শতাব্দীতে ওড়িশা যাচ্ছি । না গল্পটা আমার ওড়িশা যাওয়া নিয়ে নয়, ফি সপ্তাহে ভারতের কোনও না কোনও অঙ্গরাজ্যে যায় । এই গল্পটা গল্পের বইয়ের। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে, এই সময় এক বইবিক্রেতা উঠল। সাধারণত এদের কাছে সাপ্তাহিক, মাসিক ম্যাগাজিন থাকে কিন্তু এনার হাতে রয়েছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখ্যোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, শিব্রাম চক্রবর্তী, লীলা মজুমদার। ভদ্রলোক সবার কাছে যাচ্ছে না, বেছে বেছে দু একজনের সামনে যাচ্ছে আর বইগুলো মেলে ধরছে। আমার সামনে দাঁড়াবে কিনা ভাবছিলাম। দেখা গেল আমিও একজন ভাগ্যবান ক্রেতা মনোনীত হয়েছি। একটা শিব্রাম তুলে নিলাম। টাকা মিটিয়ে দিতেই আবার ভদ্রলোক কানামাছি ভো ভো, যাকে পারিস তাকে ছো়ঁ খেলতে খেলতে কামরার অন্যপ্রান্তে। আজব মানুষ, মুখ দেখেই চিনে ফেলছে নাকি কে বাঙালি আর কে ওড়িয়া !? আবার ফিরে আসার সময় জিজ্ঞেস করেই বসলাম। দাদা কি বেছে বেছে বাঙালিদের সামনে যাচ্ছেন নাকি? একগাল হেসে উত্তর দিল 'যাদের মাথা উঁচু, তাদের কাছেই যাচ্ছি'।
মানিকচাঁদ গুটখার তত্ত্বে বিশ্বাসী মনে হয় ' উঁচি লোগ, উঁচি পসন্দ! '
ভদ্রলোক নেমে গেছে আর আর আমি মাথা উঁচু তত্ত্ব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি হঠাৎ পাশের সিটের ভদ্রলোককে দেখলাম এত কান্ড ঘটে গেল আর উনি স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মাথা ঢুকিয়ে বসে আছেন !
— অভিষেক বোস
No comments:
Post a Comment