আজ যখন এই লেখাটা পোস্ট হবে তখন কলকাতায় বসন্তোত্সব শুরু হয়ে গেছে আর উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা আর বাকি ভারতবর্ষ অপেক্ষা করে থাকবে আরও একদিন। আমার শহর মালদাতে আজ দেব দোল। মানে আজ শুধু দেবতাদের মূর্তিতে আবির দেওয়া যেতে পারে পাবলিকের গায়ে রঙ দিলে ফাউল।খুব ছোটবেলায় একবার নিয়ম ভেঙ্গে উত্তম ক্যালানি খেয়েছিলাম। বয়সের ধার বোঝাতে লোকে বলে ' পঁচিশটা বসন্ত দেখেছি'। বসন্ত এসে গেছে আর সাথে এসেছে সরস্বতী পুজো, ভ্যালেন্টাইনস ডে, ছোটবেলায় সকালবেলা পড়তে বসে কোকিলের ডাক শুনতে পেতাম এখন কলকাতায় আর শুনতে পাই না। এর দুটো সম্ভাব্য কারন এক কোকিল নাই, দুই বহুকাল সকাল দেখি নাই। তাতে কি হয়েছে! বসন্ত এসে গেছে। তবে বসন্ত রোগ এখনও আসেনি। এক রাউন্ড বৃষ্টিও হয়ে গেছে কিন্তু বসন্তের আসল শো স্টপার হল হোলি।
হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে শাস্তি দেবে বলে পূর্ণিমার রাতে দমকল এর ইউনিফর্ম পড়ে শিশু প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করেছিল। সম্ভবত আগুনে ঢোকার মুখে ফাগুনের হাওয়ায় দমকল বস্ত্র উড়ে গিয়ে প্রহ্লাদের গায়ে গিয়ে পড়ে আর হোলিকা পুড়ে কালিকা হয়ে গেছিল । এই দিনটাই হোলিকা দহন। পরদিন সকালে আগুন নিভে গেলে রাজ্যের লোকজন এসে এ ওর কপালে ভস্ম টীকা দিতে শুরু করল। বসন্তের টীকার মতই এই ভস্ম টীকা প্রদান বছরের পর বছর ধরে চালু রয়েছে যার এখনকার সংস্করণ হল গিয়ে ধূলেঁটি বা রঙওয়ালি হোলি (মানে মালদার দেব দোল একদম ISI মান্যতা প্রাপ্ত! )।
মোদ্দা কথা হল ঘটনাটা দুদিন ধরে চলেছিল আর যেহেতু আমি একটু সংস্কারী গোছের তাই একদিন কলকাতায় রঙ খেলি আর একদিন মালদাতে।
হোলির তিন তিনটে সুপারহিট গান অমিতাভের আর একটাভিক্টর ব্যানার্জির মানে রেজাল্ট 3:1 আর সাথে অজস্র ভোজপুরি ফ্রি কিক। আর দুটো স্লোগান হোলি হ্যায়, বুঢ়া না মানো হোলি হ্যায়।
তবে দল হচ্ছে পাঁচটা : হোলি খেলব না, রঙ খেলব না, আবির খেলব না, লোককে রঙ দিব নিজে নিব না আর সব খেলব।
আমি কোন দলে পড়ি নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। যাবৎ হোলি তাবৎ খেলি।তবে বেলুন টা আজকাল যোগাড় করা সমস্যা হয়ে উঠছে , এর ওর ঝেড়েই চালাতে হচ্ছে। আর চারিদিকে এত রঙ্গ হলেও রঙের বড় অভাব। খুদে বাচ্চা গুলো অবধি পিচকিরিতে করে খালি জল ছিটিয়ে দিচ্ছে । এর মধ্যেও কিছু লোক মুখে নারকেল তেল মেখে ঘুরে বেড়ায়।এদের মুখে সাধারণত কেউ রঙ মাখায় না (দাঁতে ঘষে দিয়ে যায়)। গত বেশ কয়েক বছর ধরে আমার উপলব্ধি রঙ খেলার পর স্নান করতে গিয়ে চামড়া তুলে ফেলার কোনো দরকার নেই। উঠলে উঠল, না উঠলে থাকুক দু দিন। এরপরে বাড়িতে বাসন্তী পোলাও আর খাসির মাংস। হাত লাগাতেই হাতের রঙ সোজা পাতে। লাল হলুদ ইস্টবেঙ্গল পোলাও খেয়ে একটা সিনেমা, এরপরে আবার বিকেল থেকে আবির খেলা। ছোটবেলায় বড়দের বাড়ি গিয়ে প্রনাম করে আসতাম। আজও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারব পাড়ার কোন বাড়িতে মাংসের ঘুগনি হয় আর কোন বাড়িতে জালি মালপোয়া। আবির যত না গায়ে পড়ে তার থেকে বেশি বাতাসে ওড়ে। বিকেলের নরম আলোতে বাতাসে আবিরের রঙ আকাশে পুরো ক্যানভাস এঁকে দেয়। এরপর রাত বাড়তে থাকে, এর ওর বাড়িতে গুছিয়ে আড্ডা আর খাওয়া দাওয়া। শেষে মাথা ঝাড়তে ঝাড়তে একটা রঙহীন জীবনকে রঙ্গীন করে বাড়ি ফেরা। আরও একটা বছর আরও একটা বসন্ত পেরিয়ে যায়।
— অভিষেক বোস

Khub bhalo laglo pore... carry on writing and bring back all our childhood memories
ReplyDeleteThanks a Ton Bhaskar..... get Ready for Holi
DeleteThanks a Ton Bhaskar..... get Ready for Holi
Delete