শোওয়ার ঘরে বিছানার ঠিক সামনেই রয়েছে আয়নাটা। রোজ ঘুমোতে যাওয়ার আগে চোখে পড়ত। বেডসুইচ টিপে আলো নেভানোর আগে একবার দেখে নিত নিজের প্রতিবিম্বকে। এক একদিন তাকিয়ে থাকত নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে আর ভাবত কি নিখুঁত অনুকরণ! অন্ধকার যখন জমাট বেঁধে আসত আর বাইরের রাস্তার আওয়াজ নিঝুম হয়ে আসত তখন কেন জানি একটু একটু ভয়ও লাগত। এখনও কি সামনের অবয়বটা নকল করে চলেছে? ঘুটঘুটে অন্ধকার না হলে দীপক সমাদ্দারের ঘুম আসত না। একদিন দুম করে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, বেডসুইচ টা অন্ করতে গিয়ে মনে হল সামনের আয়নার আলোটা আগে জ্বলে উঠেছে। দরদর করে ঘেমে উঠেছিল দীপক , দমবন্ধ লাগছিল। আবার আলো নেভাতেই সেই আগের মতো জমাট অন্ধকার। কাঁচা ঘুমে হয়তো ভুল বুঝেছিল। রাতে আলো নেভানোর পর দীপক কোনো কথা বলত না কিন্তু একদিন মনে হয়েছিল কাঁচের ওপারে আওয়াজ হচ্ছে, কেমন একটা গোঙানির শব্দ, ঘুমের মধ্যে বোবা লেগে গেলে যেমন হয়। নিশির ডাক নয়তো? একা একাই থাকত দীপক ।
একদিন রাতে আবার সামনের আলোটা আগে জ্বলে উঠেছিল, প্রতিবিম্বটা বুকে হাত দিয়ে কাতরাচ্ছিল, নিজের দিকে তাকিয়ে বুঝল দীপকের কিছুই হয়নি। সামনেই দীপক সমাদ্দারের ছায়ামানব তখনও কাতরে চলেছে, একটা অস্ফুট শব্দ করে কাঁচের ওপারের লোকটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল । ভয়ে হাত পা সিটিয়ে যাচ্ছিল গলার কাছটা কেমন দলা পাকিয়ে আসছিল জলের বোতলটা তুলতে গিয়ে কিছুতেই ছুঁতে পারছিল না। বেডসুইচটার দিকে হাত বাড়িয়ে বারবার চেষ্টা করেও আলো নিভল না। তাহলে কি ওপারের লোকটাই ................. !!
— অভিষেক বোস

No comments:
Post a Comment