Friday, September 30, 2016

পুজোর সেরা


কি বললি , বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ভালো লাগে না?

তা তো বলিনি! 

এই যে বললি একটু আগে? 

না ,বলিনি ৷ আমি বলেছি ভদ্র বাবু পাঠ না করলেত্ত মহালয়া , মহালয়া থাকবে ৷ কাল হয়তো অন্য কেউ ওনার চেয়ে ভালো করবে ৷ 

অসম্ভব , উত্তম কুমার পারেননি 

আচ্ছা ছাড়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ বাবুর ঠিক কি ভালো লাগে ?

ঐ তো , ভোরবেলা যখন অমন জলদ্ গম্ভীর গলায় " যা দেবী .... " বলে গেয়ে উঠেন !  আহ্ হা !! 

তারপর? 

তারপর কি ? 

তারপর কি ভালো লাগে?  " যা দেবীর " পর কমার্শিয়াল শুরু হয়ে যায় নাকি ? 

না , মানে ? 

মহালয়া তো শুধু চণ্ডীপাঠ নয় , পঙ্কজ মল্লিক , আরতি মুখোপাধ্যায় , দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় এদের কথা তো বলিসনা ?

এরা কারা ? মহালয়ার সাথে এদের কি সম্পর্ক ?

ছাড় তুই যা দাঁত ব্রাশ করে আয় , কি সম্পর্ক  !! 

শোন,  আমি বরং তোকে তিনটে চালু,  সোজাসাপ্টা গান বলছি ,  আমার সেরা তিন 

কি কি ? 

'বাজল ছুটির ঘন্টা '  ইস্কুল ছেড়েছি পনেরো বছর হল কিন্তু আজও ছুটির ঘন্টা কানে বাজে ।

শিলাজিতের এই গানটা কিন্তু খাসা! আর দুটো? 

' ঢাকের তালে ' ....   ধুনুচি নাচের সেরা কম্বো... 

অ্যাঃ,  তুই দেব - এর ফ্যান !? দেবের !? 

সুখেন দাস থাকলেও গানটা একই রকম থাকত, আর তাছাড়া গানটা অভিজিতের, দেবের নয় ।

আচ্ছা মানলাম, আর তিন নম্বর? 

' সপ্তমীতে প্রথম দেখা,  অষ্টমী তে হাসি.... '

ধুর!  এটা তো জিঙ্গল ।

তো,  হাতে কোকোকোলার বটল নিয়ে গাইতে হবে নাকি!!  আরে বাবা,  দশমীতে হঠাৎ কেমন আকুল করে প্রাণ'  এই লাইনটাই তো মারকাটারি ।

আর, কাঁদাসনা ভাই, আজ সবে মহালয়া..... 


- অভিষেক বোস

Monday, September 26, 2016

ছুটি ছুটি



আকাশের দিকে না তাকিয়ে শুধু অনলাইন হলেই  বেশ বোঝা যাচ্ছে পুজো চলে এসেছে ৷ নিউজ ফিডে ২ : ১ রেশিওতে  ' মা আসছে ! মা আসছে !' স্টেটাস আপডেট হচ্ছে , অটোওয়ালারা বেশ বিনীত ভাবে ১০ এর ভাড়া ২৫ করে দিয়েছে , আহা রে! বেচারাদের বোনাস নেই ! ট্যাক্সি গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মাত্র ৪০-৫০ এক্সট্রা চাইছে , জানতে চাইলেই বলছে " গরীব আদমি আছি" আপনারা বাবুরা পুজা টাইমে না দিলে , ক্যায়সে চলেগা বাবু ? Smart Cab অবশ্য Secular  প্রতিদিনই Surcharge বসিয়ে রেখেছে। 

অফিসের পাশে একটা ছোট রেস্তোঁরাতে আমার সহকর্মী একটা ফিস ফ্রাইয়ের আর আমি একটা কফির অর্ডার করলাম , মালিক ভদ্রলোক বলল " আমাদের চাইনিজ ট্রাই করুন স্যার  , আমাদের কুক্ চাইনিজ "   মেনুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম চিল্লি চিকেন  আর চাউমিন গোত্রের চাইনিজ, রিস্ক নিলাম না , মিনিট পাঁচেকের মধ্যে এক খদ্দের রাজী হওয়ায় ভদ্রলোক চাইনিজ কুক্ কে অর্ডার দিলেন " বিজয়! আচ্ছা করকে একঠো হাক্কা চাউমিন করনা, বেশী করে ঝাল দেখে ৷ বিজয়কে আমার উত্তরপূর্ব ভারতীয় মনে হল ....  যাই হোক্ এত গা' করলে চলেনা , পুজো এসে গেছে.....

আজ অফিসে একটা জোরালো পুজোর আলোচনা হল , অ্যান্টাসিড নিয়ে , কোন্ অ্যান্টাসিডের কি কি গুন আর কিই বা বেগুন সব সবিস্তারে আলোচনা হল । দেবীর যাতেই আগমন হোক, পুজোতে অ্যাসিডের আগমন , অ্যান্টাসিডে গমন ৷

মা দূর্গার সাথে অসুরের লড়াই তো সবাই জানে , দূর্গার সাথে দূর্গার লড়াই এখন লেটেষ্ট ট্রেন্ড ৷  আগের বছর এর বিজ্ঞাপন " সত্যি এত বড় !"  নীচে বড় বড় হরফে লেখা বিশ্বের সবথেকে বড় দূর্গা ৷ তো কারও পাল্টা " মায়ের আবার ছোট বড় " 
"পাগলা মা কি তোদের একার ? " 

এর মাঝখানে আবার কারা যেন হোর্ডিং টাঙ্গিয়েছিল "  লালেই বিপদ " ( বামপন্থী পুজো নাকি ? )।  এবার আর সিমেন্ট এর ঢ্যালা বানানোর কোনো রিস্ক নেয়নি তবে কোথাও সহস্রভূজা কোথাও বা হাজার খানেক অসুর।  সবথেকে চোখা বিজ্ঞাপন টা হল 'ত্রিনয়নে 360!' 
ত্রম্বকে গৌরি নারায়নীর তৃতীয় নয়নে ক্যামেরা লেন্স। 360° view দেখাবে হয়তো,  এক্কেবারে প্যানোরো-'মা' ভিউ।  খুব ভালো কথা, এমনিতেই চতুর্থী থেকে যা ভীড় হয় তাতে আকাশের দিকে না তাকালে শুধু মাথা দেখা যায় । 

বেণীমাধব দা যতই তিন চার দিনে পুজো নামাতে চান না কেন ! পুজো চলবে ৭ দিন ..... 

তা চলুক শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে জোড়া সপ্তমী , জোড়া অষ্টমী হোক্ 

পুজোতে তো শুধু মা দূর্গায় ঘরে ফেরে না , কার্ত্তিক ,গনেশ, সরস্বতী ,লক্ষীরাও ফেরে  , 
যারা আমাদের মতো সারাবছর বাড়ি থেকে অনেক দূরে 

- অভিষেক বোস 

Friday, September 9, 2016

মেমবউ জীবনবাবু আর তারা দের কথা

বেচারি মেমবউ! আহামরি সুন্দরী না হলেও মিষ্টি দেখতে।  এখন পরিচালক ওকে মাথায় শিবের জটা আর চোখে ঠুলি পরিয়েছে।  তারপর
'আ'   কে   'হা'
'ক'    কে    'খ'
'ত'    কে    'ট'
আর 'ট' কে  'ঠ'    বলতে শিখিয়েছে। 
তাতে করে হল কি বাঙালি ভীষণ রেগে গেছে। তো এতদিন ধরে যখন আলু, পটল, ঝিঙে, ভুতু, পুতু  3rd Generation অত্যাচার সহ্য করছিলে তখনই 4G মেমবউ গোকুলে বাড়ছিল । যাই হোক মেমবউ এর এই দুর্দশা দেখে আমার আরও একবার জীবন বাবুর কথা মনে পড়ে গেল।
জীবনবাবু ভীষন নিয়মনিষ্ঠ । নিয়ম করে ঝগড়া করেন,  নিয়ম করে কান্নাকাটি,  নিয়ম করে প্রেম,  ভালোবাসা । সময়ের কাজ সময়ে করাতে জীবনবাবুর জুড়ি নাই ।  ২৪ ঘন্টা ৩৬৫ দিন জীবন বাবুর জীবনে কোনও না কোনও ঘটনা ঘটেই চলেছে । নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন গোটাটাই নাকি মেকি! নইলে শ্বাশুরি আর বৌমা এক বয়সী হয় নাকি । আর বড্ড বেশী নাটুকেপনা,  নইলে ভারী ভারী গয়না পড়ে কেউ ছিঁচকাদুনের মতো কাঁদে নাকি? এত কান্নায় নাকি একটা আস্ত শহর ভেসে যেতে পারে । সম্প্রতি জীবনবাবুর মেয়ে টেনিস খেলতে শুরু করেছেন । তবে পাড়া প্রতিবেশীরা অবশ্য মুখ চেপে হাসছেন । বেনারসী পড়ে লন্ টেনিস!!  তা যে যা বলে বলুক,  ভুললে চলবে না জীবন মানে Zee Bangla ...... 

— অভিষেক বোস

Monday, September 5, 2016

Teachers' Day

খেয়ে এসেছিস?
না ।
খেয়ে নে, ডাল, ভাত, আলু ভাজা অমলেট ।
কোনো কথা না বাড়িয়ে বসে পড়লাম, বাড়ি থেকে তো খেয়েই এসেছি তবে এখানে খেতে বেশ লাগে ।
খাওয়া হলে ছাদে চলে আয় ।
উঠে এলাম ছাদে, আমার বয়সী আরো কিছু ছেলে মেয়ে গোল করে ঘিরে বসে আছে, আমিও সভা আলো করে বসে পড়লাম ।
পড়া হয়েছে?
হ্যাঁ ।
দে দেখি !
একবার দেখে নিব?
৫ মিনিট
(পাঁচ মিনিটের মধ্যে Damage control করতে শিখে ফেললাম)
আমার প্রথম টিচার গোপাল মামা, স্যার বলার অভ্যাস তখনও হয়নি ।
আরও কিছু বছর পরে :
ইস্কুল থেকে ফিরে এসে দেখি ঘরভর্তি লোক বসে VCP তে সিনেমা দেখছে, রুদালি । দু চার মিনিট দেখে এমন বিরক্ত হলাম, বলেই ফেললাম, এই সিনেমা কেউ দেখে নাকি?
দিনে দিনে বাঁদর হচ্ছো !
শ্যামা তুই সময় পেলে একটু দ্যাখ তো ওকে । আমার মায়ের অনুনয়, যাকে বলা হল তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কাল থেকে চলে আসবি । ব্যাস ভর্তি হয়ে গেলাম ।
৩ বছর পরে :
শ্যামা পিসী কে সবাই এখন জয়া মিস্ বলে ডাকে, সে যে যা ডাকে ডাকুক, শ্যামা পিসী এখন তিনটে ব্যাচ পড়ায়, আর আমি প্রতি ব্যাচের কমন্ মুখ।
রচনা লিখতে দিয়েছে ইস্কুলে ।
তো লিখ ।
পড়িনি তো !
রচনা মুখস্থ করে না, নিজে লিখতে হয়, আয় শিখিয়ে দিচ্ছি ।
ভাগ্যিস ! নাহলে আমাকেও “আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই, আর গ্রামের লোকের সেবা করতে চাই " লিখতে হত, যেটা আমি কোনোদিন হতে চাইনি । আমি ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম আর সেটাই পরীক্ষার খাতায় লিখতে পেরেছিলাম ।
আরো কয়েক বছর পর :
ক্যাম্পে দুটো ছেলের মা'য়েদের কথা কানে আসছিল “ এখন ফুটবল না খেলে , ভালো করে পড়াশোনা করুক, তারপর যত খুশি খেলুক"
এই কথাটা আমি আরও অনেক মা বাবা কে বলতে শুনেছি ।
Cool down করার পর সেদিন সন্ধ্যাবেলায় স্যার বলেছিল “ তোমরা যারা ফুটবল খেলতে চাও, তাদেরকে বলছি, এটাই সময়, দু ঘন্টা সময় পড়াশোনার কোন ক্ষতি করে না, তবে পড়াশোনা যেদিন শেষ হবে সেদিন আর শরীর দেবে না, আর সবথেকে বড় কথা সেদিন আর তুমি খেলবে না, জীবন তোমাকে নিয়ে খেলবে ।" পুস্পেন স্যারের ছেলেও আমাদের সাথে ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করত ।
তিন বছর ক্যাম্পে প্র্যাকটিস করছি এবার চান্স পেয়েছি এবার ছাড়ব না । মাধ্যমিক বছর বছর আসবে কিন্তু SAI ক্যাম্পের ডাক বারবার আসবে না । বাড়ি থেকেও রাজি । পুস্পেন স্যারকে গিয়ে বললাম মাধ্যমিক দিব না ।
উত্তর এল : আবার চান্স পাবি । পড়াশোনা Discontinue করিস না ।
সেদিন বুঝিনি, আজকে বুঝেছি ।
কিছু বছর আগে :
পুস্পেন স্যার আর নেই । ওনার আজীবন কীর্তির সম্মানে অসংখ্য মানুষ ওনার নশ্বর দেহের পিছু পিছু হেটে আসছেন । আমরা কয়েকজন ক্যাম্পের পুরনো বন্ধু একসাথে হাঁটছিলাম ।
এক উৎসুক পথচারী জিজ্ঞেস করলেন : “ ভাই উনি কোন্ পার্টির নেতা ছিলেন? "
উনি নেতা নন
তবে?
উনি ফুটবল কোচ ছিলেন ।
ভদ্রলোক অস্ফুটে বলে উঠলেন “ফুটবল টিচার ! এত শয়ে শয়ে লোক স্বেচ্ছায় হাটছে ! !"

- অভিষেক বোস