সকাল থেকে বাড়িতে হৈ হৈ কান্ড । তিরিশ কিলো ইলিশ আনা হয়েছে, গাদা পেটি মিলিয়ে নিদেনপক্ষে ২৫০ খানা পিস্ আছে । গোটা ছয়েক পাঠার ঝোল হবে, আঠারো কেজি চিতল মাছ, সাতাশ কিলো আলুর দম, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, শেষপাতে ভাইদের পছন্দের মিষ্টান্ন, এলাহী কান্ড ৷ বৌয়ের ফরমায়েশি ফর্দ জোগাড় করতে গিয়ে জয়দ্রথের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে ।(এর মাঝেই জয়দ্রদথের ছোট ছেলে সুরথ গন্ডা খানেক সন্দেশ সাবরে দিয়েছে।) নেহাত্ রাজবাড়ির ব্যপার, শুধু ঐ পদ্মার ইলিশটা যা এই সিন্ধু প্রদেশে পাওয়া যায় না । তবে আপ্যায়নে কোনও খামতি থাকবে না । বৌয়ের একশ ভাই, এক সৎ ভাই আর পাঁচ কাকাতো ভাই, সব মিলিয়ে একশ ছয় জন ভাই নিমন্ত্রিত । বড় শালা দুর্যোধন , সৎ শালা যুযুৎসু আর কাকাতো বড় শালা যুধিষ্ঠির প্রায় সমবয়সী, কাকে আগে বসানো হবে তা নিয়ে একটা গন্ডগোল বাঁধতে পারে । মেজ শালা ভীমকে নিয়ে আর এক চাপ, ব্যাটা আগের বার তিন কিলো ময়দার লুচি শুধু নারকোল কুচি দেওয়া ছোলার ডাল দিয়ে জাস্ট উড়িয়ে দিয়েছিল। অর্জুনের দৃষ্টি! সে এক জিনিষ , ইলিশের পেটি ছাড়া নজর কোনোদিকে নড়বে না। আর নকুল সহদেবের মধ্যে গুলিয়ে আগের বার দু'বার নকুল কে পান্তোয়া দিয়ে দিয়েছিল, এদিকে বড় শালা যুধিষ্ঠির সে কথা জয়দ্রথকে জানাতেই কৌরবের দল গন্ডগোল শুরু করে দিল । বিকর্ন ভালো মানুষ থামানোর চেষ্টা করছিল এদিকে দুঃশাসন সুযোগ বুঝে জয়দ্রথের মানি ব্যাগ নিয়ে হাওয়া। সন্ধ্যার আগেই এদের বিদেয় করতে হবে নইলে মামা শ্বশুর ঠিক শোবার ঘরে এসি চালিয়ে জুয়ার ঠেক বসিয়ে দিবে। সেসব পরে দেখা যাবে । এখন আপাতত একটা গোটা চন্দন গাছ, এক ঝুড়ি দূর্বা ঘাস আর কেজি দশেক ধান আনা হলেই দুঃশলার ভাইফোঁটার সব আয়োজন হয়ে যাবে ।
- অভিষেক বোস

No comments:
Post a Comment