"রবিবারের গপ্পো "
সকাল থেকেই বাগানে পাইচারী চলছে | প্রদীপবাবু আজ গাছ গুলোর দিকে নজর দিয়েছেন |
"কই গো শুনছ ? পাতাবাহার এর গাছটা তো শুকিয়েই গেল ! আমি না দেখলে তো মরেই যেত ! "
ভিতর থেকে গিন্নীর মুখ ঝামটা ...
"মরণ ! এদিকে যে সংসারের চাপে আমি মরতে বসেছি সেটা চোখে পড়ে ? যাও আগে বাজার টা করে নিয়ে এসো, আর বেসন আনতে ভুলোনা যেন ! "
প্রদীপবাবু হাতে ঝোলা ঝোলাতে ঝোলাতে বেরিয়ে পড়ল | সন্তুর চায়ের দোকানে প্রথম স্টপেজ |
"এই একটা চিনি ছাড়া লাল চা দে তো, দেরী করাস না মাংস কিনতে হবে , তোর বৌদি আবার ভালো মাংস না পেলে খায় না। "
নেক্সট স্টপেজ বাপির দোকান
'' কই রে বাপি , এই জিনিষ গুলো ready কর দেখি ,আমি বাজার করে এসে নেব | আর ভালো দেখে জিরে গুড়ো দিস, মাংসে দেব কিন্ত ! "
"কি রে বাপ্পা তোদের ক্লাবের ছাদ হল? কোনও অসুবিধে হলে বলিস! এখন আর দাঁড়াচ্ছি না বুঝলি, মাংস কিনতে হবে | "
অতঃপর বাজারে ঢুকে পটল , ঝিঙে, টমেটো সব কেনা হয়ে গেলে আলুওয়ালা কে স্পেশাল ইন্সট্রাকশন
" আলু গুলো বেছে দিবি ,মাংসের পিস্ হবে কিন্তু !"
" আলু গুলো বেছে দিবি ,মাংসের পিস্ হবে কিন্তু !"
এরপর ভীড় ঠেলে পাজামা তে কাদা ছিটিয়ে যখন বসির এর সামনে পৌছলেন তখন দু'বার গলা খাঁকারি দিয়ে প্রদীপবাবু
" আমাকে ভালো দেখে ৭৫০ মাংস দাও তো , মিডিয়াম পিস্ , আর একটু মেটে দিও তো ! "(শেষের টা একটু আস্তে) |
" আমাকে ভালো দেখে ৭৫০ মাংস দাও তো , মিডিয়াম পিস্ , আর একটু মেটে দিও তো ! "(শেষের টা একটু আস্তে) |
যাই হোক মেটে পাওয়া গেল | প্রদীপদার মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি | এরপর বাজারের থলে টা বৌয়ের হাতে তুলে দিলেই ব্যস্ !
খবরের কাগজ পড়তে পড়তে প্রদীপবাবু রান্নাঘরের পাশে পায়চারি শুরু করলেন | মহাভারত সবে শুরু হল, শেষ হওয়ার আগেই জুটে যাবে এক পিস কষা! এরপরে স্নান সেরে শাক দিয়ে ভাত মাখতে মাখতেই চলে আসবে পেতলের বাটিতে তিন পিস , আর সাথে দু'পিস আলু |
আহ্হা রবিবারের মজাই আলাদা | মনে মনে একটু হেসে নিলেন প্রদীপবাবু |
" তার ভালোবাসা বাসি যেন রোববারে খাসি....আর দ্বিতীয় পলাশী "
- অভিষেক বোস
বাকি কথা : গল্পের মূল অনুপ্রেরনা আমার প্রবাসী বাঙালি বন্ধু কৌশিক উপাদ্ধ্যায়
Thanks to kaushik for the inspiration
ReplyDelete