Wednesday, June 29, 2016
ট্যাক্সি ড্রাইভার
Thursday, June 16, 2016
নিয়তি
ধুৎ, বিরক্ত করিসনা, অনেকটা রাস্তা পারি দিতে হবে ।
বল না, বাবা বলল এরপর আর হয়তো দেখা হবে না!
জিজ্ঞেস করলাম কেন?
বলল নিয়তি ।
মেজকা একটু চুপ করে আবার পায়চারি শুরু করল ।
খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে পুচকে টা কে আদর করে বলল শোন, যদি দেখিস কেউ আমাদের আটকে রেখেছে, আশপাশে আসবি না, আর যদি ধরা পড়ে যাস তবে ছটপট করবি, তোর মতো বাচ্চাদের ওরা আটকে রাখে না ।
এত বিপদ! তবে যাওয়ার কি প্রয়োজন ?
আমাদের যে জন্মই হয়েছে দূরে পাড়ি দেওযার জন্য, এটাই নিয়ম ।
সারা বছর লুকিয়ে থাকলেও, ভরা চাঁদের রাতে যখন পুবালি হাওয়া বইতে শুরু করবে তখন সব মায়া কাটিয়ে আমাদের বেরিয়ে পড়তে হবে, আজ অব্দি কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি ।
ভোর বেলা সত্যি হাওয়া বইতে শুরু করল, মা এসে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলল, চল এবার বেরিয়ে পড়ি । পথে যেতে যেতে পুঁচকে টা বুঝতে পারছিল নোনা হাওয়া ফিকে হয়ে মিষ্টি হাওয়া গায়ে এসে লাগছে, ঘোর বর্ষায় জল ছপছপ্ করতে করতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল কি সুন্দর গোলপানা চাঁদ । বাবাকে আর সত্যি দেখা যাচ্ছে না!
মা, বাবা কি অনেকটা এগিয়ে গেছে!!
নির্বিকার মুখে মা উত্তর করল, মন দিয়ে শোন আমিও হয়তো আর বেশিক্ষণ নেই, সামনেই
কোথাও ওরা অপেক্ষা করে আছে, সাবধানে থাকিস, মন খারাপ করিস না, তোকে দেখতে পেলেও ওরা ছেড়ে দেবে, থামবি না এগিয়ে চলবি, উল্টো দিক থেকে যত বাধায় আসুক, এগিয়ে যেতেই হবে, ফেরার সময় আর কোনও বিপদ নেই ।
মা, তুমিও আমার সাথে চল ।
মা র চোখ ছলছল করে উঠল ।
গলা বুজে আসছিল, তাও কষ্ট করে বলল কথা দে পরের বছর আবার যখন পূবালি হাওয়া বইতে শুরু করবে তখন তুই আবার এই পথেই আমাদের খুঁজতে বেরোবি ।
আমি আসব মা .... কিন্তু তুমি...
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই কারা যেন মাকে তুলে নিয়ে গেল ।
পুঁচকে টা ভয়ে কাঠ হয়েছিল, কারা যেন বলাবলি করছে “এতক্ষণে দেড় কিলো সাইজের মাছ উঠেছে, এগুলো কে আলাদা করে রাখ, এইসব ইলিশেরই তো দাম পাওয়া যাবে বাজারে ".............
- অভিষেক বোস
Saturday, June 11, 2016
শনিবার বনাম রবিবার
ইয়েস স্যার
আচ্ছা এই অ্যাঞ্জেল অন্ হর্সেস ব্যক্ এটা কিরকম?
স্যার ইট্স আ সেভারি, মেড্ অফ অয়েস্টার র্যাপ্ড উইথ বেকন ।
ওহ্ ! এটা ঝাল হবে?
স্যার, এটা মিডিয়াম স্পাইসি
না, তাহলে ছেড়ে দাও
(মেনু কার্ডের বাম দিক দিয়ে নামতে নামতে একটা পছন্দসই জায়গায় এসে সুবীর বাবু ডান দিকে চোখ তুলে নিয়ে গিয়ে দেখলেন আলুগোত্রীয় কিছু, আশে পাশের টেবিলে কিছুক্ষণ চোখ চালালেন)
তারপর হতোদ্যম হয়ে বললেন “আচ্ছা ১ প্লেট চিলি চিকেন আর ২ টো মিক্সড চাউমিন হাক্কা ।"
শীলা হাল্কা করে টোকা দিয়ে বলল আচ্ছা শোন 'এখানকার ডেভিলস ক্র্যাব আর চিকেন আ লা কিভ্ নাকি দারুণ খেতে'
হুমম্, আর একটা ডেভিলস ক্র্যাব দিও
স্যার ক্র্যাব দু পিস থাকবে
জানি, এক প্লেটই দাও আর একটা সালাদ্
(সুবীর বাবুর ছেলে রোহন সজল চোখ তুলে চাইতেই শীলা বলে উঠল আরে আমরা ভাগ করে খাব তো... )
স্যার জল রেগুলার না মিনারেল?
রেগুলার
চিল্ড্ অর রুম টেম্পারেচার?
নরমাল ।
শীলা জানো তো, এটা শহরের সব থেকে ভালো কন্টিনেন্টাল রেস্টুরেন্ট ।
খাওযাব় সার্ভ হতেই ৮ পিস্ চিকেন ৩-৩-২ ছকে সাজিয়ে খাওযাব় পর্ব শুরু করলেন দত্ত পরিবার ।
খাওয়ার পর্বে শেষ বাশি বাজার আগে সুবীর বাবু ইশারায় ওয়েটার কে ডাকলেন, ওয়েটার সামনে এসে দাড়াতেই কেতায় বলললেন 'বিল'
স্যার ডেসার্ট?
না (রোহন একবার আইসক্রিমের আবদার করতেই সুবীরবাবু চুপ করার ইঙ্গিত দিলেন )
তারপর গলা নীচু করে রোহন কে বললেন, এখানে বেশী দাম, বাইরে বেরিয়ে খাব ।
বাইরে বেরিয়ে বেমালুম আইসক্রিমের কথা ভুলে গিয়ে হাঁক ডাক করে ট্যাক্সি থামিয়ে বললেন 'পাইকপাড়া'
২০ টাকা এক্সট্রা
১০ টাকা দিব ।
দরদাম করে ট্যাক্সিতে উঠে শীলার দিকে তাকিয়ে বললেন 'শুধু বড় বড় নাম, সেই একই খাওয়ার, কাল রোববার বরং কচি পাঠার মাংস নিয়ে আসব, মুসুরির ডাল আর পোস্তর বড়া কোরো '
শীলা জানলার কাঁচ নামাতে নামাতে উত্তর করল “ বাঙালিদের মতো রান্না কেউ করতে পারে নাকি!! ? মনে করে টক দই নিয়ে এসো "
Monday, June 6, 2016
"যদিদং হৃদয়ং তব"
প্রশ্নটা যদি হয় কবে বিয়ে করছিস ,
আমার উত্তর হয় "এই বছর" ৷
এই বছর কবে ?
ডিসেম্বর
ছুটির দিন দেখে করিস কিন্তু !
নিশ্চয়ই , ২৫ শে ডিসেম্বর করব
ধুৎ! ২৫শে ডিসেম্বর বাঙালি বিয়ে হয় নাকি?
আমিঃ কেন হয় না ?
ঐ সময় তিথি নেই ৷
আমি :এত যে তিথি ,নক্ষত্র , ছায়াপথ,ধূমকেতু দেখে বিয়ে হয় তারপর কি অশান্তি হয় না ?
হয়৷
তাহলে?
পুরোহিত পাবি না?
কথাটা শুনেই আমার এক বন্ধুর গল্প মনে পড়ল ৷ বিয়ের সময় পুরোহিত এক একটা স্তোত্র পাঠ করছিল যার শেষ টা ছিল পথিকৃৎ দাসায় নমোঃ , আবার একটা স্তোত্র আর আবার পথিকৃৎ দাসায় নমোঃ ৷ বিরক্ত হয়ে বন্ধুটি পুরোহিত কে প্রশ্ন করেছিল '' ঠাকুরমশাই আমার নাম কিন্ত পথিকৃৎ সাহা , পথিকৃৎ দাস নয় ! (শেষে কোনও পথিকৃৎ দাসের সাথে বিয়ে হয়ে যায় !)
পুরোহিতের চটজলদি উত্তর এল "আমরা তো সবাই দাস বাবা ! ভগবানের দাস "
Damage Control কাহারে কয় !
— অভিষেক বোস
Thursday, June 2, 2016
কার্ড
সপ্তাহান্তে তিন দিন বিকেলে লোক বালক মহিলা বর্গ দল বেঁধে রেশন দোকানে যেত ।চাল, ডাল, লাইন টানা খাতা আর কেরোসিন তেল তোলা ছাড়াও লাইনে দাঁড়িয়ে খোস গল্প ছিল রেশন দোকানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ।



