Friday, February 26, 2016

সুখ অসুখ


যা ভেবেছিলাম তাই, কিন্তু যতটা ভেবেছিলাম তার থেকেও সাংঘাতিক
- কি ডাক্তার বাবু
আপনার সাথে কেউ আছে
- না, নেই ।
সেটাই স্বাভাবিক, শুনুন ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে “Swiss Illness "
- Swiss Illness! কি মিষ্টি নাম!
হুমম, আসলে ঠিক অসুখ তো নয়, এটা হল গিয়ে সুখ
-তা বটে ।
প্রথম কবে টের পেলেন?
- সাল, তারিখ তো মনে নেই, তবে স্কুল শেষ হবার পর , সরস্বতী পুজোর দিন
আচ্ছা, নেক্সট অ্যাটাক্?
- পুরনো শহর ছেড়ে আসার পর
আজ কি হয়েছিল?
- তেমন কিছু নয়, নিজের বাড়িতে ব্যালকনিতে বসে ছিলাম, অফিস থেকে একটা কল এল "কবে অফিস জয়েন করছি" জানতে চেয়ে ।বুকের কাছে কেমন চিনচিন করে উঠল, পুজোর ছুটি শেষ হবার আগের দিনটা মনে পড়ে গেল ।
সাংঘাতিক, আপনি পুরনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন আর রাতের বেলা এই গানটা নিয়ম করে শুনবেন ।
-কোন গান?
প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
'বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ
মা গো আমার শোলোক বলা কাজলা দিদি কই? '
- অনেকটা ভালো ফিল করছি। বলছিলাম যে রোগটার কোনো সহজ নাম আছে কি? Swiss Illness! ইয়ে মানে ফেসবুকে স্টেটাস আপলোডের ব্যপারটা আছে তো
ওহ্, আচ্ছা । লিখবেন "Feeling Nostalgic"
- অভিষেক বোস

Wednesday, February 24, 2016

ঘুম

ঘুম যদি বৃষ্টি হয় আমি তবে মরুভূমি , যতই ঝরে পড়ুক তেমন কোনো ফারাক পড়ে না ৷ উষ্ণায়নের ফলে আমার এহেন ঘুমের বর্ষাকাল এখন আর ঘড়ির কাঁটা দেখে আসে না , ঘুমের মৌসুমী বায়ু এখন ভোরের বেলার দিকে বইতে শুরু করে , তারপর যখন বালিশে মাথা ঠুকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বিছানায় প্রদক্ষিন শুরু করি তখন ইলশেগুড়ি শুরু হয়। ৮ টা থেকে ৯ টা কালবৈশাখির সময়। একটা ভাল ঘুমের জন্য আমার চাই ৪ টে নধর বালিশ, নিশ্ছিদ্র অন্ধকার আর পরের দিন অফিস।
তবে বিংশ শতাব্দীতে আমি সন্ধে ৮ টায় ঘুমের আরাধনা শুরু করতাম, পুজো ভাঙত ভোর বেলায়। আহহা সেসব কি দিন ছিল ! নিরেট ৮ ঘণ্টা ঘুম। রাতের গল্প, আমি ভুতের গল্পের মত লোকের মুখেই শুনতে পেতাম !
কাল রাতে মিঠুনের সিনেমা দিয়েছিল
কাল রাতে ব্রাজিল কি খেলল, তিন তিন টে গোল
কাল রাতে পাড়াতে চোর ঢুকেছিল
এইসব রোমহর্ষক ঘটনার প্রত্যুত্তরে আমি যেটা করতাম তাই নাকি? সত্যি? এইসব বিস্ময় বোধক শব্দ, আর বাকিরা আগের রাতের গল্প নিয়ে ঘন্টাখানেক সঙ্গে সুমন ছকে আলোচনা জুড়ে দিত।
একদিন ঠিক হোল রাতে পিকনিক হবে। জোরালো ধ্বনি ভোটে প্রস্তাব সমর্থন পেল। ১০ টাকা করে চাঁদা, শালপাতায় গরম গরম ভাত, বেগুনি, আর টুকটুকে লাল ঝাল ঝাল করে ডিমের ঝোল ( ১ পিস করে )। সন্ধ্যেবেলা তাড়াতাড়ি টিউশন পড়ে এসে ব্যাগটাকে চালিয়ে ফেলে দিলাম দৌড়। পাড়ার মধ্যেই ঝাকরা কুলগাছ তলাতে পিকনিক। ৭.৩০ টা বাজতে যায়, এতক্ষনে হয়তো ডিমগুলো তেল নুন হলুদ লংকা মেখে গরম তেলের কড়াইয়ে নেমে পড়েছে !?
ওহ হরি, কোথায় কি? এখনো বাজার হয়নি
জিজ্ঞেস করায় উত্তর এল, আরে সবে তো আট টা বাজে, খাওয়া দাওয়া তো রাতে। সবে আট টা!! আমার আত্মা ডুকরে কেঁদে উঠল। কিছুক্ষণ দিল তো পাগল হ্যায় এর গান শুনলাম, দু রাউন্ড অন্তাক্ষরি। ৯ টা বেজে গেছে। কড়াই থেকে গরম বেগুনি সোজা মুখের সামনে, এই তো পারছি, আর মাত্র কিছুক্ষণ, তারপরেই ডিমের ঝোল হয়ে গেলে আর ভাত হতে আর কতক্ষন?
এর মধ্যেই ঘটে গেল চরম অঘটন, আগুন গেল নিভে। আবার কেরোসিন এনে আগুন জালাতে নাকি ৩০ মিনিট লাগবে। মনটাই ভেঙ্গে গেল, চোখ প্রায় বুজে আসছে, একবার খোসা ছারানো ডিম সেদ্ধর দিকে তাকালাম, একবার তুলতুলে বিছানাকে ইয়াদ করলাম, না আর নয়। কড়াইয়ের সামনে এগিয়ে এসে বললাম " দে ভাই, আমার ভাগের ডিম সেদ্ধটা দিয়ে দে, বাড়ি গিয়ে খাব "

--- অভিষেক বোস

Friday, February 19, 2016

বিয়ে বাড়ি


সাদা কালো যুগের বিয়েতে বেশি মজা ছিল, হ্যাঁ বুফে কাউন্টার ছিল না, ডান্স ফ্লোর ছিল না এমনকি চাই, থাই, মঙ্গোলিয়ান নুডল কাউন্টার ছিল না কিন্তু মজা ছিল এক কথায় এখন পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনলে যেমন অনুভূতি হয়, একই রকম অনুভূতি ছোটবেলায় বিয়ে বাড়ির নাম শুনলে হত। এরকমই একটা বিয়ের ঘটনা, সময় টা ৯০ এর মাঝামাঝি যখন লোকে মন দিয়ে Philips Top Ten দেখত আর অপেক্ষা করত কোন গান টা এক নম্বরে জানার জন্য (আর তিন মাস ধরে ইয়ে কালি কালি আঁখে এক নম্বরে থাকত), আর জায়গাটা মালদার শেষ প্রান্তে একটা বড় গ্রাম.... বিয়ে বাড়ির সবথেকে বড় আকর্ষণ খাওয়া দাওয়া, আর সবথেকে বড় কর্তব্য গিফ্ট দেওয়া এই বিয়ে বাড়িতেও ভোজন পর্ব শুরু হতেই দলে দলে যোগ দিন করে মানুষের ঢল নেমেছে... ক্লাব এর উঠতি ছেলেরা পরিবেশনের দায়িত্বে, প্যান্টের উপর নতুন টাওয়েল পড়ে কাগজের রোল বিছোনোর পরেই শালপাতার থালা দেওয়া হবে.... নিমন্ত্রিতদের আর ধৈর্য্য ধরে না, ইতিমধ্যেই কাগজ ছেড়াছিড়ি, বেঞ্চ উলটে দেখুন পাল্টে গেছি গোছের আন্দোলন  চলছে বাড়িতে হাত না ধুলেও, বিয়ে বাড়িতে কিন্তু হাত ধোয়ার বিশেষ নিয়ম, পাতার উপর হাত ধুয়ে, পাতার জলটাকে মাটিতে ফেলা... এরপর বেগুনি, মুগডাল, খাসীর মাংস, এই অবধি সব ঠিক ছিল (কিছু বিক্ষিপ্ত ঠেলাঠেলি ছাড়া ) , ছন্দ কাটল উপহার পর্বে এসে, বিয়ে বাড়ির অলিখিত নিয়ম ভেঙে উপহার দেওয়া হচ্ছে খাওয়ার পরে, আর বেশিরভাগ নিমন্ত্রিতদের উপহার নগদ টাকা ২০, ২৫, ৫০ এমনকি ১০, ... আর বরকর্তা দাতার নাম আর নগদের পরিমাণ লিখে নিচ্ছে.... এরকম না লিখলে নাকি নিমন্ত্রিতদের অপমান করা হয়, এটাই রেওয়াজ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিমন্ত্রিতরা দাঁত খুচোতে খুচোতে আসছে আর নাম লিখিয়ে বাড়ি ফিরছে স্বপন ঘোষ ৩০ টাকা, রতন পাল ২৫, সীমা বিশ্বাস ১০...... কেউ কেউ আবার খুচরো করিয়ে নিচ্ছেআমার ১৫ টাকা কেটে ফেরৎ..... " অনেকটা বাঙালি হোটেলের মত... নম্বরে ৩৪ টাকা , ১৩ নম্বর টেবিলে ৪৫, একটা এক্সট্রা ভাত, পাঁপড়... এক ভদ্রলোক দিলেন একটা চিঠি আর বরকর্তা সেটা সটান ঢুকিয়ে দিলেন পকেটে, এক অত্যুত্সাহী শহুরে আত্মীয় সেই চিঠি টা কেড়ে নিয়ে চিঠির যে বয়ান টা পেয়েছিলেন তা খানিকটা এইরকম
মাননীয়.....
আপনার ছেলের বিয়েতে সপরিবারে খেলাম, আয়োজন খুব ভালো লাগলো, পোস্ট অফিস বন্ধ থাকায় টাকা তুলতে পারিনি, আগামী মাসের তারিখের মধ্যে ২৫ টাকার প্রতিশ্রুতি দিলাম
ইতি
........ "
Credit note
আর কি !
পুনশ্চ : সত্য ঘটনা অবলম্বনে

- অভিষেক বোস