Friday, October 30, 2015

কাঞ্চনজঙ্ঘা


                                                                          কাঞ্চনজঙ্ঘা


রবি ঠাকুর ১১ বার সূর্য্যোদয় দেখতে পারেননি , কিন্তু আমরা ছাড়ব কেন? 


তাই এবছর ফেব্রুয়ারিতে যখন দার্জিলিঙে অফিসের কাজ পড়ল , আমার কলিগ্ বন্ধু আর আমি প্রথমদিন দুপুরেই কাজ শেষ করে টাইগার হিলের প্ল্যান বানিয়ে ফেললাম ৷ পরদিন ভোর চারটেয় বেরিয়ে পড়তে হল ৷ ড্রাইভার অর্জুন গপ্পোবাজ মানুষ , অল্পবয়সী , চৌখস গাড়ি চালায় ৷ যেতে যেতে বলছিল একসময় প্রচুর বাঘের আনাগোনা ছিল ,সেই থেকেই নাম টাইগার হিল্ ৷ তখনও নিকষ কালো অন্ধকার , টাইগার হিলে পৌঁছে দেখলাম পাহাড়ের কোল আলো করে হাজার হাজার জনতা ৷ 'আমায় একটু জায়গা দাও' বলে দাড়িয়ে পড়লাম ৷ কয়েকজন পাহাড়ি মেয়ে ঘুরে ঘুরে কফি বিক্রি করছে আর ৫.৪০ এ সূর্য্যোদয় হবে তার বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে ৷ একজনকে ডেকে বললাম " এউড়া কাপ কফি দিনহুস " আমার কলিগ্ জিজ্ঞেস করল কি বললাম , জানালাম এক কাপ কফি দিতে বললাম ৷ "এক কাপ কেন, আমিও তো খাব ?" .. জানি , দুই বলতে জানিনা যে আবার 'এউড়া কাপ ' দিতে বলব ৷

বাঙালির সমস্ত ঠাণ্ডা কান দিয়েই ঢোকে , কফিতে চুমুক দিতে দিতে আমার যা কানে ঢুকল ' ভালো করে কান ঢাক ' ' কানে ঠান্ডা লেগে যাবে ' 'মাফলারটা কানে জড়িয়ে নে' এইসব পাঁচ কান করতে করতে দু' চোখ দিয়ে দেখলাম সবাই ক্যামেরা নিয়ে রেডি , কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে , এক দম্পতি এর মধ্যেও ঝট্ করে 'টাইগার হিল সেল্ফি উইথ্ ফিফটি ওয়ান অাদার্স ' তুলে নিল , কিন্তু এ কি! দু চারজন হতভাগা উল্টোদিকে মুখ করে কেন? আমিও স্রোতের বিপরীতে তাকিয়ে বুঝলাম আসল খেলা তো উল্টো দিকে !! সূর্য্যের প্রথম ছটা তুষার পাহাড়ের ওপর আছড়ে পড়ছে , অপূর্ব দৃশ্য ! তাহলে এত লোক যে সূর্য্যমুখী হয়ে আছে ! ঘার ঘুরিয়ে দেখলাম সূর্য্যোদয় হচ্ছে , কিন্তু এরকম সূর্য্য তো রোজ দেখা যায় ! মালদার বাঁধ রোড অথবা ই এম বাইপাসের ধারে দাঁড়ালেই দেখা যায় ! তাহলে এত দূর কেন ?

হাজার হাজার ফ্ল্যাশের ঝলকানি সাথে ' 'অসাধারন ' ' অপূর্ব ' ' অকল্পনীয় ' আর জোর হাততালি ৷ ততক্ষণে আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে আর জনতা এদিক ওদিক দেখতে দেখতে উল্টো দিকে তাকাতেই অবাক " ঐ দ্যাখ কাঞ্চনজঙ্ঘা " আস্তে আস্তে সবাই মাথা ঘোরাচ্ছে আর " কাঞ্চনজঙ্ঘা কাঞ্চনজঙ্ঘা" বলে লাফিয়ে উঠছে ৷ তিন তিনটে পর্বতশৃঙ্গ (এভারেষ্ট সহ) অথচ সবাই শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাচ্ছে ৷ এরই মধ্যে দু'একজন রাধানাথ শিকদারের উত্তরসূরী নির্ভুল ভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে কোনটা এভারেষ্ট আর কোনটা কাঞ্চনজঙ্ঘা ? ক্যামেরার ঝলকানি তখনও চলছে

ততক্ষণে অর্জুন পাশে এসে দাড়িয়েছে , চাঁপা গলায় আমাদের বলল "ওটা আসলে মাকালু শৃঙ্গ , ১০৭ কি.মি আগে আছে বলে সবচেয়ে উঁচু দেখায় "

- অভিষেক বোস

1 comment: