কে এফ সি থেকে বেরিয়ে মলের বাইরে রিক্সার সামনে এসে অর্পন বেশ গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল
অ্যাই রিক্সা চালনা হ্যায় ক্যা?
কাহাঁ?
কাঁকুড়গাছি
চাল্লিশ টাকা লাগেগা
ভাড়া তো তিরিশ রুপয় হ্যায়
রিক্সাওয়ালা ভাবলেশহীন ভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিল ।
অর্পণ তাকিয়ে দেখল আশেপাশে কোনও রিক্সা নেই, এত কাছে ট্যাক্সিও যাবে না । আর কথা না বাড়িয়ে রিক্সায় উঠে বলল পয়ত্রিশ লে লেনা ।
আজ অর্পণের ছেলের জন্মদিন, এবার ১০ পূর্ণ হবে । শুভা বলে রেখেছিল আজ বাইরের খাওয়ার খাবে । অর্পণ অবশ্য এড়িয়ে যেতে চাইছিল । দু'মাস সেলস টার্গেট মিট্ হয়নি, ম্যানেজার এর কাছ থেকে ৫ - ৬ টা মেল চলে এসেছে । চাকরিটা টিকবে বলে মনে হয় না, এক কামরার ফ্ল্যাটটা বিয়ের পরে কিনে ফেলেছিল, কিন্ত লোন্ পে করতে করতে করতে নিজেই ফ্ল্যাট হয়ে গেছে । তাও শুভা এত জেদ্ করল....
অর্পন শুভাকে না করতে পারে না, মেয়েটা এক কথায় বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিল, কোনোদিন কোনও অভিযোগ করেনি, পালিয়ে বিয়ে করার সময় অর্পণের চাকরীও ছিলনা।
সকালে একবার বলেছিল সবাই একসাথে বাড়িতে খাসীর মাংস রান্না করে খাব । শুভা উত্তর করেনি । শুধু খাওয়ার টেবিলে ডালের বাটিটা ঠেলে দিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেছিল ।
লেকটাউনের অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা বাইপাসের মলে ঢুকে পড়ে হাজার খানেক টাকার খাওয়ার কিনে বাড়ি ফেরা । অনেকটা দেরী হয়ে গেল । মোড়ের মাথায় কেক্ শপটা খোলা থাকলে হয় ।
পকেটে থেকে মানিব্যাগ টা বের করে আর একবার দেখে নিল, ২৯০ টাকা । রিক্সা ভাড়া দিয়ে একটা ছোট কেক্ হয়ে যাবে ।
বাবু উস্ দুকান মে ক্যায়া খানা মিলতা হ্যায়?
রিক্সাওয়ালার প্রশ্নে সম্বিত ফিরে পেয়ে অর্পন কিছুটা বিরক্ত হয়ে উত্তর করল “ চিকেন, মেরে মাতলব মুরগি কা বহুত কিসম কা খানা, মেহেঙ্গা হ্যায় " পরের কথা টা না বললেও হত, তবে অর্পণ যে খরচা করে কিনেছে সেটা ওকে পরিতৃপ্তি দিল ।
“পাতা হ্যায় বাবু, সোচা থা দো তিন লম্বা ভাড়া হো যায়ে তো আজ লে যাউঙ্গা, বাচ্চে জিদ্ কর রহে তে, আজ জনমদিন মেরে ছুটকি কা । বিন মা কি অওলাদ ।" একটু থেমে আবার বলল “স্রেফ মুর্গি মিলতা হ্যায়!! হা হা, উ তো ম্যায় হি বানাকে খিলা সাকতা হু । "
পাঁচ টাকা দরদাম করার জন্য অর্পণের একটু অপরাধেবোধ হচ্ছিল ।
কাহাঁ উতারনা হ্যায়?
ঐ তো, ঐ কেক্ দুকান কে সামনে
৪০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে অর্পণ জিজ্ঞেস করল “আভি খুশ তো? "
রিক্সাওয়ালা মাথা নাড়ল
হাসিমুখে ক্যাথলিনের দরজা ঠেলে কি মনে হতে আবার বেরিয়ে এসে রিক্সাওয়ালা কে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল অর্পণ ।
মানিব্যাগ টা বের করে আর একবার দেখে নিল, ২৫০ টাকা । ২০০ টাকা বের করে রিক্সাওয়ালা কে বলল “বঢ়িযা মুর্গি বানা কে খিলানা বেটি কো "
রিক্সাওয়ালা হতচকিত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, অর্পণ খুশি মনে গলির দিকে পা বাড়ালো, ৫০ টাকায় পাড়ার দোকান থেকে একটা ছোট কেক্ নিয়ে ঢুকতে হবে.....
- অভিষেক বোস
অ্যাই রিক্সা চালনা হ্যায় ক্যা?
কাহাঁ?
কাঁকুড়গাছি
চাল্লিশ টাকা লাগেগা
ভাড়া তো তিরিশ রুপয় হ্যায়
রিক্সাওয়ালা ভাবলেশহীন ভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিল ।
অর্পণ তাকিয়ে দেখল আশেপাশে কোনও রিক্সা নেই, এত কাছে ট্যাক্সিও যাবে না । আর কথা না বাড়িয়ে রিক্সায় উঠে বলল পয়ত্রিশ লে লেনা ।
আজ অর্পণের ছেলের জন্মদিন, এবার ১০ পূর্ণ হবে । শুভা বলে রেখেছিল আজ বাইরের খাওয়ার খাবে । অর্পণ অবশ্য এড়িয়ে যেতে চাইছিল । দু'মাস সেলস টার্গেট মিট্ হয়নি, ম্যানেজার এর কাছ থেকে ৫ - ৬ টা মেল চলে এসেছে । চাকরিটা টিকবে বলে মনে হয় না, এক কামরার ফ্ল্যাটটা বিয়ের পরে কিনে ফেলেছিল, কিন্ত লোন্ পে করতে করতে করতে নিজেই ফ্ল্যাট হয়ে গেছে । তাও শুভা এত জেদ্ করল....
অর্পন শুভাকে না করতে পারে না, মেয়েটা এক কথায় বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিল, কোনোদিন কোনও অভিযোগ করেনি, পালিয়ে বিয়ে করার সময় অর্পণের চাকরীও ছিলনা।
সকালে একবার বলেছিল সবাই একসাথে বাড়িতে খাসীর মাংস রান্না করে খাব । শুভা উত্তর করেনি । শুধু খাওয়ার টেবিলে ডালের বাটিটা ঠেলে দিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে গেছিল ।
লেকটাউনের অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা বাইপাসের মলে ঢুকে পড়ে হাজার খানেক টাকার খাওয়ার কিনে বাড়ি ফেরা । অনেকটা দেরী হয়ে গেল । মোড়ের মাথায় কেক্ শপটা খোলা থাকলে হয় ।
পকেটে থেকে মানিব্যাগ টা বের করে আর একবার দেখে নিল, ২৯০ টাকা । রিক্সা ভাড়া দিয়ে একটা ছোট কেক্ হয়ে যাবে ।
বাবু উস্ দুকান মে ক্যায়া খানা মিলতা হ্যায়?
রিক্সাওয়ালার প্রশ্নে সম্বিত ফিরে পেয়ে অর্পন কিছুটা বিরক্ত হয়ে উত্তর করল “ চিকেন, মেরে মাতলব মুরগি কা বহুত কিসম কা খানা, মেহেঙ্গা হ্যায় " পরের কথা টা না বললেও হত, তবে অর্পণ যে খরচা করে কিনেছে সেটা ওকে পরিতৃপ্তি দিল ।
“পাতা হ্যায় বাবু, সোচা থা দো তিন লম্বা ভাড়া হো যায়ে তো আজ লে যাউঙ্গা, বাচ্চে জিদ্ কর রহে তে, আজ জনমদিন মেরে ছুটকি কা । বিন মা কি অওলাদ ।" একটু থেমে আবার বলল “স্রেফ মুর্গি মিলতা হ্যায়!! হা হা, উ তো ম্যায় হি বানাকে খিলা সাকতা হু । "
পাঁচ টাকা দরদাম করার জন্য অর্পণের একটু অপরাধেবোধ হচ্ছিল ।
কাহাঁ উতারনা হ্যায়?
ঐ তো, ঐ কেক্ দুকান কে সামনে
৪০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে অর্পণ জিজ্ঞেস করল “আভি খুশ তো? "
রিক্সাওয়ালা মাথা নাড়ল
হাসিমুখে ক্যাথলিনের দরজা ঠেলে কি মনে হতে আবার বেরিয়ে এসে রিক্সাওয়ালা কে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল অর্পণ ।
মানিব্যাগ টা বের করে আর একবার দেখে নিল, ২৫০ টাকা । ২০০ টাকা বের করে রিক্সাওয়ালা কে বলল “বঢ়িযা মুর্গি বানা কে খিলানা বেটি কো "
রিক্সাওয়ালা হতচকিত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, অর্পণ খুশি মনে গলির দিকে পা বাড়ালো, ৫০ টাকায় পাড়ার দোকান থেকে একটা ছোট কেক্ নিয়ে ঢুকতে হবে.....
- অভিষেক বোস
No comments:
Post a Comment