Wednesday, June 1, 2016

মুঘল খাদ্যের পতন



গুরগাঁওয়ে বসে আলোচনাটা শুরু হয়েছিল, আলোচ্য বিষয় বিরিয়ানী প্রীতি , যাকে বলে গিয়ে প্রেম খাওয়ার খেয়ে উঠেই বিরিয়ানী খাওয়ার একটা মানসিকতা , সুগন্ধী সুরঞ্জিত চালের আড়ালে মাংসের টুকরো মন্থন , ঠিক যেন খনির মধ্যে থেকে হীরের টুকরো খুঁজে বের করা আহ্হা ! অপূর্ব অভিজ্ঞতা! পঞ্চেন্দ্রিয়র নিখুঁত ব্যবহার   

হলফ করে বলতে পারি এইসব অভিজ্ঞতাকে অবলীলায় চার- গোল দেবে আমার অভিজ্ঞতা | কোথায় , কখন, কত প্লেট , কিভাবে , কিসের , কোন্ ঘরানার ? এইসব তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনার অনেক উর্দ্ধে আমার গল্পটা হল, 'কতদিন ধরে'?

উওরঃ একটানা একমাস হ্যাঁ বন্ধুগন মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের ভাষায় বলতে গেলে " ২৯ দিনও নয় ৩১ নয় , ঠিক ৩০ দিন

স্থানঃ রাজ বিরিয়ানী , বেলেঘাটা
পাঞ্চ লাইন : " ভালো খান ,সুস্থ থাকুন"

কেন? : কেননা ল্যাদ খাওয়াটা আমরা ( মানে আমরা চার কৌশিক , সপ্তর্ষি ,দেবজ্যোতি, আড়াই BHK ফ্ল্যাটবাসী) শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছিলাম , আমাদের ল্যাদশিল্প যখন শিল্পকলায় পরিনত হত , তখন কলা ছাড়া আর কিছু খাওয়ার থাকত না , অতএব অভুক্তের শেষ ঠিকানা রাজঘরানা


রোজ রাতে আমরা পণ করতাম
'
আর নয় বিরিয়ানী ,
কাল থেকে দানাপানি '

কিন্ত শিল্পী মন, পরদিন সকালে মনে মনে টস করে ল্যাদশিল্প কে জিতিয়ে দিত , তাছাড়া মনে মনে ভয় ছিল এরকম বিবিয়ানী আসক্ত পেট হঠাৎ বিরিয়ানী না পেয়ে চমকে উঠতে পারে কিন্ত না সব ভালোর একটা শেষ আছে , কালের নিয়ম, মেনেই একদা রাতে চারজনে শিল্পবিদ্রোহ ঘোষণা করলাম , ল্যাদের প্রতি অনাস্থা আর পেটের প্রতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিন দফা দাবী পেশ করলাম , পরদিন দুপুরে সকলের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে দুপুর বারোটার মধ্যে পৌছে গেলাম ফুলবাগান পাঞ্জাবী ধাবা , কষা মুরগি আর পোলাও গলাধকরণের মাধ্যমে পতন হল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের  

- অভিষেক বোস

No comments:

Post a Comment