Tuesday, December 11, 2018

মামলা আর একটা যুগের অবসান

এরকম জোরালো সওয়াল জবাব এই কোর্টরুম চত্বরে বহুদিন শোনা যায়নি। অন্তত পুরনো যারা আছে, তাদেরও মনে পড়ছে না। সরকার পক্ষের দুঁদে উকিল সুচরিত সামন্ত গলার পারদ চড়িয়ে শুরু করলেন 'ধর্মাবতার এ কোনো সাধারন মামলা নয় বরং সুপরিকল্পিত ভাবে এতদিনের বিশ্বাস আর সংস্কৃতির উপর আঘাত হানার চেষ্টা। শুধু তাই নয়, এই ধরনের সাংঘাতিক সংযোজন একটা সমাজ ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে। আমার বিনীত অনুরোধ, এইধরনের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আবেদন কে নাকচ করে মহামান্য আদালত মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখুক। '

আবেদনকারীর পক্ষে বিবাদী উকিল প্রতীক মুখার্জি আস্তে আস্তে চেয়ার থেকে উঠে এলেন। স্মিতহাস্য ভদ্রলোক চশমার কাঁচ মুছতে মুছতে সহজ অথচ জোরালো গলায় বলতে শুরু করলেন ' কোন বিশ্বাস আর সমাজ ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে জজ সাহেব!?  পৃথিবীর কোনো সভ্যজগতে এই ব্যবস্থা আর বৈষম্য নেই। একই জন কে ঘরের ভিতর সমাদর করে রাখা হয় আর আনন্দ অনুষ্ঠানে ব্রাত্য করে রাখা হয়! শুধু তাই নয়, একই শ্রেণীর বাকিদের প্রতি এরকম কোনো দ্বিচারিতা নেই! '

সামন্ত উত্তেজিত গলায় অবজেকশন জানাতে জানাতে বললেন 'তার কারন যুগের পর যুগ এই ব্যবস্থা পরম্পরার মজ্জায় মজ্জায় বসে গেছে আর আজ অবধি কেউ কোনোদিন এর প্রতিবাদ করেনি। '

মুখার্জি গলার স্বর উঁচু না করেই বলতে শুরু করলেন ' যুগ যুগ ধরে চলে আসা রীতি যুগপোযোগী কিনা, তা এবার ভাবার সময় এসেছে। আর কোন পরম্পরার কথা বলছেন মুখার্জি সাহেব!?  ফি বছর যে ব্যবস্থায় নতুন নতুনদের জন্য জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কোন অপরাধে এক বিশেষ শ্রেণীকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে? আমি আদালতের কাছে আজ জানতে চাই যে আদালত সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের সত্যিকারের সংস্কৃতি, কৃষ্টি কে জায়গা করে দিবে নাকি শুধু বিদেশীদের সংযোজনকে সুরক্ষিত করবে। আমরা বিদেশীদের বিরুদ্ধে নয় কিন্তু নিরপরাধের যোগ্য সম্মান আদায় করে দেওয়া আদালতের কর্তব্য। '

কথাগুলো শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আদালতে অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। একটু ভাবুক দৃষ্টি দিয়ে বৃদ্ধ জজ সাহেব কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে রাখেন। হয়তো স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন। চোখ খুলে দৃপ্ত কন্ঠে জানালেন 'বাদী বিবাদী দুপক্ষের সমস্ত বয়ান সহানুভূতির সাথে শোনার পর এই আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, যে দীর্ঘদিন চলে আসা নিয়ম সময়ের প্রয়োজনেই পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। আদালত আরো মনে করে এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কোনো বিশ্বাস আর পরম্পরাকে আঘাত করে না বরং এইধরনের সংযোজন আমাদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে আরো মজবুত করে। ঘরের মধ্যে যাকে ভালোবাসা যায়, আনন্দ অনুষ্ঠানেও তাকে সাথে রাখা যায়। এই আদালত আজ থেকে আলু পোস্তকে বিয়েবাড়ির মেনুতে আইনতঃ স্বীকৃত বলে ঘোষনা করছে এবং সমস্ত বাঙালিদের এই আবেদন করছে আপনারা মেনুতে আলু পোস্ত রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন যাতে আলু পরিমিত ভাজা হয় আর পোস্তর পরিমাণ যথেষ্ট হয়। কাঁচা শিল্পীর হাতে এই শিল্পকে ছেড়ে দিবেন না। মনে রাখবেন সামান্য কম বেশি জল, আলুপোস্তর সর্বনাশ করে দিতে পারে। আদালত মনে করে, বাঙালি বিয়েতে মাটন বিরিয়ানি আর হাক্কা নুডুল থাকুক কিন্তু ঝর্ণা ঘি সুরভিত আর আধ চেরা কাঁচা লঙ্কা শোভিত আলুপোস্তও যেন দূরে না থাকে। '

দূরে তখন কারা যেন বাজিয়ে দিয়েছে " ভাজল তোমার আলুর মেনু......."

- অভিষেক বোস

Thursday, October 11, 2018

ইনকিলাব জিন্দাবাদ

মিঠুন চট্টবট্টি - র ফ্যান ছিলাম আমি আর আমার মত বালখিল্যবাহিনীরা , তখনও চক্রবর্তী বলতে শিখিনি। আর মিলে সুর মেরা তুমহারা দেখে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম মিঠুন, বচ্চন আর জিতেন্দ্র র বন্ধুত্ব খিচুড়ির সাথে অমলেট এর মতো। আমাদের বাড়িতে একটা ভিসিপি ছিল আর তাতে প্রতিদিন একটা করে সিনেমা দেখা হত। একদিন পুকার চালানো হল। "রনি" অমিতাভকে দেখে তখন চট্টবট্টি একটু দূরে সরে গেছে। এরপরে একদিন কালা পাথ্থর দেখলাম, চাষনালা-র কয়লা খনির মজদুর বিজয় যখন বলে উঠল "Pain is my destiny and I can't avoid it" তখন বচ্চন আমার বুকে বসে গেছে। এরপরে একদিন  অনেক রাতে "ম্যায় আজাদ হু" দেখতে দেখতে প্রথম রাত জেগে সিনেমা দেখতে শিখলাম।  খালি পেটে ক্ষিদের জ্বালায় আজাদ যখন রাস্তায় আপেলের দিকে তাকিয়ে থাকে  তখন বোঝা যায় সহজাত অভিনয় কাকে বলে। কোনো সংলাপ নেই, কোনো হাত পা নাড়ানো নেই, শুধু অভিব্যক্তি!
৯০ এর দশকে যখন ABCL এর দেনায় ডুবে অমিতাভ মিরিন্ডার বোকা বোকা কমার্শিয়াল করছে আর বঢে মিয়াঁ ছোটে মিয়াঁ আর লাল বাদশাহ্ মার্কা সিনেমা করছে খুব মন খারাপ হত। একসময় অমিতাভ বলেছিল কোনোদিন ইডিয়ট বক্সে আসবে না, যেখানে রিমোট দাবিয়ে সুইচ অন অফ করা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অমিতাভ টিভি কমার্শিয়াল করেছিল ( দেনায় ডুবে যাওয়ার আগে)। প্রসঙ্গতঃ অমিতাভ যেই কোম্পানির জন্য প্রথম টিভি অ্যাড করেছিল আজ আমি সেই কোম্পানিতেই চাকরি করি।
১৯৬৯ সালে মৃনাল সেন এর ভুবন সোম দিয়ে প্রথম সিনেমায় আত্মপ্রকাশ আর খুদা গাওয়া সিনেমা র শুটিং এ এসে আফগানিস্তান এর অর্ধেক বিমান বাহিনী অমিতাভ এর সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত। দেশের বাইরে এতটা ভালোবাসা, সম্মান সম্ভবত রাজ কাপুর ছাড়া আর কেউ কোনোদিন পায়নি।
এরপরে মাঝখানে কুড়ি বছর কেটে গেছে। একদিন রাজা বলল আজকে মলে অমিতাভ আসবে, যাবে দেখতে? রাজা জানে আমার মুখ থেকে 'না' বেরোনোর কোনো সম্ভাবনায় নেই, তাও একটা খচ্চরের মতো হাসি হেসে জিজ্ঞেস করল "যাবে?"।
বিকেল ৫.৩০ টায় পৌঁছনোর কথা ৩.৩০ টায় পৌঁছে গেছি। এরপরে আগামী দুঘন্টা শুধু ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। খবর ছিল নীচ থেকে উপড়ে উঠে আসবে কিন্ত শেষ মুহূর্তে সিকিউরিটি র দায়িত্বে থাকা অফিসার গোটা ব্যাপারটা টা উল্টে দেয়। বাইরে পার্কসার্কাস এ তখন দূর্গাপূজার মতো ভীড়। রাজা এসে খবর দিল ' উপর থেকে নীচে নেমে আসবে, এখানেই এসকেলেটর এর পাশে দাড়াও'। ঠিক তিন মিনিট কিন্তু মনে হল তিন যুগ কেটে গেল। তারপরে নেমে এল অমিতাভ ইনকিলাব বচ্চন। মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন দেখছি। পাশে তাপসী পান্নু আর সুজিত সরকার কিন্তু আমার চোখ তখন থেমে গেছে। যেভাবে থেমে গেছিল ম্যায় আজাদ হু র আজাদের চোখ ঐ আপেল টা কে দেখে। কপিরাইট মার্কা ফোটো তুলতে না পারলেও খুব একটা খারাপ ফটোগ্রাফি করি না অথচ পাঁচ হাত দূরে দাড়িয়ে থাকা 6 ফুট লম্বা লোকটার একটাও ফোটো ঠিক করে তুলতে পারলাম না। Ultra HD 4K smart phone, picture stabilisation  but i was shivering inside and couldn't manage single good shot.
  রাজা বলেছিল আমার সব অফিসের বন্ধুরা বলছিল তোর দাদার চোখে জল এসে গেছিল। আবেগ চেপে রাখা খুব মুশকিল,  ভাবতাম সারা জীবনে একবারও কি আমি চোখের সামনে দেখতে পাব আমার নায়ক কে!?
পরে রাজা বলেছিল প্রিমিয়ার শো তে ওর অফিসের বন্ধুরা একদম আশে পাশের সিটে বসে কথা বলেছিল, আমি থাকলে আমিও কথা বলতে পারতাম। একটুও আক্ষেপ হয়নি। ঐটুকু দূরত্ব রেখে দিতে চাই, কিছু স্বপ্ন বাস্তব না হওয়ায় ভালো, অনুভূতি টা আরও গভীর হয়।
Happy Birthday Living Legend !!


— অভিষেক বোস

Thursday, July 5, 2018

নেইমার, মন মানে না আর Uber Pool


নব্বই এর দশকের বুম্বা দা অভিনীত 'মন মানে না সিনেমা' টা না দেখে থাকলে পোস্ট টা বোঝা যাবে না।

১৯৯২ সালে একটা বাংলা সিনেমা এসেছিল নাম 'মন মানে না'। পরে এর একটা হিন্দি রিমেক ও হয়েছে ' দুলহন হম লে যায়েঙ্গে' । সিনেমার রিভিউ অথবা গল্প নিয়ে কিছু বলতে বসিনি। শুধু সিনেমার নায়িকা শিল্পা দাস (চরিত্রের নাম শিখা) কে জানলেই চলবে। তো শিখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যাকাশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী। সিনেমা তে শিখা অনাথ। তিন মামা রবি ঘোষ, অনুপ কুমার আর চিন্ময়ের কাছে মানুষ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিখা যখন "জানেন তো আমার না, মামারা ছাড়া আর কেউ নেই" বলে একটা ঘেউ মানে ডায়লগ ছাড়ে , বিশ্বাস করুন শতাব্দীর সেরা ন্যাকামি ছত্রিশ বার স্যালুট ঠুকে।

এবার গল্পে ফিরা যাক। উবার পুলে অফিস থেকে ফিরছি। পেছনে দুজন মহিলা সহযাত্রী। নিজেদের মধ্যে গল্পে মশগুল। এভাবে কারও গল্পে আড়িপাতা ঠিক নয়, কিন্তু প্রথম শব্দগুচ্ছ মুখ থেকে পড়ার সাথে সাথে চমকে উঠলাম " এ তো মন মানে না র শিখা! ' হুবহু এক গলা। এরপর বান্ধবীর উত্তর কানে এল। কিন্ত ইনি শিখার আরো তিন কাঠি উপরে, একেবারে বহ্নিশিখা।  এরপর যা যা কানে এল, এখানে তুলে দিলাম  ( পড়ার সময় শিখার মতো সুর করে পড়তে হবে কিন্তু)

শিখা :  কি রেএএএ! তোর ক্যামেরায় এত খচ খচ আওয়াজ হয় কেন?
(বহ্নিশিখা নিজস্বী মোডে একের পর এক টপাটপ ফোটো তুলে চলেছে )

বহ্নিশিখা : আরে আমি কতোওও চেষ্টা করলাম, কতো সেটিং চেঞ্জ করলামম্। কিছুতেইই অফ করা যাচ্ছে না

( একবার মনে হল জানিয়ে দিই। অনধিকার চর্চা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করলাম, ভাবলাম Your  setting is your setting... None of my setting, আমি বরং গল্প মন দিই)

বহ্নিশিখা: জানিস তো কাল ব্রাজিল জিতে গেছে।
শিখা      : তাই নাকি, ব্রাজিল জিতে গেছে। আমি আগেই জানতাম ওরাই জিতবে, ফুটবলে ওরাই জিতে।

বহ্নিশিখা : হ্যাঁ। আর জানিস একটা নেইমার আছে, ও শুধু গড়াতেই থাকে, গড়াতেইই থাকে! (সাথে খিলখিল হাসি)

শিখা : কেন? কেন ও ওরকম করে গড়াতে থাকে?
বহ্নিশিখা : সেসব জানি না বুঝলি। কিন্তু ও না শুধু গড়াতেই থাকে, একটু টোকা খেলেই গড়াতেই থাকে আর গড়াতেই থাকে।

ততক্ষণে আমিও গড়িয়ে থ্থুড়ি গড়িয়া চলে এসেছি।
নেইমার তখনও গড়িয়েই চলেছে.......

- অভিষেক


Thursday, March 22, 2018

অ্যাপার বাংলা - ২০২০

অ্যাপার বাংলায় একটা ছোট্টো শহরের তস্য ছোট্ট গলির ভিতর, একেবারে শেষ মাথায় যে বাড়ি সেখানে সামনের মাসে বিয়ের অনুষ্ঠান। প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্ব, হৈ চৈ ব্যাপার। ক্যাটারিং এর বিশু ঘোষ হাটু নাচাতে নাচাতে বলল "প্রবীর দা একবার চেক করে নিয়েই ফাইনাল হিসেব টা বলুন, ২৫-৫০ কম-বেশি বিশু ঘোষ যখন তখন ম্যানেজ করে দিবে কিন্তু এর বেশি-কম হলে হেব্বি চাপ হয় দাদা"। প্রবীর বিশ্বাস বিশ্বস্ত মোবাইল টা বের করে UNESCO - র বিচারে সেরা অ্যাপ বাংলাদেশের bn.quizstar এ গিয়ে একটু আঙুল চালিয়ে দেখে নিল "আসুন দেখে নি আপনার মেয়ের বিয়েতে কতজন নিমন্ত্রিত আসবে?" .....   নিমেষে উত্তর এল ৫৬৮। ব্যাস আর কোনো চিন্তা নেই।  প্রবীর বিশ্বাস একটা প্রসন্ন হাসি হেসে বলল " বিশু তুমি ঐ ৫৫০ মতো প্লেট কোরো।"

উপরে তখন প্রবীর দার মেয়ে বেবি তামাশা অ্যাপ এ চেক করে নিচ্ছে "আসুন দেখে নি বিয়ের দিন আপনাকে ঠিক কতটা ডানাকাটা দেখাবে.." উত্তর না-পসন্দ হওয়ায় তিনবার চেক করা হয়েছে, কিন্তু বাওয়া এ হল UNESCO র বিচারে সেরা অ্যাপ। ভুলের কোনো জায়গায় নেই।

অ্যাপার বাংলার অন্য শহর গুলোতেও ছবিটা একই রকম। অ্যাপ এই দেখে নেওয়া যাচ্ছে সপ্তাহে কোনদিন চুল কাটলে আপনাকে হেব্বি শেয়ানা লাগবে? আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মিলিয়ে কোন বাংলা সিরিয়াল দেখা উচিৎ  আমলকী না হরিতকী? এই মার্চ মাসে ঠিক কোন শব্দ গুলো আপনার মুখশ্রীর বর্ননা দিবে? অফিসে আপনার ঠিক কোন পশুর মতো অবস্থা ?  এইসব নিত্যপ্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্নের ফটাফট রেজাল্ট এখন bn.quizstar থেকে শুধু এক ক্লিক দূরে।

এইসব তো ছোটখাটো ব্যাপার। Pro Version এ  'জেনে নিন আপনার খিদে পেয়েছে কি না?' থেকে শুরু করে 'আপনি স্বামী ঠিক কতটা হারামির হাতবাক্সো' এইসব অপশন এখন জলভাত। আগামী মাসে শনির বলয়ে যে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো হচ্ছে, বিজ্ঞান উপদেষ্টা মন্ত্রক থেকে অ্যাপ দেখে নিয়েই পাঠানো হচ্ছে যে ঠিক কোন তিথিতে ছাড়লে সাফল্য নিশ্চিত।

আজ থেকে দুবছর আগেও Beta Version এ শুধু দেখে নেওয়া যেত "দেখুন পরিবারে কে আপনাকে ভালোবাসে,  অথবা 'আপনি ঠিক কতটা স্মার্ট' এইসব টুকিটাকি জিনিস। কিন্তু এই দু’বছরে বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ প্রভূত উন্নতি করেছে। ডেটলের মতো ৯৯.৯৯% নির্ভুল bn.quizstar অ্যাপ এখন Regular পতি থেকে Irregular পটি সব প্রশ্নের জবাব।

তবে অ্যাপার বাংলাও খুব পিছিয়ে নেই। সনাতন সাহা থেকে হরিপদ রাহা যে কোনো কারো পোস্টে BFF লিখেই ঝালিয়ে  নিচ্ছে Facebook এর safety parameter । Run লিখে দেখে নিচ্ছে কি করে Still Photo র ট্রেনটা চলতে শুরু করল।এছাড়া মা কে ভালোবাসলে পোস্ট টি শেয়ার করুন জাতীয় প্রতিযোগিতায় অ্যাপার বাংলার নাম সবার উপরে। আচ্ছা এতক্ষণ ধরে যারা ভাবছেন আমি এপার বাংলার বানান ভুলে মেরেছি তাদের কে জাস্ট জানিয়ে রাখি  অ্যাপ এর প্রতি এই আসক্তির জন্য যিনি সবকিছুর নামকরণ করেন উনি নাম রেখেছেন "অ্যাপার বাংলা"।

(চলবে....)

- অভিষেক বোস