Friday, July 29, 2016

বড় মানুষ

"My 50th Blog submission dedicated to one of  my Favorite Author "


                      "My 50th Blog submission dedicated to one of my Favorite Author "


বছর দুয়েক আগের জানুয়ারির দ্বিতীয় দিনে অফিসের কাজ পড়ল , যেতে হবে মেঘালয়ে ৷ ঘণ্টা খানেকের কাজ ৷ ছবির মত সুন্দর মেঘ এর দেশে যেতে আমার আপত্তি নেই , কিন্তু বছরের প্রথমেই ! গজগজ করতে করতে রওনা হলাম ৷

ফেরার সময় আমার পাশে যে  সহযাত্রীটি এসে বসলেন তিনি  একজন নামজাদা ব্যাবসায়ী ,  টেক্ অফ করার আগে তিনি হাজার খানেক ফোন কল করলেন ,  আর ফোনের উল্টো প্রান্তের লোকেদের  প্রচুর বকা ঝকা করলেন ৷  এরপরে একটা ম্যাগাজিন তুললেন ,ছবি গুলোর উপর চোখ বোলালেন তারপর রেখে দিলেন ৷ এরপরে আমি কি করি জিজ্ঞেস করায় নির্লিপ্ত ভাবে উত্তর দিলাম 'চাকরী' , ভদ্রলোক একটু নিরাশ হলেন, কথাবার্তা না এগোনর ইঙ্গিত, তবু দমে না গিয়ে আবার বললেন পেছনের লোকটিকে চেনো ? না তাকিয়েই উত্তর দিলাম 'না' , মনে মনে ভাবলাম হবে কোনও কেউকেটা , আমার কি?

হাজার হোক্ বাঙালি তো পেছন ঘুরে তাকাতেই মুখ দিয়ে আর শব্দ বেরোল না', গলা নিচু করে পাশের লোকটিকে  বললাম " শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়" ! আরও একবার মাথা ঘুরিয়ে নিশ্চিত হলাম ৷   ভদ্রলোক স্মিত হেসে বললেন চেনো তাহলে?

আর কোনও উত্তর করলাম না, আমার ছোটবেলা জুড়ে রয়েছে পাতালঘর, ছায়াময় , গয়নার বাক্স , গোসাই বাগানের ভুত , আশ্চর্য্য প্রদীপ ..   গল্প তো গল্প , গল্পের উপর তৈরী সিনেমা গুলোও ছাড়ি না৷ আর শুধু ছোটবেলা কেন বড় হয়েও তো ঘুনপোকা, কাগজের বৌ গোগ্রাসে গিলেছি ......

আর কালবিলম্ব না করে বলেই বসলাম আপনাকে কে যে কতক্ষনে একটা প্রনাম করব !
উনি হেসে বললেন কি নাম তোমার?

আরও কিছু গল্প হল , নতুন লেখা কবে বেরোবে জানতে চাওয়ায় বললেন 'পূজোর সময়' ৷

এত বড় মানুষ কিন্ত নির্দ্বিধায় কথা বলে চলেছেন! কলকাতা এয়ারপোর্ট পৌঁছে বলেই ফেললাম কথাটা " একটা অন্যায় আবদার করব? আপনার সাথে একটা ফোটো তুলব" ? এককথায় রাজী হয়ে গেলেন ৷ ফোনের ব্যাটারী 8% , আজ যদি ফোটো তুলতে গিয়ে সুইচ অফ্ হয়ে যায় তবে আমার একদিন কি  স্মার্ট ফোনের একদিন ৷ যাহ্ সুইচ অফ হয়েই গেল ! হ্যান্ড ব্যাগ থেকে ব্যাটারি ব্যাকআপ্ বের করে কেবল লাগিয়ে আবার বললাম , আর একবার প্লিজ!

উনি অনুরোধ ফেললেন না ,  যাওয়ার সময় বলে গেলেন " ভালো থেকো অভিষেক "

বলেছিলাম না , বড় মানুষ ।

- অভিষেক বোস 

Wednesday, July 27, 2016

মণিপুর কে যেমন দেখেছি

 আজ সকাল বেলা খবরের কাগজে মুড়ির ঠোঙায় জায়গা পাওয়া খবরের পাশাপাশি একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর ছিল ইরম শর্মিলা চানু অনশন ভেঙে দিবে, উনি বিয়েও করতে চলেছেন।  গত ১৬ বছর ধরে অনশন করছেন চানু। একদম না খেয়ে অবশ্য নয়, প্রত্যেকদিন নিয়ম করে Nasal Cannula দিয়ে জোর করে তরল খাদ্য খাইয়ে দেওয়া হোত। পাক্কা ১৬ বছর। আত্মহত্যার মামলাও রুজু হয়েছে উনার নামে। এইদেশেই অনেকে অবশ্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনোদিন না খেয়ে, কোনোদিন আধা খেয়ে আমরণ বেচেঁ থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে,  কিন্তু স্বেচ্ছায় না খেয়ে থাকলে আপনার নামে মামলা করা যেতে পারে !!

অনশনের কারন মণিপুর থেকে AFSPA [Armed Force (Special Power)  Act] প্রত্যাহার।

দু' তিন বার মণিপুর গেছি।  অবস্থাটা নিজের চোখেই দেখেছি।আগে মনে হয় ইনার লাইন পার্মিট নিয়ে আসতে হত এখন লাগে না। এয়ারপোর্ট থেকে সোজা হোটেল আর হোটেল থেকে বেরোনোর আগে প্রত্যেক বার রিশেপশনে ফোন করে জেনে নিতে হয় বাইরে বেরোনো যাবে কি না! উচু নিচু পাহাড় ঘেরা কেমন একটা অচেনা রহস্যময়। রিক্সাওয়ালা আর আর্মি দুজনের মুখ সবসময় কালো কাপড়ে ঢাকা।  কারন এই রিক্সাওয়ালাদের অনেকেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসা উগ্রবাদী । অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত  আর আর্মিদের কালো কাপড়ের কারন, বিনা ইউনিফর্মে নিরস্ত্র ঘুরে বেড়ানোর সময় যেন কেউ চিনে না ফেলে।

যেই হোটেলে ছিলাম তাতে বছর খানেক আগে গ্রেনেড ছুড়ে দিয়ে গিয়েছিল।  তাই সবসময় বাইরে আর্মি সিকিউরিটি।

চারটের পর বাইরে বেরোনো নিষেধ। আমি অবশ্য এক আধা পরিচিত মণিপুরীর গাড়ি চেপে সন্ধ্যা রাত অবধি ঘুরে বেড়িয়েছি। যেখানে গেছিলাম সেই ভদ্রলোক মজা করে জিজ্ঞেস করেছিল Ain't you scared to come so far?

আমি : Honestly I am.  I won't get my Dinner . The Kitchen is supposed to close by 8 pm.

আমার সঙ্গের ছেলেটি বলে উঠল He is a Big Foodie and love the Local Delicacy

ভদ্রলোক আমার কথায় বেশ মজা পেয়ে বলল " Be My guest Young Man"

Sticky Rice আর দেশি মুর্গির অপূর্ব পদ খেয়ে বেশ রাতে ফিরেছিলাম । এই দেশের একমাত্র Floating Lake লোকটাক লেক দেখার ইচ্ছে ছিল। জানা গেল উপদ্রুত এলাকা তবে আমি যেই হোটেলে আছি তার Owner চাইলে যে কোনো সময় যেতে পারি।

খাওয়ার কথা থেকে অনশনের কথাটা মনে এল। মজাটা হল শর্মিলা চানুর অনশন ভাঙিয়ে যারা বেশ করে কম্মে খাচ্ছিল তাদের এবার না চেয়েও অনশন শুরু হবে।

— অভিষেক বোস

Wednesday, July 20, 2016

নন্দনকানন



না স্বর্গের উদ্যানের কথা বলা হচ্ছে না, ওড়িশার মুক্ত উদ্যান, যাকে বলে অভয়ারণ্য আর সেই অভয়ারণ্যর ভয়াবহ জঙ্গল সাফারি নিয়েই আজকের গল্প
ফি মাস অফিসের কাজে আর গন্ডা দশেক বার ওড়িশা ঘুরতে এলেও নন্দন কানন দেখা হয়নি কবিগুরু 'একটি ঘাসের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু' না দেখতে পেয়ে গোটা একখানা কবিতা নামিয়ে দিয়েছিলেন আর আমি কিনা গোটা কানন দেখে উঠতে পারলাম না আর দেরি না করে, আগের বছর সপরিবারে নন্দনকানন পৌঁছে গেলাম সাফারির বাস এসে দাড়াল এয়ারপোর্ট বিবাদী বাগ মিনির মতো একটা বাস যার বাইরে দিকে লোহার রড লাগানো যে যার মতো বসে পড়ল আর আমি একেবারে সামনের সিটে ড্রাইভার এর বাম পাশে (হ্যাঁ ঠিক খালাসির সিটে )

কন্ডাক্টর এর কাজ নেই, খচাং খচাং করে টিকিট কাটতে পারছে না এই দুঃখে উনি দেব আনন্দ হয়ে উঠলেন, মানে গাইড আর কি

"
এবার আমরা সাদা বাঘের জঙ্গলে ঢুকব" হুঙ্কার দিয়ে গাইডের ভাষন শুরু হল জুরাসিক পার্কের মত উঁচু লম্বা লোহার ফটক উপরে উঠে গেল আর বাস ভেতরে ঢুকে পড়ল আবার ফটক নিচে নেমে এল আর আমরা গারদের মত দুই ফটকের মাঝে আটকে থাকলাম এবার সামনের ফটক উঠে এল আর আমরা জঙ্গলে ঢুকে পড়লাম একে বাঘ, তার উপরে সাদা বোঝো কান্ড সাদা চামড়ার প্রতি আমাদের আনুগত্য, ভালোবাসা সন্দেহাতীত

সকলেই হাত পিছু এক একটা ক্যামেরা বাগিয়ে ধরলেন আসুক এবার বাঘ! মিনিট তিনেকের মধ্যে ড্রাইভার ব্রেক কষল তো বনবিবি খচ খচ করে ফোটো উঠতে লাগল আমার কেন জানি মনে হল বাঘটা ফোকলা দাঁতে হাসতে হাসতে ড্রাইভার কে বলল " কত্তা! আর এক ট্রিপ বাকি আছে নাকি? " যাই হোক, যেমন হোক, বাঘ তো বটে আবার এক পাক খেয়ে বাস আবার দাঁড়িয়ে পড়ল, ভিতরে সোরগোল 'আবার একটা নাকি' ? ঠিক তাই, আরও একটা বাঘ, চার ঠ্যাং আকাশের দিকে তুলে , পুরো ল্যাদ খেয়ে পড়ে আছে সংসারে শান্তি নেই গোছের ভাব ব্যস সাদা বাঘের পর্ব শেষ এতক্ষণে আমার আর বুঝতে বাকি নেই যে এরা গৃহপালিত আর ড্রাইভার লালিত বাঘ ছিঃ ছিঃ ছিঃ এত দূরে এসে এইরকম ধোঁকা!!


'
এবার আমরা সিংহের জঙ্গলে ঢুকব ' সেই হুঙ্কার সেই ফটক ওঠা নামা, সেই তিন মিনিট কিন্তু এইবার চোখে পড়ল একটা দেওয়াল আর খাঁচা এইবারে পরিস্কার হল, জঙ্গলের গায়েই রয়েছে নন্দন কানন চিড়িয়াখানা, সেইখান থেকেই জোর করে পেছনের গারদ খুলে খেদিয়ে দেওয়া হয় বাঘ, সিংহের দল কে কিন্তু আসলি খানার স্বাদ মুখে লেগে থাকায় এরা গারদের আশপাশ ছেড়ে নড়তে চায় না আমাদের বাসের আওয়াজ পেয়েই মনে হয় বড় সিংহ, ছোটো সিংহকে কি একটা লুকিয়ে ফেলতে বলল পাউরুটি অথবা প্লাস্টিক কিছু একটা চাবাচ্ছিল হয়তো! হাজার হোক বনের রাজা, লোকজনের সামনে কি ঐভাবে পাউরুটি চিবোনো যায়! আরে ভাই লোক লজ্জা থাকতে পারে আর সিংহ লজ্জা নয়

আবার একটা উঁচু লম্বা গারদ আবার কন্ডাক্টরের হুঙ্কার আমার কানের পাশে এসে মিলিয়ে গেলএবার আমরা ............... ভাল্লুকের জঙ্গলে... 


অভিষেক বোস