হাতে ছাড়া খেত না।  মজাদার লোক, তবে খুব কম কথা বলেন আর চোখাচোখি হলে একটা মিস্টি হাসি হেসে থাকান। মনে হয় খুব খারাপ কিছু হয়েছে।  তবে না হলেই ভালো। 

আর একটা বাচ্চা ছেলে, এই বছর দশেক বয়স। ইটালি তে ওর মামা থাকে আজ রবিবারে বিয়ে।  বেচারা গত চার মাস ধরে রেডি হচ্ছিল, নিজের হাতে শেরওয়ানি বেছে নিয়েছিল আরও কত কি প্ল্যান! বুধবার রাতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে আর ডাক্তার আসলেই জিজ্ঞেস করছে কাল ছাড়া পাবে কি না? 

আর একটা কলেজ স্টুডেন্ট ওরও ডেঙ্গু। খালি ফোন নিয়ে বসে থাকে আর মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যায়।   পরের সপ্তাহে বন্ধুদের সাথে গোয়ার প্ল্যান ছিল।  পুরনো বন্ধু, সবাই অন্য অন্য শহরে থাকে।  অনেকদিন পর দেখা হওয়ার কথা ছিল!

আর এক বুড়ো সারাদিন ধরে বকেই চলেছে।  ছেলে কখনও অক্সফোর্ডের স্টুডেন্ট তো কখনও অ্যাপোলোর ডাক্তার , একটু আগে অবশ্য ক্যাটারিং এর ব্যবসা বললেন।  ওনার শখ হাতে ব্লেড নিয়ে ঘুরবেন আর মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ কাটবেন।  কেন জানতে চাইলে বলছেন '' কেন মেয়েরাই শুধু ছেলেদের পকেট কাটতে পারে না কি !? ব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য রক্ষা আর কি!  বুড়োর পটাশিয়াম ইমব্যালেন্স হয়েছে।

আর একটা নাইটেঙ্গেল ছিল।  বিকেলে আসত। হাসি মুখে সবকটা কে সামলাত।  কাউকে বকে ঝকে আর কাউকে গল্প বলে।

আর একজনের সাথে দেখা হল।  ছেলেটা ফুটবল খেলতে ভালোবাসতো।  একসময় SAI এ চান্স পেয়ে পড়াশুনা ছেড়ে দেবে ভেবেছিল।  আটবছর আগে লাস্ট টুর্নামেন্ট খেলেছিল এবার 15th অগাস্ট আবার ম্যাচ খেলবে ঠিক করে রেখেছিল। একটু বেশি বিগড়ে যাওয়ায় আর মাইক্রো সার্জারি সম্ভব হয়নি,  মাঝপথে ওপেন  করতে হয়েছে।দুদিন ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারি ভেবে খুব লাফালাফি করেছে, ছাড়া পাওয়ার একটু আগেই জানতে পারে সব মিলিয়ে ৯ খানা সার্জিকল স্টেপল লাগিয়ে দিয়েছে । সার্জারির পর এখন বেশ কিছুদিন একদম নড়াচড়া বারণ তাই হসপিটাল থেকে ছাড়া পেলেও এবারও আর মাঠে নামা হল না।

বাকি দুনিয়া, আগের মতোই চলছে .......

- অভিষেক বোস

No comments:

Post a Comment