Wednesday, February 24, 2016

ঘুম

ঘুম যদি বৃষ্টি হয় আমি তবে মরুভূমি , যতই ঝরে পড়ুক তেমন কোনো ফারাক পড়ে না ৷ উষ্ণায়নের ফলে আমার এহেন ঘুমের বর্ষাকাল এখন আর ঘড়ির কাঁটা দেখে আসে না , ঘুমের মৌসুমী বায়ু এখন ভোরের বেলার দিকে বইতে শুরু করে , তারপর যখন বালিশে মাথা ঠুকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বিছানায় প্রদক্ষিন শুরু করি তখন ইলশেগুড়ি শুরু হয়। ৮ টা থেকে ৯ টা কালবৈশাখির সময়। একটা ভাল ঘুমের জন্য আমার চাই ৪ টে নধর বালিশ, নিশ্ছিদ্র অন্ধকার আর পরের দিন অফিস।
তবে বিংশ শতাব্দীতে আমি সন্ধে ৮ টায় ঘুমের আরাধনা শুরু করতাম, পুজো ভাঙত ভোর বেলায়। আহহা সেসব কি দিন ছিল ! নিরেট ৮ ঘণ্টা ঘুম। রাতের গল্প, আমি ভুতের গল্পের মত লোকের মুখেই শুনতে পেতাম !
কাল রাতে মিঠুনের সিনেমা দিয়েছিল
কাল রাতে ব্রাজিল কি খেলল, তিন তিন টে গোল
কাল রাতে পাড়াতে চোর ঢুকেছিল
এইসব রোমহর্ষক ঘটনার প্রত্যুত্তরে আমি যেটা করতাম তাই নাকি? সত্যি? এইসব বিস্ময় বোধক শব্দ, আর বাকিরা আগের রাতের গল্প নিয়ে ঘন্টাখানেক সঙ্গে সুমন ছকে আলোচনা জুড়ে দিত।
একদিন ঠিক হোল রাতে পিকনিক হবে। জোরালো ধ্বনি ভোটে প্রস্তাব সমর্থন পেল। ১০ টাকা করে চাঁদা, শালপাতায় গরম গরম ভাত, বেগুনি, আর টুকটুকে লাল ঝাল ঝাল করে ডিমের ঝোল ( ১ পিস করে )। সন্ধ্যেবেলা তাড়াতাড়ি টিউশন পড়ে এসে ব্যাগটাকে চালিয়ে ফেলে দিলাম দৌড়। পাড়ার মধ্যেই ঝাকরা কুলগাছ তলাতে পিকনিক। ৭.৩০ টা বাজতে যায়, এতক্ষনে হয়তো ডিমগুলো তেল নুন হলুদ লংকা মেখে গরম তেলের কড়াইয়ে নেমে পড়েছে !?
ওহ হরি, কোথায় কি? এখনো বাজার হয়নি
জিজ্ঞেস করায় উত্তর এল, আরে সবে তো আট টা বাজে, খাওয়া দাওয়া তো রাতে। সবে আট টা!! আমার আত্মা ডুকরে কেঁদে উঠল। কিছুক্ষণ দিল তো পাগল হ্যায় এর গান শুনলাম, দু রাউন্ড অন্তাক্ষরি। ৯ টা বেজে গেছে। কড়াই থেকে গরম বেগুনি সোজা মুখের সামনে, এই তো পারছি, আর মাত্র কিছুক্ষণ, তারপরেই ডিমের ঝোল হয়ে গেলে আর ভাত হতে আর কতক্ষন?
এর মধ্যেই ঘটে গেল চরম অঘটন, আগুন গেল নিভে। আবার কেরোসিন এনে আগুন জালাতে নাকি ৩০ মিনিট লাগবে। মনটাই ভেঙ্গে গেল, চোখ প্রায় বুজে আসছে, একবার খোসা ছারানো ডিম সেদ্ধর দিকে তাকালাম, একবার তুলতুলে বিছানাকে ইয়াদ করলাম, না আর নয়। কড়াইয়ের সামনে এগিয়ে এসে বললাম " দে ভাই, আমার ভাগের ডিম সেদ্ধটা দিয়ে দে, বাড়ি গিয়ে খাব "

--- অভিষেক বোস

No comments:

Post a Comment