Friday, January 15, 2016

ল্যাম্পপোষ্ট

আমার দাদুর বাড়ির রাস্তাটা যেখানে বড় রাস্তার সাথে মিশেছে ঠিক ওখানেই ছিল ল্যাম্প পোষ্টটা ৷ না ,আহামরি কোনও ল্যাম্পপোষ্ট নয়, কোনও মহামানব পোস্টের তলায় বসে 'কদাপি পড়াশুনা করে নাই, ' একটা মামুলি কাঠের ল্যাম্পপোষ্ট , যার মাথায় একটা জোরালো সোডিয়াম লাইট জ্বলত ৷ তবে ঘাড়ে লাইট জ্বালিয়ে রাখাটা ছিল বেতনভুক্তি কাজ এছাড়া ক্রিকেটের উইকেট , লুকোচুরির স্টার্টিং মার্ক , ল্যান্ডমার্ক , আরও অনেক অকাজ করতে হত ৷ কে জোরে দৌড়য় ফয়সালা হত ল্যাম্প পোষ্টটা কে আগে দৌডে ছুঁতে পারবে তার উপর ৷ সম্ভবত কোনও শাল গাছ বলি হয়ে ল্যাম্পের খুঁটি সেজেছিল , উপরের দিকে একটা ফাটল মতো ছিল সেখানে কোথা থেকে দুটো পাখি এসে ভাড়া নিল ৷ ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের তার , বিদ্যুতের তার , পুজোর সময় টুনি বাল্ব যে যা পাড়ত ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যেত ৷ তবে একটা বদনামও ছিল ,কোনও ঘুড়ি পোষ্টের মাথার উপর ওড়ার সময় বেগড়বাই করলেই আর রেহাই হত না , এদিকে এত উঁচু ঢ্যাঙ্গা ল্যম্পপোস্টে কেউ উঠতেও পারতোনা , দু'চারদিন ঢিল ছুড়ে নামানোর চেষ্টা হত , তারপর ঝড় বৃষ্টি হলে শুধু কাঠি টুকু জোরাজুড়ি করে আটকে থাকত , তারপর কাকগুলো দায়িত্ব নিয়ে লাইন পরিষ্কার করে দিত। আমার জোরালো দাবি কাকেদের এই অনলাইন বসে থাকার প্রবনতাকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আদিম সূচনা হিসেবে ঘোষণা করা হোক ৷ এরপর 'একদিন প্রভাতে আমি উঠিয়া দেখিনু ' জোরকদমে রাস্তাটা ভেঙ্গে কংক্রীটিকরন চলছে , সে করুক , কিন্তু সমস্যাটা হল নতুন ফ্ল্যাটে যেমন পুরনো জিনিষের জায়গা হয়না, নতুন রাস্তাতেও পুরনো ল্যাম্পপােস্ট ঠাঁই পেলনা , তার জায়গায় এল কংক্রিটের পোস্ট , স্বাভাবিক ভাবেই নতুন পোস্টের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব হলনা , আর বয়সটাও বাড়ছিল , মাসখানেকর কাঠের ল্যাম্পপোষ্টটা যেখানে শুইয়ে রাখা হয়েছিল সেখানেই সান্ধ্যমজলিশ বসত ৷ আরও কিছুদিন পরে কারা এসে খুঁটিটাকে তুলে নিয়ে চলে গেল ! আর সাথে নিয়ে গেল আমাদের ছেলেবেলার আড্ডা ।


-অভিষেক বোস

Wednesday, January 6, 2016

ভিস্তি

ছবিটি W ikimedia থেকে নেওয়া , আপত্তি থাকলে সরিয়ে দেওয়া হবে। 
আমরা ভিস্তি আছি বাবু ।
ভিস্তি ! ভিস্তি কি হয় ?
আমরা দোকান দোকান, বাড়ি বাড়ি পানি দিয়ে বেড়াতাম, হুই চামড়ার সামানটা দেখছেন, ওটা ভেড়ার চামড়া দিয়ে তৈরি আছে । ওটার মধ্যে পনতাল্লিশ লিটার পানি ধরে । সারাদিনে ওরকম ত্রিশ চাল্লিশ বার পানি ফিরি করতাম ।
আমাদের পুর্খ এই শহরে চলে এসেছিল । আগে আমরা উর্দু তে বাত চিত্ করতাম, ফির ধীরে ধীরে বাংলা বলতে শিখে গেলাম ।
আচ্ছা তোমরা এই শহরের না?
এই শহরের না! কি বলছেন? চার পুস্ত ধরে আমরা এই শহরের আছি । ত্রিশ সাল পহেলে ভি এই শহরের রাজপথ আমরাই সাফ করতাম । ভোর বেলা মাসকি তে পানি ভোরে হগ্ সাহিবের মার্কিট মে দুকান দুকানে পানি দিতাম ।
তারপর?
তারপর, ওই সব বাড়ি বাড়ি নল কি পানি বসে গেল, আর আমরা আহিস্তে আহিস্তে কামহারা হয়ে গেলাম ।
অন্য কাজ করলে না কেন?
কেউ কেউ কোশিস করেছিল, লেকিন ঐ সাফাই কাজ ছাড়া কেউ কোনও কাজ পেল না!
তাহলে?
তাহলে কি বাবু! জানেন ভিস্তি কথাটা 'বেহেস্ত' থেকে এসেছে । জং কি ময়দানে আমাদের পুর্খ পানি ফিরি করত । এ শহরে আমাদের জায়গা হল না , উপর বেহেস্তে জরুর কিছু জুগার হয়ে যাবে ।
- অভিষেক বোস