Monday, April 18, 2016

সুদূর দর্শন

আসছে?
না
আসছে ?
না
এবার?
হ্যাঁ হ্যাঁ ! ওখানেই রাখো ......
যাহ্ আবার চলে গেল !
কথোপকথন এর এক প্রান্তে আমি বুস্টার ঘোরাচ্ছি আর অন্য দিকে আমার মাসতুতো দাদা ছাদের উপর অ্যান্টেনা ঠিক করছে , হতচ্ছারা কাক এসে বসে অ্যান্টেনার ১২ টা বাজিয়েছে । এখন শনিবারের হিন্দী সিনেমা শুরু হবে তাই সিগন্যাল আনার দায়িত্ব আমাদের উপর পড়েছে ৷ চা সিঙ্গারা নিয়ে সবাই রেডি ৷ আর হবে নাই বা কেন ? শনিবারে হিন্দী আর রবিবারে বাংলা এই দুটোই তো সপ্তাহে সপরিবারে দেখার মত ছবি ( নাচে গানে ভরপুর )
আরও আগে যখন রামায়ণ হত , তখন সবাই মন্দিরের মূর্ত্তির সামনে যে ভাবে বসে, ঠিক সেভাবে বসে পড়তাম আর কাঠের পর্দা সরিয়ে বেরিয়ে আসত B&W টিভি । মূর্তির উপর থাকত ফুলদানী আর সামনে সুদৃশ্য পর্দা ৷
বেশ কিছু কাল পড়ে যখন দূরদর্শন কর্ত্তৃপক্ষ বুঝতে পারল শুধু খবর দেখলেই হবে না, দেশ কে বড় হতে হলে বড় বড় সিনেমা দেখাতে হবে। জনসাধারণ মিঠুন, বচ্চন, জিতেন্দ্র কে শুধু মিলে সুর মেরা তুমহারা তে নয় আরও বেশিক্ষণ ধরে দেখতে চাইছে, মঙ্গলবার ভরদুপুরে শুরু হয়ে গেল সিনেমা ৷ তাতে আবার মঙ্গলের থেকে অমঙ্গল হল বেশী ! দু সপ্তাহ ধরে বিজ্ঞাপন দেওয়া হল ডিস্কো ডান্সার-এর , ফল একদা এক মঙ্গলবার শহরের সমস্ত স্কুলে উপস্থিতির হার ১০% ৷
এই সবে অবশ্য আমাদের যোগদান ছিল না , আমাদের শুধু জাঙ্গল বুক আর চন্দ্রকান্তা দেখার ছুট ছিল। আর গরমের ছুটিতে ছুটি ছুটি ৷
একটা VCP এল বাড়ীতে , যেদিন যেদিন সিনেমা চালানো হত গোটা পাড়া এসে জুটত৷ খেলার মাঠে আমার আলাদা ইজ্জত, কারন যে আমাদের যত পরিচিত সে টিভির তত কাছে ৷ তবে সব থেকে সামনের সারিতে জায়গা পেত আমার পিসতুতো দাদা আর মামা , ওরা Rewind Forward PLAY PAUSE করতে পারে , আর পারে Head clean করতে ৷ ভীষন কঠিন কাজ ৷ ছবি খারাপ হলেই VCP র ঢাকনা খুলে Head clean করতে হয় ৷ এরপরে ছবি পরিষ্কার হতে শুরু হলেই দর্শক দের চীৎকার হ্যাঁ ঠিক আছে , ঠিক আছে , আর করতে হবে না! কিন্তু ওরা থামত না যতক্ষন না সবকটা ঝিঝি পোকা স্ক্রিন থেকে বিদায় নিচ্ছে ৷ মাঝে মাঝে উল্টো আরও খারাপ হয়ে যেত ,আর জনগণ ক্ষেপে উঠত |
৯০ য়ের মাঝামাঝি আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে এল এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেল আর সাথে এল জি সিনেমা ৷ দিনে ৬ বার সিনেমা ৷ বাড়ীতে বাড়ীতে কেবল তার, আর কেবলই সিনেমা৷ উপরি পাওনা দুপুরবেলা লোকাল চ্যানেলে একটা আনকোরা নতুন সিনেমা | বাঙালির জীবনমন্ত্র Movie Masti Magic ।
আস্তে আস্তে বিদায় নিল VCP VCR আর তার সাথে বিদায় নিল ঘরের সামনের ভীড় ৷
আজকে যখন Smart phone এর HD AMOLED display তে কোনও সিনেমা দেখি তখন আর কোনও ঝিঝি পোকা আসেনা , আর আসে না কোনও দাদা ,মামা পাড়াতুতো আত্মীয়রা | সিনেমার মাঝে আর হয়না একসাথে হাসি,কান্না । সিনেমা তো শুধু টিভিতে হত না , পর্দার এপারেও হত ...
— অভিষেক বোস

Thursday, April 14, 2016

নববর্ষ

আগের বছর অফিসের কাজে হটাৎ পাটনা যেতে হয়েছিল ,  মেজাজ সপ্তমে । পয়লা বৈশাখের দিন কাজ টা পড়ল !  আগের রাত থেকে তক্কে তক্কে ছিলাম কোনও এক বাঙালি বাড়িতে নিমন্ত্রণ যোগাড় করতে হবে । যেমনি ভাবা তেমনি কাজ,  ধরলাম পুরনো Colleague কে । সে তো মহাখুশি,  আয় আয়....  কিন্ত বিধি বাম সকালের মিটিং পিছিয়ে ভরদুপুর । অতএব নেমন্তন্ন ক্যানসেল । কিছুক্ষণ প্যানপ্যানানি,  হোটেলের Dine In এ বাঙালি খাওয়ারের CBI তদন্ত,  তারপর ভাবলাম আমি তো সারা বছর বাংলায় লিখি,  বাংলা কথা বলি,  SwiftKey তে বাংলা লিখতে শিখায়,  বাঙালি রান্না করি,  বাঙালিদের জন্য গলা ফাটায়,  এসব তো তাদের জন্য যারা একদিনের জন্য বাঙালি সাজে ।  চলে গেলাম বিরিয়ানি মহল,  দিলাম পাঁচ পাঁচটা ডিশ অর্ডার করে । গুছিয়ে খেলাম । চুলোয় যাক্ বাঙালি খাওয়ার,  আজকে বাঙালি খাওয়ারের Expiry Date নাকি? 

খাওয়ার প্লেট দেখে যদি মনে জাগে হর্ষ
তবেই না হবে আসল নববর্ষ
অতএব থাক্
পয়লা বৈশাখ ।

পুনশ্চ : একটানা একমাস বিরিয়ানি খাওয়ার রেকর্ড আছে ।

— অভিষেক বোস

Tuesday, April 12, 2016

বোনাস

হ্যালো

হুমম্ বল , রান্না করছি

বলছিলাম যে আজ বোনাস হয়েছে ..

সত্যি! আচ্ছা শোনো না, একটা জামদানী শাড়ী দেখেছিলাম কাল ,৬৫০০ টাকা বলছিল আর পর্দা গুলোও চেঞ্জ করতে হবে , এই শনিবার গড়িয়াহাট বোম্বেডাইং থেকে নিয়ে নেব , আর কিছু ছোটখাটো বাজার আছে স্পেনসার্স থেকে নিয়ে নেব , আর শোনো না এই শনিবার তাহলে হাটারিতেই ডিনার করব , আচ্ছা তুমি আজ ফেরার সময় মোজারেল্লা চিজ আর পিৎজা বেস নিয়ে এসো আমি রাতে পিৎজা বানিয়ে খাওয়াব .... ..আর ....

হ্যালো ,হ্যালো , হ্যালো 'শোনো

বল

এত কিছু এখন টাকা কই?

এই যে তুমি বললে বোনাস হয়েছে !!?

বোনাস ! বোনাস ! হা, হা, হা আরে আমি বললাম " আজ সব্বোনাশ হয়েছে ! " আসার সময় লাঞ্চবক্সটা আনতে ভুলে গেছি, বাইরে থেকে পরোটা আর ডিম কষা আনিয়ে খেয়েছি , অ্যাসিড হয়ে গেছে বুঝলে তুমি রাতের বেলা ডাল চচ্চরি আর আলু মাখা বানিয়ে রেখো কেমন ?

অভিষেক বোস

Saturday, April 9, 2016

The Jungle Book আর তেইশ বছর

ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া


আজ থেকে 23 বছর আগে ঠিক এই সময় রবিবারের দিন, রবিবার টা আধা শেষ হয়ে যেত। অপেক্ষা করতাম আরও একটা রোববারের। টিভির পর্দায় তখন ক্রেডিট রোলিং আর গুলজারের লেখা সেই গান। Jungle Book শেষ অতএব আজকের মতো রোববারও শেষ। অ্যাড কমার্শিয়াল বাদ দিলে মেরে কেটে 20 মিনিট তার জন্য 24 x 7 অপেক্ষা। এরপর আর টিভির সামনে বসে থাকতাম না, সোজা খেলার মাঠে। এইভাবেই চলছিল, 52 টা এপিসোড শেষ হওয়ার পর কবে যে Jungle Book দুম করে শেষ হয়ে গেল বোঝা যায়নি। আমার ছোট্ট বেলার বন্ধুকে ঠিকঠাক Bye বলা হয়নি। ঐ হয়না, বাড়িতে গতরাতে যে পিসতুতো, মাসতুতো ভাই বোনরা আসত, যাদের সাথে অনেক রাত অবধি খেলা করতাম, আর ভাবতাম ইশশ এরা যদি এখানেই আমার সাথে থাকত !? পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে জানতে পারতাম "ওরা ভোর বেলা আমার ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে গেছে"। অনেকটা ঐ রকম মন খারাপ হয়েছিল।

মোগলি নেই তাই মোগলির স্মৃতিটুকুই থাক। মায়ের এক পরিচিত একজন আমাকে একটা পাঞ্জা (আসলে একটা ব্যুমেরাং, পাঞ্জা নামটা কিছতেই মনে পড়ছিল না, কাল ভাই মনে করিয়ে দিল ) বানিয়ে দিয়েছিল। মোটামুটি শ খানেক বার চালিয়ে বুঝতে পারলাম, চালানো টা জানতে হয়, এমনি এমনি ফিরে আসে না। আরও পরে জানতে পেরেছিলাম সব ব্যুমেরাং ফিরেও আসে না।

23 বছর পর :

আমি বহুদিন ধরে বিশ্বাস করি সবচেয়ে ভালো ব্যবসা যদি কিছু হয় তাহলে তা হল নস্টালজিয়ার ব্যবসা। যত পুরনো স্মৃতি তত ভালো রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট। তবে বুনট টা ভালো হতে হবে। কাল হাতে হাতে প্রমাণ পেলাম। একে Jungle Book তার উপরে 3D। আর আমার সাথে, আমার তেইশ বছর পুরনো পার্টনার, আমার পিসতুতো ভাই। সবথেকে চিন্তা ছিল মোগলিকে নিয়ে, যদি ছোটবেলার সাথে না মেলে তাহলে মনটাই ভেঙে যাবে। নীল শেঠি নামের যে ইন্দো আমেরিকান শিশু অভিনেতা মোগলি হয়েছিল এক কথায় Adorable (আমি এর পরিবর্ত বাংলা খুঁজে পেলাম না ।

3D ফরম্যাট দেখার বহু আগেই তো মনে মনে 3D প্রিন্ট করে ফেলেছিলাম। এখন শুধু মিলিয়ে নেওয়া। মোগলি সেখানে ফাটাফাটি এরপর আসল খলনায়ক শের খান। নানা পটেকরের গলাটা তখনও মনে দেগে আছে। পরিচালক বুদ্ধিমান লোক, ভারতীয় আবেগ বোঝে, তাই আবার নানা পটেকর। তবে ভয়েস মড্যুলেশনটা আলাদা, ঠিক জমল না। ওমপুরি আর ইরফান খান এর চরিত্রের গলাটা পাল্টাপাল্টি করলে আরও ভাল হত। আকরু বাকরুর চেহারাটাও অনেক বেশি ছোট। কিং লুই কিছুটা বাঁদরামো করল। কিন্তু এটা বড় দেশ, এখানে এরকম ছোটখাটো ভুল হয়েই থাকে। দিনের শেষে শিয়োনির জঙ্গলে যখন বাঘিরা, বালু, শেরখান, কা আর মোগলি এসে দাঁড়ায় তখন আলাদা আবেগ কাজ করে, হলদেটে পুরনো স্মৃতিগুলো মোচর দিয়ে ওঠে।

রুডিয়ার্ড কিপলিং খুব অত্যাচারী ব্রিটিশ ছিল। জঙ্গল বুক দেখার আর পড়ার পরে ভদ্রলোকের উপর মনটা একটু নরম হয়ে গিয়েছিল। আরও বড় হয়ে Gangadin পড়তে গিয়ে পুরোপুরি মাফ করে দিয়েছিলাম। ঐ যে বলে না, যাকে ভালোবাসি তার কোনও কিছুই খারাপ লাগে না।

সিনেমার গল্পটা এখানে আর বলব না। তবে যেই জাপানি অ্যানিমি টা আমরা দেখতাম তার সাথে কিছু অমিল আছে। আর হ্যাঁ হিন্দিতে দেখেছি, কারনটা অজানা নয় নিশ্চয়ই! ব্রেকের সময় একটা ছেলে ফোনে ওর বান্ধবী কে বলছিল " Jungle Book... in English.. No way.. I could've missed those name Baghira, Ka, Balu" জানা নেই হয়তো নামগুলো দূরদর্শন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। ওটা রুডিয়ার্ড সাহেবের নিজের দেওয়া আর গল্পটাও ভারতীয় উপমহাদেশের গল্প।

ব্যুমেরাং এর গল্প বলছিলাম না। সেই ব্যুমেরাং টা ফিরে আসেনি, এমনকি 3D সিনেমার পর্দাতেও না। তবে এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিটে তেইশ বছর টাইম ট্র্যাভেল করে ফেলেছি।


- অভিষেক বোস


Thursday, April 7, 2016

শানদার, জবরদস্ত , জিন্দাবাদ



মোতিহারি , পূর্বি চম্পারনের ছোট্ট শহর ৷ ফেরার দিন হোটেলে ছেড়ে স্টেশন রওনা দেব , অটোর জন্য দাড়িয়ে আছি , হঠাৎ এক রিক্সাওয়ালা সজোরে ব্রেক কষে বলল ' কঁহা চলনা হ্যাঁয় বাবু ? চালিয়ে তুরন্ত পৌঁছা দুঙ্গা ' তাকিয়ে দেখলাম মোটেও কোনও দুরন্ত চেহারা না, 'তুরন্ত' পৌছবার দাবিটা মোটেও মানানসই নয় ৷ ৭০ এর কোঠায় বয়স , অযত্ন লালিত মাথার চুল ঝুঁটি করে বাঁধা । হাতে কিছুটা সময় ছিল , ভাবলাম চল যাওয়া যাক।

১০০ রূপয়ে কে ছুট্টা হোগা ?

কাহে চিন্তা কারতে হ্যায় , আপ কলকত্তা সে আয়ে হ্যাঁয় ?

আপকো ক্যায়সে পতা চলা ?
( নিজের হিন্দী আর হিন্দী ডায়ালেক্টে উপর আমার অগাধ আস্থা ৷ লেড়কা , লেড়কি মার্কা হিন্দী নয় )

আভি তো মিথিলা ছুটেগি

তাই তো , বিহার -নেপাল সীমানার এই ছোট্ট শহর থেকে সারা দিনে হয়তো ৫ টা ট্রেন যাতায়াত করে , স্টেশন যাওয়ার সময় সময় দেখেই বলে দেওয়া যায় কে কোথায় যাছছে।


কলকত্তা কঁহা রহতে হ্যায়?

-নিরুত্তর-

হম রহে হ্যায় কলকত্তা, পনরা সাল

হুমম

মেহনাত করনে সে কলকত্তা মে প্যায়সা হ্যায় বাবু।

হুম

ম্যায় খিদিরপুর মে থা, আউর খুব কামাতা থা, ফির বেটা কা বাড়কা নউকরি লাগা, তো হিয়া বুলা লিয়া, হিয়া আয়ে তো জামিন জায়দাত লিখাকে ঘর সে নিকাল দিয়া!

( এক শ্বাসে কথা গুলো বলে থামল)

আর চুপ থাকতে পারলাম না, জিজ্ঞেস করলাম

খিদিরপুর মে ক্যায়া কাম করতে থে?

মেকানিক থা, তেরা হাজার পগাড় মিলতা থা

ফির অউপাস কিউ নেহি গ্যায়ে?

মন টুট গ্যায়া থা, আউর মেরি লক্সমী ভি চল বসি

ক্যায়া কাম করতা হ্যায় বেটা?

বি.ডি.ও হ্যায়

বলে কি লোকটা !

স্টেশন পৌঁছে গেছিলাম , আর আমার তাড়াও ছিল , হঠাৎ মনে পড়ল আরে ! ভাড়া তো ঠিক করা হয়নি ! এখানে হামেশাই ৮০ টাকা ১০০ টাকা ভাড়া চেয়ে বসে ৷ আমার আবার খুচরোও নেই, ১০০ টাকা হাতে ধরিয়ে বললাম ছুট্টা করকে দিজিয়ে ৷ টাকাটা হাতে পেয়ে বৃদ্ধ দৌঁড়তে লাগল কাউন্টারের দিকে , এক মিনিট দু মিনিট পাঁচ মিনিট , আর আসে না !

গেল আমার ১oo টাকাটা , ষ্টেশনের দিকে রওনা দেব হঠাৎ দেখি ছুটে আসছে , ১০ টাকার ১০ টা নোট আমার হাতে দিয়ে বলল 'লিজিয়ে, অপকা গাড়ী ছুটনে বালি হ্যাঁয় ' ৷

কিতনা ?

৩০ রুপয়ে

একটা ১০০ টাকার নোট পকেট থেকে বের করে বললাম ' রাখ লি জিয়ে, আপ নে ওয়াক্ত সে পৌঁছা দিয়া '

দু হাত তুলে জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ বলে চীৎকার করে উঠল

আমার হঠাৎ করে মাঝির " শানদার, জবরদস্ত , জিন্দাবাদ " মনে পড়ে গেল

ঝুঁটি বাঁধা বৃদ্ধকে আমার দশরথ মাঝির মতোয় লাগছিল ৷

না ইনি কোনও পাহাড় ভেঙ্গে রাস্তা বানাননি, তবে এই বয়সেও যে শরীর ভেঙ্গে , নিজের বেঁচে থাকার রাস্তা বানিয়ে চলেছে সেটাই বা কম্ কিসে?

অনেকটা এগিয়ে এসেছিলাম , পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম ' দশরথ মাঝি তখনও হাত দুলিয়ে চলেছে '

- অভিষেক বোস