"একটা বিকেল ছিল, না ভুল বললাম, অনেক গুলো বিকেল ছিল । বছর দশেক আগেও তো ছিল! এখন আর নেই! কি জানি হয়তো কোনও এক্স্পায়ারি ডেট ছিল, খেয়াল করে দেখা হয়নি ।
সকাল পেরিয়ে দুপুর, আর দুপুর শেষ হলেই আদরের বিকেল, চাতকের মতো বসে থাকতাম, কেননা সব নিয়মের বেড়ি কোন্ মন্ত্রবলে খুলে যেত । আমার পাড়ায় শিবমন্দিরের পাশে যে মাঠ টা আছে.... ওখানেই জড়ো হতাম, বিকেল বেলার মাঠটা কিন্তু ভীষণ রকম সেকুলার । কোন্ স্কুল, কোন্ ক্লাস, রোল নম্বর, কোন্ বাড়ির? অবান্তর প্রশ্ন নয় । বিকেল টা না থাকলে এরা অনেকেই হয়তো হারিয়ে যেত । সারাদিন ধরে যত বকুনি, সব বিকেলে খেলার মাঠে শেষ হয় ।
এরপরে যখন সাইকেল শিখতে শুরু করলাম তখন তো বিকেলবেলা মানেই টো টো কোম্পানি । ৭ দিনেই সাইকেল চালানোতে পোস্ট গ্র্যজুয়েট ডিপ্লোমা , আর আমার ট্রেনি থেকে ট্রেনারে প্রমোশন । গর্ব করে বলতে পারি আমার সমবয়সী বন্ধুরা আমার কাছেই সাইকেল শিক্ষা লাভ করেছে । ব্যালেন্স টা শিখে নিলেই সাইকেল টা আলতো করে ছেড়ে দিতাম, আর সাইকেল এ বসে থাকা আমার বন্ধু যখন বুঝতে পারত একাই চালাচ্ছে তখন আমার কেতা দেখে কে?
বিনিময়ে একটা নেতা গোছের সম্মান জুটিয়ে নিয়েছিলাম, এর মাঝখানে অবশ্য ক্রিকেট , ফুটবল চলছে । এরপরে পাড়ার দাদার নজরে পড়ে এ ফুটবল ক্যাম্প এ ভর্তি হলাম , বিকেল গুলোর সাথে প্রেমে পড়ে গেলাম, বাজি রেখে বলতে পারি বিকেলবেলাতেই শুরু হয়েছিল বাকিদেরও প্রেম । কেউ টিউশন ব্যাচ এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকত, আর কেউ মাঠের থেকে ছাদের দিকে তাকিয়ে । অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম সেইসব বন্ধুদের দিকে যারা বিকেলবেলায় পড়তে যেত । মনে মনে বলে উঠতাম আহা রে! বেচারাদের কি কষ্ট!
তবে বিকেলগুলো কিন্ত ছোট হতে শুরু করেছিল, বয়স হচ্ছিল তো, আমার আর আমার বিকেলের........
এখন অফিসের মধ্যে আর বিকেল বুঝতে পারিনা । এখন দুপুরের পর একেবারে সন্ধ্যা হয় ।
কোনোদিন যদি জীবনের চাওয়া পাওয়া আর হারানোর হিসেব করি, হারিয়ে যাওয়া বিকেল গুলো Suspense Account এ রাখব ।
- অভিষেক বোস


