ছবিটি সংগৃহীত। আপত্তি থাকলে সরিয়ে দেওয়া হবে।
গরু মহিষের অঙ্ক মনে আছে ? বেশ শাসালো অঙ্ক। ঐ কচি বয়সে শেষমেষ X আর Y দুজনকে এনে মীমাংসা করতে হয়েছিল। ঠিক মনে নেই তবে মনে হয় পয়ঁতাল্লিশ টা গরু আর ছাপ্পান্ন টা মোষ বেরিয়েছিল । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই যে শ'খানেক গরু মোষের খাটালে অঙ্ক কষে গুনতি করতে হল কেন? গরু গরুর মতো দেখতে হয় আর মোষ মোষের মতো, এমনকি সাথে আরও দু চার ডজন ছাগল ভেড়া মিশিয়ে দিলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় কিন্তু গনিত তোমাকে দিয়ে গুনতি করিয়েই ছাড়বে। অথবা চৌবাচ্চার অঙ্ক, একদিকে তোমার মেজকাকা পাম্প চালিয়ে জল তুলল আর অন্য প্রান্তে ভাঙা পাইপ দিয়ে জল বিগলিত হয়ে পড়তে থাকল । এবার তুমি বসে বসে জল মাপতে থাক। কেন? তোমাদের কাজের দিদিও তো চৌবাচ্চার কলটা খুলে দিয়ে ভুলে যেতে পারতো! তাতে করে আচ্ছা করে গুছিয়ে গালাগালি করা যেত। কিন্তু না, জল ভাঙা নল দিয়েই বেরোবে আর কেউ মেরামতও করাবে না। এদিকে এই দৈন্য দশা তবু আটচল্লিশ খানা তরমুজ বাজার করে তোমার জেঠুকে বাড়ি ফিরতে হবে, আর এদিকে বাড়িতে গন্ডা দেড়েক লোক। প্রত্যেকে কতটা তরমুজ পাবে? আচ্ছা! এমনও তো হতে পারত যে সেজ কাকিমা তরমুজ খায়না, পেট গরম হয়ে যাবে বলে, আর মা! মা তো নিজের থেকে দু পিস তোমার জন্যে সরিয়ে রাখবেই রাখবে। আর সবার জন্য সমান ভাগই বা হবে কেন? মেজ কাকুও ছ পিস আর ভুতোও ছ পিস? আর ছোট কাকুর পরিবার ! সে তো কোনো টাকায় দেয় না সংসারে, তারাও ছ'পিস ! মামদোবাজি নাকি? আর সবথেকে বড় কথা আটচল্লিশ খানায় যখন কেনাল তখন আম কেনাত ! আনতেও সুবিধে আর খেতেও।
মোদ্দা কথা হচ্ছে অঙ্ক সমস্যা দিবে কিন্তু সাহিত্যের সমাধান হবে না। আমাদের স্কুলের অঙ্কের জাহাজ কুমারেন্দ্র স্যার অবশ্য এইসব প্রশ্নের জটিলতা নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। উনি মুখে মুখে অঙ্ক করাতেন তবে সাহিত্যের সুরাহাও করে ছাড়তেন। ট্রাক্টর, ধান চাষ, গোবর সার নিয়ে অঙ্ক শুরুর আগে আমাদের ক্লাসের একটি ছেলেকে বলতেন 'কি হে! গ্রামের ছেলে! ট্রাক্টর বুঝিয়ে দাও! অথবা বলতেন গোবর সার টা বলে দাও! সে ব্যাটা খানিকক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত তারপর বসতে বললে বসে পড়ত। আসলে সে না তো গ্রামে থাকত না কোনোদিন ট্রাক্টর চালিয়েছে। তবে গ্রাম বাংলার অঙ্ক হলে তাকেই আমাদের বুঝিয়ে দিতে হত আমগাছ কেমন দেখতে হয় আর বাঁশ গাছ কত লম্বা হয় ।
এতক্ষণ ধরে যারা মনে করার চেষ্টা করছেন গল্পের নামটা কোথায় পড়েছেন তাদেরকে বলে রাখি নামটা শিব্রাম চক্রবর্তীর অঙ্ক সাহিত্যের যোগফল থেকে অনুপ্রাণিত (বাকি গল্পটা কিন্তু কপির পেস্ট নয় ) । যেখানে গুরুদেব (শিব+রাম) অঙ্ক-সাহিত্য ভাষার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তো গুরুদেব তার অন্য একটি গল্প 'নকুড় বাবুর অনিদ্রা দূর' - এ অঙ্কের সবথেকে বড় সমস্যা দেখিয়েছিলেন । ইনসমনিয়ার রুগী নকুড় বাবুকে কেউ ভেড়া গোনার দাওয়াই দিয়েছিলেন কিন্তু দেখা গেল নকুড় বাবু রাত পিছু প্রায় পনেরো ষোলো হাজার ভেড়া গুনে ফেললেও ঘুম আসত না। এদিকে রাতের পর রাত ভেড়া গুনতে গুনতে শরীরের অবস্থা একসা । তার উপরে ভেড়া গুলো বড্ড বেয়াড়া, কিছুতেই গেট দিয়ে লাইন করে বেরোবে না। একটা কান কাটা দুম্বা যেটাকে নকুড় বাবু দুতিনবার নোটিশ করেছেন সে ব্যাটা শুধু বেঁড়ার তলা দিয়ে গলে যেতে চায়। ঐ কান কাটাকে দেখেই শেষে সন্দেহ হল ব্যাটারা বার বার ঘুরে ঘুরে আসছে। অতএব বন্ধুগন গরু ভেড়াকে অযথা মাথায় না তুলে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড় । ও ব্যাটারা গন্ডগোল করবেই ।
— অভিষেক বোস

No comments:
Post a Comment