Saturday, April 16, 2022

তারাদের কথা - ২

(পৃথিবীরও কান আছে) 

১৫ই অগাস্ট, ১৯৭৭ (স্থানীয় সময়) । বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশের ছোট-বড় শহরের একটা সাধারণ দৃশ্য।  বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে, গরম চায়ের কাপের ধো়ঁয়া সামনে রেখে বাড়ির বয়স্করা রেডিওতে কান পেতে রয়েছে। আর ঝ্যা-ঝ্যা আওয়াজকে সরিয়ে রেখে পছন্দের স্টেশনের হদিশ পেতে 'নব্' ঘুরিয়েই চলেছে । ঠিক সেই দিন ভারতীয় উপমহাদেশে থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে, ওহাইওতে পৃথিবীর 'Big Ear'এর কানে ধরা পড়ল অপ্রত্যাশিত 'রেডিও সিগন্যাল' । 

'Big Ear' আসলে তিনটে ফুটবল মাঠের সমান একটা রেডিও টেলিস্কোপ , 'এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স' সন্ধানের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রয়াস। 

বেতার তরঙ্গ আবিষ্কারের দিন থেকেই আমরা মহাশূন্যে 
কারণে অকারণে রেডিও সিগন্যাল পাঠিয়ে চলেছি। টেলিভিশন আসার পর সিগন্যাল ব্রডকাস্টিং আরো বেড়েছে। কিন্তু ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি রেডিও অবসার্ভেটরি' -র বিগ ইয়ার প্রথমবার ওপারের সংকেত শুনতে পেলো। অতর্কিত তীব্র সিগন্যালটা ঠিক ৭২ সেকন্ড পর মিলিয়ে গেল। এর আগে আর কোনোদিনও এরকম কিছু শুনতে পাওয়া যায়নি । আগামী আরো একুশ বছর রাত দিন এক করে অপেক্ষা করার পরেও আর কোনো সূত্র পাওয়া গেল না। এতো ক্ষনস্থায়ী সংকেতের উৎসস্থলও জানা সম্ভব হয়নি । গভীর মহাকাশের (Deep Space) এর স্যাজিটেরিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের (Sagittarius constellation) কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকে আসা প্রথম রেডিও সংকেত শুধু একবারের জন্যে পৃথিবীর কানে এসেই হারিয়ে গেল অনন্ত শূন্যে। ঘটনার মূহুর্তে অ্যাস্ট্রোনমার জেরি আর. এহম্যান এতটাই শিহরিত হয়েছিল যে সিগন্যাল এর প্রতিনিধিত্বকারী সংখ্যাগুলোর প্রিন্টআউটে লাল কালি দিয়ে গোল করে পাশে 'ওয়াও' (Wow!) লিখে দেয়। এরপর চার দশকের বেশি সময় পেরিয়েও 1420 মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির Narrow Band (অনেকটা আমাদের রেডিওর AM - Amplitude Modulation চ্যানেলের সিগন্যালের মতো) আর্টিফিশিয়াল  সিগন্যালের আর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি । আগামী পৃথিবীর মানুষ শুধু জানতে পেরেছে একবার আমরাও হয়তো ওপারের অজানা সংকেত পেয়েছিলাম Wow! Signal । 


                           বহির্বিশ্বের বুদ্ধিমান প্রাণের সভ্যতার সন্ধানে পৃথিবীর বিগ ইয়ার এলিয়েন সিগন্যাল খুঁজছিল ঠিকই কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য কিছু শোনার আশা কেউ করেনি! Wow Signal ছিলো সেই রাতের পটভূমিতে মহাকাশের সবচেয়ে তীব্র সংকেত। এর পরে প্রায় পঞ্চাশ বছর কেটে গেলেও এই রহস্যের কোনো সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে অনেক বৈজ্ঞানিক অনুমান (hypotheses) সামনে এসেছে। কখনো ধূমকেতুর থেকে নির্গত রেডিও সিগন্যালের তত্ত্ব এসেছে, কখনো বা গুপ্তচর কৃত্রিম উপগ্রহের। আবার কখনো বা বহির্জগতের বুদ্ধিমান প্রাণের। যেই সভ্যতা হয়তো যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল হাজার আলোকবর্ষ দূরে তাদেরই মতো অন্য জগতের সাথে। 
                           

অ্যাস্ট্রনমারদের একটা বড় অংশ পরবর্তীতে ধূমকেতুর তত্ত্ব যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে নাকচ করে দেয়। কিছুদিন আগে Wow! signal এর সম্ভাব্য উৎসস্থলের একটা লম্বা লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। যার মধ্যে সবথেকে উৎসাহব্যঞ্জক নাম 2MASS 19281982-2640123 এর কাছাকাছি কোনো একটা জায়গা। এরকম লম্বা চওড়া বিদ্ঘুটে নামটা ১৮০০ আলোকবর্ষ দূরের প্রায় সূর্যের মতো আয়তন আর তাপমাত্রার একটা নক্ষত্রের। তবে গভীর মহাশূন্যে স্টার, ম্যাগনেটার, ক্যোয়েসার, পালসার খুঁজে বার করা যতটা জটিল তার থেকে কয়েক'শ গুণ বেশি জটিল এক্সোপ্ল্যানেট ( সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) এর সন্ধান। আজ অবধি মাত্র পাঁচ হাজারের মতো এক্সোপ্ল্যানেট এর খোঁজ পাওয়া গেছে। তাই 2MASS 19281982-2640123 কে প্রদক্ষিণ করছে (!) যেসব উপগ্রহ তাদের অস্তিত্বের তথ্যটুকু জানাটাও একরকম দুঃসাধ্য কাজ। আর ১৮০০ আলোকবর্ষ দূরের 
তমোছায়াপথ পেরিয়ে আসা সংকেত যখন আমরা পেয়েছি ততদিনে স্পেস-টাইমের ঐ জ্যোতিষ্কের দুনিয়ায় পৃথিবীর হিসেবে এক হাজার আটশ বছর পেরিয়ে গেছে
(Radio waves travel at the speed of light) ।
সেখানে যদি কোনো উন্নত প্রাণ থেকেও থাকে, সেই সভ্যতা কালের নিয়ম মেনে আরো আধুনিক হয়েছে কিম্বা নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। রাতের বিশাল আকাশের দুই প্রান্তে দুটো বিন্দু এই ইতিহাসের হদিশ কিম্বা ভবিষ্যতের নাগাল হয়তো কোনোদিনও জানতে পারবে না। AB

১৯৯৮ সালে বিগ ইয়ার অবসর নিল আর তার সাথে সাথে বিশ্বের ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা SETI গবেষণার নজির তৈরী হলো। SETI - Search for Extraterrestrial Intelligence কোনো কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। 
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহির্বিশ্বের উন্নত প্রাণ আর তার সংকেতের খোঁজে যে বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ড চলছে তার সর্বজনীন নাম SETI। এই প্রয়াসে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সাথে সাথে জুড়ে রয়েছে বেশ কিছু বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নাম। স্টিভেন হকিং (breakthrough listen), নিকোলা টেসলা (interplanetary communication), ফ্রাঙ্ক ড্রেক (Project Ozma), হ্যারল্ড ক্লেইন ; লিস্টটা অনে-এ-ক লম্বা কিন্তু এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম, মহাকাশ নিয়ে যাদের সামান্যতম উৎসাহ আছে তাদের প্রায় সবার প্রিয় 'কার্ল সেগান'। 

বিভিন্ন সময়ে SETI র সাথে জুড়ে গেছে নাসা, হিউলেট-প্যাকার্ড ল্যাবরেটরি (HP) আর হার্ভার্ড এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। আমাদের পরিচিত জগতের পরিধির বাইরে প্রাণের সন্ধানে বৈজ্ঞানিক প্রয়াস কখনো থমকে গেছে, কখনো বা মুখ থুবড়ে পড়েছে কিন্তু কখনোই বন্ধ হয়ে যায়নি আর এই প্রয়াসে নবতম সংযোজন মাত্র তিন মাস আগে। James Webb Space Telescope (large infrared telescope) । Hubble Space Telescope এর উত্তরসূরী James Webb এতো বেশি শক্তিশালী, যে চাঁদের সমান দূরত্বে থাকা একটা ভোমরার heat signature শনাক্ত করতে সক্ষম। 

সত্তর হাজার কোটি টাকায় নির্মিত সবথেকে শক্তিশালী  Space Telescope 'ওয়েব্' কে বলা হয় এই সময়ের টাইম মেশিন। আর এই 'টাইম মেশিন' আমাদের আদিমতম প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। এই মহাবিশ্বের সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ের নক্ষত্র আর ছায়াপথের সন্ধান করবে। জানার চেষ্টা করবে সৃষ্টির প্রাচীনতম ইতিহাস আর তার বিবর্তন। সৌর পরিবারের গ্রহদের অজানা অধরা কাহিনী আর সৌরজগতের বাইরের গভীর থেকে গভীরতম মহাকাশে এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমন্ডলের (!) উপাদানের হদিশ পাওয়ার। কার্বন ডাই অক্সাইডের কিম্বা মিথেনের মতো গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে পর্যবেক্ষণের তীক্ষ্ণতা আরো বাড়ানো হবে । কেননা প্রাণের অস্তিত্বের ইঙ্গিত হিসেবে অক্সিজেনের থেকেও এই দুটো গ্যাসের উপস্থিতি আরো অনেক জোরালো দাবি রাখে। তল্লাশি চালাবে প্রাণ সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদানের (building blocks of life) চিহ্নের সন্ধানে । এইভাবে সুদূর ভবিষ্যতে কোনো একদিন হয়তো পেয়েও যেতে পারি আমাদেরই মতো আরো একটা পৃথিবী! সেই পৃথিবীর রঙ হয়তো গোলাপ ফুলের মতো গোলাপি আর তার সমুদ্রের রঙ জেড পাথরের মতো সবুজ। 


ছেলেমানুষি খেয়াল শোনালেও, এরপর কোনো দিন যদি এই গোলার্ধের গ্রীষ্মকালের রাতে খোলা আকাশের নীচে শুয়ে তারা গুনতে গুনতে, কোনো নীলচে উজ্জ্বল তারামন্ডলের  দিকে চোখ আটকে যায়, যার নাম Sagittarius constellation। তখনো কি মনে হবে না, ঐ তারাদের দেশ থেকেই আমাদের জন্য আমাদেরই মতো কাদের যেন উড়ো চিঠি এসেছিলো! যে চিঠি কোনোদিনও খুলে দেখা হয়নি..... 

— অভিষেক বোস

Saturday, April 9, 2022

তারাদের কথা - ১


(ছায়াপথের ওপারে )

এরিক ফন্ দানিকেন (Erich von Däniken) এর নাম আমি সম্ভবতঃ ক্লাস এইটে প্রথম জানতে পেরেছিলাম। এমন কিছু জানার মতো করে নয়, ঐ সিলেবাসের বইয়ের এক দুটো লাইন, ব্যস। 'এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়ালদের' নিয়ে যেসব লেখকের লেখা 'গল্প' গোটা পৃথিবীতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলো 'এরিক' এর নাম তার প্রথম সারিতে থাকে । 

                      তারও অনেক আগে ঐ হাফপ্যান্ট বেলায় ছোটো মাসীর কাছে ই.টি -র গল্প শুনতাম (বঙ্কুবাবুর বন্ধু তখনো হাতে পায়নি)। কোনো একটা পেটমোটা পত্রিকাতে ই.টি-র গল্প ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা হতো। স্পিলবার্গের ই.টি প্রায় মানুষের মতো দ্বিপদ কিন্তু ছোটখাটো কিম্ভুতকিমাকার এক প্রাণী। এর পরেও যত কল্পবিজ্ঞানের গল্প পড়েছি, তাতে বারবার এরকম ধারণায় দেওয়া হয়েছে যে, ভিনগ্রহীরা মানুষের মামাতো ভাই। লম্বা গলা, বড় মাথা, গোল্লা-গোল্লা চোখ, বরফির মতো কান আর ঘর্ঘর সুরে কথা বলে, এই টুকুই যা তফাৎ । 

এইসবই কল্পবিজ্ঞান আর আষাঢ়ে গল্প ।  কিছু উটকো চিন্তা ভাবনার মানুষ ছাড়া আর কেউ ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব নিয়ে মাথা ঘামায় না। 

ভুলটা ভাঙলো দশ বছর আগে, যখন জানতে পারলাম উপরের উদাহরণগুলো মস্তিষ্কপ্রসূত গল্প হলেও পৃথিবীর একটা বড় সংখ্যক কসমোলজিস্ট, অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট, অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্টরা প্রতিনিয়ত একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন  'এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা !?' 

এই যে মহাবিশ্বের কথা বলছি সেটা ঠিক কতো বড়? ফ্ল্যাট কিনতে যাওয়ার সময় আমার মাথায় ছিলো ঠিক কতো 'স্কোয়ার ফিট' জায়গা হলে ঠিকঠাক একটা ফ্ল্যাট হবে। ছোটবেলায় যে মালদা DSA-র মাঠে ফুটবল খেলতাম তার কাছে ফ্ল্যাটের ঐ জায়গাটুকু কোনো হিসেবের মধ্যেই আসবে না। একটা গোটা দেশের নিরিখে ঐ মাঠটার আয়তন কিস্যু না। এতো বড় দেশ ভারত, সেটাও নাকি পৃথিবীর ২.৫ শতাংশেরও কম ভূখন্ড। বিপুলা সেই পৃথিবীর মতো তেরো লক্ষ পৃথিবী (Volume) সূর্যের মধ্যে সেঁদিয়ে যাবে। 

সেই বিরাটবপু সূর্য নাকি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির একটা মামুলি নক্ষত্র। এর থেকে কয়েক'শ গুণ বড়  (Diameter) নক্ষত্র আমাদের গ্যালাক্সির মধ্যেই রয়েছে। এরকম ছোট - বড় মিলিয়ে মিল্কিওয়েতে দশ হাজার কোটি নক্ষত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে (খালি চোখে পরিস্কার আকাশে আমরা এই হাজার পাঁচেক তারা দেখতে পাই)। একেকটা নক্ষত্র থেকে প্রতিবেশি নক্ষত্র কত দূরে রয়েছে তার একটা উদাহরণ দিই। সূর্য থেকে নিকটতম নক্ষত্রের দূরত্ব চল্লিশ লক্ষ কোটি কিলোমিটারের বেশি ( 268,770 AU) । যেখান থেকে পৃথিবীর বুকে আলো এসে পৌঁছতে সময় লাগে 4.25 বছর। আর পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিটা ঠিক কতটা বড়? আলোর গতিতে মিল্কিওয়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে সময় লাগবে এক লক্ষ বছর! 

আমরা আছি মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে অনেকটা দূরে ঐ কলকাতার পাশে হরিণঘাটার মতো জায়গায়। ছোটবেলায় যে শেখানো হয়েছিলো, সূর্য একজন সুবোধ বালক যে একজায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা নেহাতই গপ্পো । সূর্য তার ছানা-পোনা পরিবার নিয়ে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। এইভাবে একবার চক্কর কাটতে সূর্যের পঁচিশ কোটি বছর সময় লাগে (One Galactic year) । শেষবার যখন সৌরপরিবার গ্যালাক্সির এই জায়গায় ছিল যেখানে আজ রয়েছি তখন পৃথিবীর বুকে ডায়নোসর যুগ সদ্য হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে । মানুষ নামের দুপেয়ে দুর্বল প্রজাতিরা তখন কোথায়!? আরো প্রায় চব্বিশ কোটি বছর পর প্রথম মানুষের পূর্বসুরীরা পৃথিবীর মাটিতে জন্ম নিল। আবার যখন পঁচিশ কোটি বছর পর আরো একটা 'গ্যালাক্টিক' বছর পার হবে, কে জানে এই সভ্যতার কোনো চিহ্নও থাকবে কি না! হয়তো নতুন কোনো প্রাণের উদ্ভব হবে কিম্বা পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে প্রাণের শেষ চিহ্ন। প্রতিবার পৃথিবীর বুকে প্রাণ বিলুপ্তির ঘটনার পরই আরো উন্নততর প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। 

এতো বড় মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি কিন্তু মহাবিশ্বের পরিবারে
একটা লাল পিঁপড়ের থেকে বেশি কিছু নয়। এর থেকে ছোট বড় মিলিয়ে দু লক্ষ কোটির বেশি গ্যালাক্সি রয়েছে (observable universe) । সাম্প্রতিক একটা গবেষণা বলছে  সম্ভবত আরো দশ গুন বেশি গ্যালাক্সির অস্তিত্ব রয়েছে। এর কোনো শেষ নেই, কোনো সীমা নেই, প্রতিমূহুর্তে এই সীমানা বেড়েই চলেছে। 

একটা সোডা স্ট্র চোখের সামনে নিয়ে আকাশের দিকে তাকালে যেটুকু আকাশ দেখা যায় সেইটুকু শূন্যের মধ্যে হাজার খানেক গ্যালাক্সি থাকতে পারে । এই অনন্তের অসীমের প্রান্তে আর কোথাও কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই, কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব নেই, কোনো দিনও ছিল না কিম্বা কোনোদিনও উন্নততর প্রাণের সৃষ্টি হবে না এমন দাবি আর যেই করুক মহাকাশ বিজ্ঞান কোনোদিনও করেনি। উল্টে NASA, ESA, JAXA র official website এ নিয়ে গভীর আলোচনা রয়েছে, পরবর্তী অভিযানের হদিস রয়েছে। প্রশ্নটা আদিম, উত্তরটা এখনো অধরা। এই এতো বড় মহাবিশ্বে শুধু আমরাই আছি, আর কেউ কোথাও নেই!? নাকি ওপারে নীল তারাদের দেশে কেউ অপেক্ষা করছে একই প্রশ্ন নিয়ে?...............(ক্রমশ) 

— অভিষেক বোস