না স্বর্গের উদ্যানের কথা বলা হচ্ছে না, ওড়িশার মুক্ত উদ্যান, যাকে বলে অভয়ারণ্য । আর সেই অভয়ারণ্যর ভয়াবহ জঙ্গল সাফারি নিয়েই আজকের গল্প ।
ফি মাস অফিসের কাজে আর গন্ডা দশেক বার ওড়িশা ঘুরতে এলেও নন্দন কানন দেখা হয়নি । কবিগুরু 'একটি ঘাসের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু' না দেখতে পেয়ে গোটা একখানা কবিতা নামিয়ে দিয়েছিলেন আর আমি কিনা গোটা কানন দেখে উঠতে পারলাম না । আর দেরি না করে, আগের বছর সপরিবারে নন্দনকানন পৌঁছে গেলাম । সাফারির বাস এসে দাড়াল ।এয়ারপোর্ট বিবাদী বাগ মিনির মতো একটা বাস যার বাইরে দিকে লোহার রড লাগানো । যে যার মতো বসে পড়ল আর আমি একেবারে সামনের সিটে ড্রাইভার এর বাম পাশে (হ্যাঁ ঠিক । খালাসির সিটে ) ।
কন্ডাক্টর এর কাজ নেই, খচাং খচাং করে টিকিট কাটতে পারছে না । এই দুঃখে উনি দেব আনন্দ হয়ে উঠলেন, মানে গাইড আর কি ।
"এবার আমরা সাদা বাঘের জঙ্গলে ঢুকব" হুঙ্কার দিয়ে গাইডের ভাষন শুরু হল । জুরাসিক পার্কের মত উঁচু লম্বা লোহার ফটক উপরে উঠে গেল আর বাস ভেতরে ঢুকে পড়ল । আবার ফটক নিচে নেমে এল আর আমরা গারদের মত দুই ফটকের মাঝে আটকে থাকলাম । এবার সামনের ফটক উঠে এল আর আমরা জঙ্গলে ঢুকে পড়লাম । একে বাঘ, তার উপরে সাদা । বোঝো কান্ড । সাদা চামড়ার প্রতি আমাদের আনুগত্য, ভালোবাসা সন্দেহাতীত ।
সকলেই হাত পিছু এক একটা ক্যামেরা বাগিয়ে ধরলেন । আসুক এবার বাঘ! মিনিট তিনেকের মধ্যে ড্রাইভার ব্রেক কষল । ঐ তো বনবিবি । খচ খচ করে ফোটো উঠতে লাগল । আমার কেন জানি মনে হল বাঘটা ফোকলা দাঁতে হাসতে হাসতে ড্রাইভার কে বলল "হ কত্তা! আর এক ট্রিপ বাকি আছে নাকি? " যাই হোক, যেমন হোক, বাঘ তো বটে । আবার এক পাক খেয়ে বাস আবার দাঁড়িয়ে পড়ল, ভিতরে সোরগোল 'আবার একটা নাকি' ? ঠিক তাই, আরও একটা বাঘ, চার ঠ্যাং আকাশের দিকে তুলে , পুরো ল্যাদ খেয়ে পড়ে আছে । সংসারে শান্তি নেই গোছের ভাব । ব্যস সাদা বাঘের পর্ব শেষ । এতক্ষণে আমার আর বুঝতে বাকি নেই যে এরা গৃহপালিত আর ড্রাইভার লালিত বাঘ। ছিঃ ছিঃ ছিঃ এত দূরে এসে এইরকম ধোঁকা!!
'এবার আমরা সিংহের জঙ্গলে ঢুকব ' সেই হুঙ্কার সেই ফটক ওঠা নামা, সেই তিন মিনিট কিন্তু এইবার চোখে পড়ল একটা দেওয়াল আর খাঁচা । এইবারে পরিস্কার হল, জঙ্গলের গায়েই রয়েছে নন্দন কানন চিড়িয়াখানা, সেইখান থেকেই জোর করে পেছনের গারদ খুলে খেদিয়ে দেওয়া হয় বাঘ, সিংহের দল কে । কিন্তু আসলি খানার স্বাদ মুখে লেগে থাকায় এরা গারদের আশপাশ ছেড়ে নড়তে চায় না । আমাদের বাসের আওয়াজ পেয়েই মনে হয় বড় সিংহ, ছোটো সিংহকে কি একটা লুকিয়ে ফেলতে বলল । পাউরুটি অথবা প্লাস্টিক কিছু একটা চাবাচ্ছিল হয়তো! হাজার হোক বনের রাজা, লোকজনের সামনে কি ঐভাবে পাউরুটি চিবোনো যায়! আরে ভাই লোক লজ্জা থাকতে পারে আর সিংহ লজ্জা নয় ।
আবার একটা উঁচু লম্বা গারদ আবার কন্ডাক্টরের হুঙ্কার আমার কানের পাশে এসে মিলিয়ে গেল “এবার আমরা ............... ভাল্লুকের জঙ্গলে...
অভিষেক বোস
No comments:
Post a Comment