Monday, September 5, 2016

Teachers' Day

খেয়ে এসেছিস?
না ।
খেয়ে নে, ডাল, ভাত, আলু ভাজা অমলেট ।
কোনো কথা না বাড়িয়ে বসে পড়লাম, বাড়ি থেকে তো খেয়েই এসেছি তবে এখানে খেতে বেশ লাগে ।
খাওয়া হলে ছাদে চলে আয় ।
উঠে এলাম ছাদে, আমার বয়সী আরো কিছু ছেলে মেয়ে গোল করে ঘিরে বসে আছে, আমিও সভা আলো করে বসে পড়লাম ।
পড়া হয়েছে?
হ্যাঁ ।
দে দেখি !
একবার দেখে নিব?
৫ মিনিট
(পাঁচ মিনিটের মধ্যে Damage control করতে শিখে ফেললাম)
আমার প্রথম টিচার গোপাল মামা, স্যার বলার অভ্যাস তখনও হয়নি ।
আরও কিছু বছর পরে :
ইস্কুল থেকে ফিরে এসে দেখি ঘরভর্তি লোক বসে VCP তে সিনেমা দেখছে, রুদালি । দু চার মিনিট দেখে এমন বিরক্ত হলাম, বলেই ফেললাম, এই সিনেমা কেউ দেখে নাকি?
দিনে দিনে বাঁদর হচ্ছো !
শ্যামা তুই সময় পেলে একটু দ্যাখ তো ওকে । আমার মায়ের অনুনয়, যাকে বলা হল তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কাল থেকে চলে আসবি । ব্যাস ভর্তি হয়ে গেলাম ।
৩ বছর পরে :
শ্যামা পিসী কে সবাই এখন জয়া মিস্ বলে ডাকে, সে যে যা ডাকে ডাকুক, শ্যামা পিসী এখন তিনটে ব্যাচ পড়ায়, আর আমি প্রতি ব্যাচের কমন্ মুখ।
রচনা লিখতে দিয়েছে ইস্কুলে ।
তো লিখ ।
পড়িনি তো !
রচনা মুখস্থ করে না, নিজে লিখতে হয়, আয় শিখিয়ে দিচ্ছি ।
ভাগ্যিস ! নাহলে আমাকেও “আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই, আর গ্রামের লোকের সেবা করতে চাই " লিখতে হত, যেটা আমি কোনোদিন হতে চাইনি । আমি ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম আর সেটাই পরীক্ষার খাতায় লিখতে পেরেছিলাম ।
আরো কয়েক বছর পর :
ক্যাম্পে দুটো ছেলের মা'য়েদের কথা কানে আসছিল “ এখন ফুটবল না খেলে , ভালো করে পড়াশোনা করুক, তারপর যত খুশি খেলুক"
এই কথাটা আমি আরও অনেক মা বাবা কে বলতে শুনেছি ।
Cool down করার পর সেদিন সন্ধ্যাবেলায় স্যার বলেছিল “ তোমরা যারা ফুটবল খেলতে চাও, তাদেরকে বলছি, এটাই সময়, দু ঘন্টা সময় পড়াশোনার কোন ক্ষতি করে না, তবে পড়াশোনা যেদিন শেষ হবে সেদিন আর শরীর দেবে না, আর সবথেকে বড় কথা সেদিন আর তুমি খেলবে না, জীবন তোমাকে নিয়ে খেলবে ।" পুস্পেন স্যারের ছেলেও আমাদের সাথে ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করত ।
তিন বছর ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করছি এবার চান্স পেয়েছি এবার ছাড়ব না । মাধ্যমিক বছর বছর আসবে কিন্তু SAI ক্যাম্পের ডাক বারবার আসবে না । বাড়ি থেকেও রাজি । পুস্পেন স্যারকে গিয়ে বললাম মাধ্যমিক দিব না ।
উত্তর এল : আবার চান্স পাবি । পড়াশোনা Discontinue করিস না ।
সেদিন বুঝিনি, আজকে বুঝেছি ।
কিছু বছর আগে :
পুস্পেন স্যার আর নেই । ওনার আজীবন কীর্তির সম্মানে অসংখ্য মানুষ ওনার নশ্বর দেহের পিছু পিছু হেটে আসছেন । আমরা কয়েকজন ক্যাম্পের পুরনো বন্ধু একসাথে হাঁটছিলাম ।
এক উৎসুক পথচারী জিজ্ঞেস করলেন : “ ভাই উনি কোন্ পার্টির নেতা ছিলেন? "
উনি নেতা নন
তবে?
উনি ফুটবল কোচ ছিলেন ।
ভদ্রলোক অস্ফুটে বলে উঠলেন “ফুটবল টিচার ! এত শয়ে শয়ে লোক স্বেচ্ছায় হাটছে ! !"

- অভিষেক বোস

No comments:

Post a Comment