Wednesday, August 17, 2016

জয় এর বৌ এর ফর্দ

 সকাল থেকে বাড়িতে হৈ হৈ কান্ড । তিরিশ কিলো ইলিশ আনা হয়েছে,  গাদা পেটি মিলিয়ে নিদেনপক্ষে ২৫০ খানা পিস্ আছে । গোটা ছয়েক পাঠার ঝোল হবে, আঠারো  কেজি চিতল মাছ, সাতাশ কিলো আলুর দম, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, শেষপাতে ভাইদের পছন্দের মিষ্টান্ন, এলাহী কান্ড ৷  বৌয়ের ফরমায়েশি ফর্দ জোগাড় করতে গিয়ে জয়দ্রথের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে ।(এর মাঝেই জয়দ্রদথের ছোট ছেলে সুরথ গন্ডা খানেক সন্দেশ সাবরে দিয়েছে।)  নেহাত্  রাজবাড়ির ব্যপার,  শুধু ঐ পদ্মার ইলিশটা যা এই সিন্ধু প্রদেশে পাওয়া যায় না । তবে আপ্যায়নে কোনও খামতি থাকবে না । বৌয়ের একশ ভাই,  এক সৎ ভাই আর পাঁচ কাকাতো ভাই,  সব মিলিয়ে একশ ছয় জন ভাই নিমন্ত্রিত । বড় শালা দুর্যোধন , সৎ শালা যুযুৎসু  আর কাকাতো বড় শালা যুধিষ্ঠির প্রায় সমবয়সী, কাকে আগে বসানো হবে তা নিয়ে একটা গন্ডগোল বাঁধতে পারে । মেজ শালা ভীমকে নিয়ে আর এক চাপ, ব্যাটা আগের বার তিন কিলো ময়দার লুচি শুধু নারকোল কুচি দেওয়া ছোলার ডাল দিয়ে জাস্ট উড়িয়ে দিয়েছিল।  অর্জুনের দৃষ্টি! সে এক জিনিষ , ইলিশের পেটি ছাড়া নজর কোনোদিকে নড়বে না।  আর নকুল সহদেবের মধ্যে গুলিয়ে আগের বার দু'বার নকুল কে পান্তোয়া দিয়ে দিয়েছিল, এদিকে বড় শালা যুধিষ্ঠির সে কথা জয়দ্রথকে জানাতেই কৌরবের দল গন্ডগোল শুরু করে দিল । বিকর্ন  ভালো মানুষ থামানোর চেষ্টা করছিল এদিকে দুঃশাসন সুযোগ বুঝে জয়দ্রথের মানি ব্যাগ নিয়ে হাওয়া। সন্ধ্যার আগেই এদের বিদেয় করতে হবে নইলে মামা শ্বশুর ঠিক শোবার ঘরে এসি চালিয়ে জুয়ার ঠেক বসিয়ে দিবে। সেসব পরে দেখা যাবে । এখন আপাতত একটা গোটা চন্দন গাছ, এক ঝুড়ি দূর্বা ঘাস আর কেজি দশেক ধান আনা হলেই দুঃশলার ভাইফোঁটার সব আয়োজন হয়ে যাবে ।

- অভিষেক বোস 

Sunday, August 14, 2016

স্বাধীনতার রঙ সবুজ আর সাদা কালো

না ভাই! কোনও স্বাধীনতা স্বাধীনতা অনুভূতি আসছে না।  না, অফিস নিয়ম মাফিক ছুটি রয়েছে, বাড়ির পাশের স্কুলে লতা মঙ্গেশকরের গান, ফেসবুকে স্বাধীনতা থিম, Happy Independence আর  same to you , আমরা কি সত্যিই স্বাধীন জাতীয় আলোচনা, এমনকি দুদিন আগে থাকতে টিভিতে 'তিরঙ্গা' টেলিভাইস হওয়ার নোটিশ অব্দি দিয়ে দিয়েছে।  ভি আই পি রোডে গাড়ির আওয়াজ কম, আমার নিজের কিচেন থেকে আর আশপাশের ফ্ল্যাট থেকে  ইলিশ আর মাংসের  গন্ধ মিলেমিশে একাকার। সব জায়গার জিনিষ জায়গায় তবু স্বাধীনতার দিন বড্ড স্বাদ হীন।  

আসলে গত  ২০ বছর ধরে ১৫ই অগাস্ট মানেই সবুজ মাঠ, সাদা কালো বল, সারাদিন ফুটবল টুর্নামেন্ট, অঝোরে বৃষ্টি আর সবুজ মাঠ থেকে  কাদা মাখা জার্সি গায়ে বাড়ি ফেরা। প্রথম প্রথম মাঠের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম আর ভাবতাম কবে যে মাঠের ভেতর থেকে এই বাইরের লোকদের দিকে তাকাব!  

গো-ও-ও-ল  আওয়াজের সাথে সাথে আদ্ধেক দর্শক মাঠে ঢুকে যেত, লাইন্সম্যান আর রেফারি আবার সবাইকে বাইরে বের করে খেলা শুরু করত তবে টাই ব্রেকারের সময় প্যারামিলিটারিরও ক্ষমতা থাকত না যে জনগনকে আটকে রাখবে।   

আমার অবশ্য গোল হওয়ার থেকে সেভ হওয়া দেখতে বেশি ভালো লাগতো। ভবিতব্য!  এরপর যুবভারতী ফুটবল ক্যাম্পে ভর্তি হয়ে বছর দুয়েকের মধ্যেই এমন লায়েক যে মাঠে নামতে আর তর সইছিল না।  কিন্তু ক্যাম্পের অলিখিত নিয়ম যে এইসব পাড়াতুতো টুর্নামেন্ট আর খেপ খেলা যাবে না, তবে আমাদের আক্ষেপ ছিল না, লুকিয়ে চুরিয়ে সংক্ষেপে ঠিক খেলে নিতাম।  ক্যাম্পে আমার প্রথম বন্ধু কৌশিক আর সিদ্ধার্থ (লালু ) (আমার চোখে দেখা তিনজন ভালো স্ট্রাইকারের মধ্যে লালু একজন,  যেমন স্পিড, তেমনি ড্রিবল আর তেমন স্কিল )। কৌশিক বছর খানেকের মধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে দিল, থেকে গেলাম আমি আর লালু। 

এরকমই একটা ১৫ই অগাস্ট ওলাঙ্গা (ভালো নাম মনে নেই) এসে বলল বুড়াবুড়ি তলার মাঠে টুর্নামেন্ট আছে যাবে? আমি আর লালু একপায়ে রাজী।  নায়ার, তমাল, দুটো ট্রাইবাল স্টুডেন্ট আরও অনেকে হাত তুলল। স্কুলের ফার্স্ট বেঞ্চের মতই ক্যাম্পের সুবোধ বালকরা অবশ্য পিছিয়ে গেল।  

অতএব উক্ত ১৫ই অগাস্ট সকাল ৭.৩০ টার মধ্যে কিট্স আর বুট নিয়ে রেডি। সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু আর আকাশ কালো দেখে ভয় পেয়ে গেলাম, মোবাইল ফোন এর যুগ নয়, তাই সাইকেল নিয়ে সোজা লালুর বাড়ি, ওকে তুলে নিয়ে বাকি সবাইকে তুলতে তুলতে পৌঁছে গেলাম বুড়াবুড়ি তলার মাঠে। ততক্ষনে ভিজে চুপচুপে অবস্থা আর মাঠে গিয়ে দেখি ও হরি!  মাঠ কোথায় পাশের বিলের জলের সাথে মিশে পুরো জলাশয়, এক হাটু জল। 

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে বল ভাসলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়, অতএব খেলা বন্ধ।  অন্য কোনো মাঠের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ঠিক কোনো না কোনো টিমে জায়গা হয়েই যাবে কিন্তু আমরা নাছোড়বান্দা এসেছি যখন খেলেই যাব।  এরপর এক হাটু জলে নেমে পড়লাম।  আমি আর লালু জায়গা বদলে নিলাম , লালু গোলকিপার আর আমি ফরোয়ার্ড। ৯০ মিনিট সাতার কাটার পর আর কোনো খেলা হল না।  টুর্নামেন্ট শেষ, আবার আমরা অন্য মাঠে ভালোমানুষের মতো দাঁড়িয়ে থাকতেই একটা ক্লাবের দাদা বলল কি রে খেলবি? 
খেলব না আবার!  আবার নেমে পড়লাম আর সন্ধ্যাবেলা কাদা মেখে হেরে বাড়ি ফিরলাম। 

এরপরে আমি আর লালু অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছি, মালদার সব ভালো টুর্নামেন্ট, মালদার বাইরেও ডিস্ট্রিক্ট টিমের হয়ে কখনও কলকাতা কখনও কোচবিহার ।  কখনও এক টিমে আর কখনও অপোনেন্ট টিমে। আমার স্বাধীনতার রং সবসময় সবুজ আর সাদা কালো। বাড়ির বাইরে প্রথম যেদিন রাত কাটালাম সেটা পিকনিক এর জন্য নয় নাইট টুর্নামেন্ট খেলব বলে।  প্রথম বাড়ির লোক ছাড়া যেদিন কলকাতা যাওয়ার ট্রেনে উঠলাম  সেদিনও আমার সাথে ছিল আমার টিম আর লালু , এরপর একদিন কি জানি কেন মাঠছাড়া হয়ে গেলাম! সবুজ মাঠ কখন ধূসর হয়ে গেছে মনে নেই, কিন্তু ১৫ই অগাস্ট খেলার মাঠ  আর সাদা কালো বল এখনও হাতছানি দেয়।  

— অভিষেক বোস 


Sunday, August 7, 2016

হাওয়া বদল ২

যাক্ ছুটিটা শেষমেশ হয়েই গেল ।  পুজোর ছুটির থেকে কম কিছু আনন্দ না, তবে আর দু'চারটে কথা না বললে গল্পটা শেষ হবে না। 

আগেই বলেছি প্রথম দিনেই জানিয়ে দিয়েছিলাম "থাকব না কো বদ্ধ কেবিনে "। সার্জারির পর চারজনের সাথে ব্যবস্থা হল।  একটা বুড়ো ছিল যার স্ত্রী এই হসপিটালেরই ডাক্তার। উনি ওনার স্ত্রীর হাতে ছাড়া খেত না।  মজাদার লোক, তবে খুব কম কথা বলেন আর চোখাচোখি হলে একটা মিস্টি হাসি হেসে থাকান। মনে হয় খুব খারাপ কিছু হয়েছে।  তবে না হলেই ভালো। 

আর একটা বাচ্চা ছেলে, এই বছর দশেক বয়স। ইটালি তে ওর মামা থাকে আজ রবিবারে বিয়ে।  বেচারা গত চার মাস ধরে রেডি হচ্ছিল, নিজের হাতে শেরওয়ানি বেছে নিয়েছিল আরও কত কি প্ল্যান! বুধবার রাতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে আর ডাক্তার আসলেই জিজ্ঞেস করছে কাল ছাড়া পাবে কি না? 

আর একটা কলেজ স্টুডেন্ট ওরও ডেঙ্গু। খালি ফোন নিয়ে বসে থাকে আর মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যায়।   পরের সপ্তাহে বন্ধুদের সাথে গোয়ার প্ল্যান ছিল।  পুরনো বন্ধু, সবাই অন্য অন্য শহরে থাকে।  অনেকদিন পর দেখা হওয়ার কথা ছিল!

আর এক বুড়ো সারাদিন ধরে বকেই চলেছে।  ছেলে কখনও অক্সফোর্ডের স্টুডেন্ট তো কখনও অ্যাপোলোর ডাক্তার , একটু আগে অবশ্য ক্যাটারিং এর ব্যবসা বললেন।  ওনার শখ হাতে ব্লেড নিয়ে ঘুরবেন আর মেয়েদের ভ্যানিটি ব্যাগ কাটবেন।  কেন জানতে চাইলে বলছেন '' কেন মেয়েরাই শুধু ছেলেদের পকেট কাটতে পারে না কি !? ব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য রক্ষা আর কি!  বুড়োর পটাশিয়াম ইমব্যালেন্স হয়েছে।

আর একটা নাইটেঙ্গেল ছিল।  বিকেলে আসত। হাসি মুখে সবকটা কে সামলাত।  কাউকে বকে ঝকে আর কাউকে গল্প বলে।

আর একজনের সাথে দেখা হল।  ছেলেটা ফুটবল খেলতে ভালোবাসতো।  একসময় SAI এ চান্স পেয়ে পড়াশুনা ছেড়ে দেবে ভেবেছিল।  আটবছর আগে লাস্ট টুর্নামেন্ট খেলেছিল এবার 15th অগাস্ট আবার ম্যাচ খেলবে ঠিক করে রেখেছিল। একটু বেশি বিগড়ে যাওয়ায় আর মাইক্রো সার্জারি সম্ভব হয়নি,  মাঝপথে ওপেন  করতে হয়েছে।দুদিন ল্যাপ্রোস্কোপিক সার্জারি ভেবে খুব লাফালাফি করেছে, ছাড়া পাওয়ার একটু আগেই জানতে পারে সব মিলিয়ে ৯ খানা সার্জিকল স্টেপল লাগিয়ে দিয়েছে । সার্জারির পর এখন বেশ কিছুদিন একদম নড়াচড়া বারণ তাই হসপিটাল থেকে ছাড়া পেলেও এবারও আর মাঠে নামা হল না।

বাকি দুনিয়া, আগের মতোই চলছে .......

- অভিষেক বোস

Friday, August 5, 2016

হাওয়া বদল

চার পাঁচ বছর আগে আমার এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল।  পরদিন ওর বাড়ির অনুষ্ঠানে যাব কি না, আর একবার নিশ্চিত হতেই ফোন করেছে। বাইরের গেটটা খুলে বেরোতে বেরোতে কানে ফোন চাপা দিয়ে বললাম "99% আসছি"।  1% নয় কেন?  উত্তর দেওয়ার আগেই এক সারমেয় দিল ঘ্যাঁক করে পা'য়ে বসিয়ে।" আর আসতে পারব না " বলেই বসে পড়লাম, বেশ খানিকটা রক্ত বেরোচ্ছে কিন্তু তখনও মাথায় চলছে 1% নয় কেন?  মনে মনে বললাম " এই জন্য "। 

গত তরশু দিন আমার বোন জামাইকে দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে আনার সময় সবাইকে এইসব বেসরকারি হাসপাতালে ছুলে কেমন বিয়াল্লিশ ঘা হয় সবিস্তারে বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম।  (শুধু কলকাতা কেন পূর্ব ভারতের যে কোনো বড় হসপিটালে আমার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। )

সেই আমিই কপাল ফেরে পরদিন বিকেলে উত্তর কলকাতার এক নামী হসপিটালে ভর্তি (সৌজন্যে আমার অফিস মেডিক্লেম, না থাকলে এক্ষুনি করে রাখুন, দু দিনে ৮০ হাজার খসিয়ে দিয়েছে আরও খসাবে )।   প্রথমে এমার্জেন্সি, সেখানে এই ডাক্তার একে ওকে ফোন করছে আর কনসাল্ট করছে আর আমি বেশ রুগী রুগী সেজে শুয়ে আছি। প্রসঙ্গত বেডে শোবার পর থেকেই বেশ সুস্থ বোধ করতে শুরু করলাম।  আমার কলিগ যে সারাদিন ধরে আমাকে নিয়ে নাজেহাল বোধ করি ঔ সুস্থ বোধ করতে শুরু করে।  আমার বন্ধু ভাগ্য ইর্ষনীয়।  ততক্ষণে আমার  বন্ধুরাও এসে হাজির।  এরপরে ওয়ার্ডে শিফ্ট করার পর পরীক্ষা শুরু।  জীবনে অনেক পরীক্ষা দিয়েছি, কোনো কোনো পরীক্ষায় তো পাশ মার্কস নিশ্চিত বুঝলেই এক ঘন্টায় পেপার জোর করে জমা দিয়ে এসেছি।  কিন্তু এই পরীক্ষায় কোনো ছাড় নেই।  কর্মসূত্রে আমি একটা বহুজাতিক মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে আছি। Ultrasound, Echo Cardiography,  Pulse Oximeter,  ECG,  Aneasthesia Workstation যে সব বস্তুর সাথে আমি রোজ খেলি আজ তারাই আমার সাথে খেলতে শুরু করল। 

কর্পোরেট হাসপাতালের সব ভালো কিন্তু ব্যাটারা পাশবালিশ দেয় না আর কথা বলতে দেয় না। (আমি কিন্তু মিষ্টি মিষ্টি মুখ করে একটা এক্সট্রা নধর পিলো জোগাড় করে ফেললাম )

রাতে ডাক্তার এসে বলল অ্যাপেন্ডিক্স আছে কাল বিকেলে সার্জারি।  সকাল থেকে আমি দাবি জানিয়ে আসছি এরকম ব্যাথা আমার এর আগেও একবার একবছর আগেও হয়েছে, সকালে সে কথা জানিয়ে অন্য একটা ডক্টরের কাছে তিন তিন খানা পরিচিত ইঞ্জেকশন আদায় করে নিয়েছিলাম তাতে ব্যাথা বিন্দুমাত্র কমেনি দেখে বিকেলে নিজেকে হসপিটালে সপে দিলাম।

বুঝলাম অভিষেক তুমি ইক্যুইপমেন্ট বোঝ, অ্যাপ্লিকেশন বোঝ কিন্তু নিজের শরীর বুঝতে তোমার ঢের বাকি। ডাক্তারি টা তোমার কম্মো নয়।
(আপনারাও গুগল ডাক্তারি ছেড়ে দিন আর শরীর খারাপ হলে যতই ডাকাত ডাকাত মনে হোক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন )

তাও বললাম Are you sure Doctor?

Ofcourse I'm sure. Still we will wait for the USG Confirmation.  Are you scared my Boy? 

Not at all.  I've attended hundreds of OT but in a different role.

অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি ভাবে?

বললাম Live OT তে Training দিতে অথবা Technical Evaluation এর জন্য প্রায়ই থিয়েটারে ঢুকতে হয়।

"See you tomorrow" বলে হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলেন। 

কলকাতার প্রাচীন প্রবাদ,  এখানে থাকলে অন্তত একবার পক্স, ম্যালেরিয়া, জন্ডিস,  হসপিটালে প্রবেশ আর সার্জেন্ট এর কাছে গাড়ি নিয়ে  ধরা পড়তেই হবে (ঘাবরাবার কিছু নেই Any One of them, All of them নয়)

রাতে সিস্টার এসে বলল এখনই ঘুমোলে চলবে না আরও রক্ত দান করতে হবে। মনে মনে বললাম আপনি জানেন না ম্যাম আমার পূর্ব পুরুষ বাঁদর নয়, বাদুর)

বললাম ঠিকই কিন্তু খাসা ঘুমোলাম, একেবারে সকাল সাতটায় ঘুম ভাঙল। 

ফোন টা জোর করে রেখে দিয়েছিলাম।  আমার বন্ধুরা মোরাল সাপোর্ট জুগিয়ে চলেছিল।'  যেন প্রয়োজনে একসাথে ঢুকব, চিন্তা করিস না।  '

চিন্তা একটাই ছিল ওপেন সার্জারি যেন না হয় নইলে কাঁথা স্টিচ শিল্প কর্ম নিয়ে ঘুরতে হবে।  মাইক্রো সার্জারি টাই ভালো যাকে বলে গিয়ে সূক্ষ্ণ শিল্প কর্ম। 

দুপুর থেকেই আমার এত বছরের সঞ্চয়রা আসতে শুরু করল মানে আমার বন্ধু বান্ধব।  বোন এসে দাড়িয়ে রয়েছে আর অভয় দিয়ে যাচ্ছে। মা বাবা মালদা থেকে রওনা হয়ে গেছিল, অনেক পরে জানতে পারলাম। 

অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার আগে মা বাবা একবার দেখতে চাইছিল, বোঝানোর চেষ্টা করলাম এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। হাজার হোক মা বাবা।  এক স্টাফ এসে তাড়া দিল নিয়ে চলুন, এক সহৃদয় সিস্টার নরম সুরে বলল ওর মা বাবা আসছে একটু দাড়িয়ে যাও।  উল্টো দিক থেকে উত্তর এল একটু আগে আসতে পারল না?  আমি একটু গম্ভীর সুরে বললাম "ওনারা মালদা থেকে আসছেন" ।  সিস্টার এবার জিজ্ঞেস করল আর কিছু বলবেন?  ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন। সার্জেন ভারী মিষ্টি লোক, বলল "তুমি একদম উত্তেজিত হয়ো না, যেরকম হাসি মুখে ছিলে ঐভাবেই থিয়েটারে ঢোকো। 

মা বাবার সাথেও দেখা হয়ে গেল। চারটের সময় লগ্ন ছিল পৌনে পাচটা বেজে গেল।  শেষে লগ্ন ভ্রস্টা না হয়ে যায়, চলুন বলে তাড়া লাগালাম।

আগেই বলেছিলাম অপারেশন থিয়েটারে শতবার এসেছি, কিন্তু স্ট্রেচারে চড়ে নয়।  মাথার উপর যখন LED OT লাইট জ্বলে উঠল, চেনা পরিবেশ অচেনা হয়ে গেল।  ডক্টর বলল এবার তোমাকে ECG ইলেকট্রোড লাগাব।  আমি উত্তর দিলাম Doctor I'm well aware of this set up..  Go ahead..  মাস্ক লাগিয়ে আস্তে আস্তে অক্সিজেন দিতে শুরু করল, ততক্ষণে আমার হাত পা বাঁধা পড়েছে।  এবারে সেভোফ্লোরেন এজেন্ট চার্জ করতেই নাকে গন্ধ এল, বুঝলাম এবার অজ্ঞান হওয়ার পালা।  আঙুল দিয়ে 10-9-8-7 ইশারা করছিলাম। 

মাথাটা ঝিম ঝিম করছিল সামনে মা বাবা বন্ধুদের আবছায়া মূর্তি দেখে বুঝলাম খেলা শেষ।  আমার কলিগদের সামনে আসতে দেখে জানালাম কিভাবে আমাদের কম্পিটিটর কোম্পানির ইক্যুইপমেন্টের কাছে আমি জ্ঞান হারালাম।  তখনও ঘোর কাটেনি তবে বেশ কানে আসল করে কম্ম গায়ে গতরে বেশ বড় হয়েছিল বেয়াদপটা একদিকে ফেটেই গেছিল আর দেরী করলে বড় বিপদ হত।  যাক সে সব কিছু হয়নি।  রাতে জেনারেল বেড এ দেওয়ার পর একটা পেশেন্টের মা ছিল, উনি জিজ্ঞেস করলেন তোমার সার্জারি হয়েছে না।  মাথা নাড়ালাম। উনি বাচ্চাটাকে বললেন দেখ দাদা টার অপারেশন হয়েছে বোঝায় যাচ্ছে না !! মানসিক প্রস্তুতি আর কি!   একটা চওড়া হাসি দিলাম।

ভর্তির দিন থেকে দু দিন আমার মুখ দিয়ে কোনও খাওয়ার ঢোকেনি জলও না।  শিরা উপশিরা গুলো কিন্তু বোতলের পর বোতল টেনে গেছে দু দিন দু রাত।  কিন্তু তাতে কি আর তেষ্টা মিটে? জিজ্ঞেস করলাম কাল টেংরি বেংরি পাওয়া যাবে কি না?  যা চোখ দেখাল মাথা নীচু করে একটু জল দাও না, একটু।   আবার উত্তর এল "না"।

কাল রাতটা বেশ বেগ দিয়েছে তবে আমার বন্ধুরা আর দাদা ভাই বোনরা অসাধারণ, একদম পাশে থেকেছে।  অন্তত বার পঞ্চাশেক বার হুমকি দিয়েছে WhatsApp এ ঘুমিয়ে পড়ার।  একবার তো বোন Facebook এ লিখেই দিল "ওরে তোর আজকেই অপারেশন হয়েছে একটু থাম।"

সব খারাপের একটা ভালো দিক থাকে, অনেককেই বলতে শুনি "বন্ধু একজন দু'জনই হয়, বাকি নাম কা ওয়াস্তে ।  ভুল। অন্তত আমি এত দুর্ভাগা নয়।

আরও একদিন এখানে।  তারপর কাল ছুটি। 

— অভিষেক বোস