তখন ক্রিশ্চিয়ান নাম বলতে মাথায় আসত জন্ আর অ্যান্টনি আর বড়দিন মানে বড় সড় কেক । পঁচিশে ডিসেম্বর আর কেক্ হল গিয়ে বর্ষা আর খিচুরি, না খেলে মন হু হু করে । এরপর কয়েক বছর পরের বড়দিনে যখন বড় হয়ে গেছি , সাইকেল নিয়ে একেবারে শহরের শেষ প্রান্তে চার্চে গিয়ে দেখি ভুড়ি ভুড়ি বাঙালি কপালে জোড় হাত করে যিশাস্ কে প্রনাম করছে, তারপর ভক্তি ভরে মোমবাতি জ্বালিয়ে ধূপকাঠির মতো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বন্দনা করছে । আপন করে নেওয়ায় বাঙালির জুড়ি নেই । ভালোবেসে কেমন যীশু খ্রীষ্ট করে নিয়েছে [Greek Khrīstos(Χριστός)-র সাথে কোনো যোগ আছে কিনা জানি না ] । তবে সান্টা দাদুকে ঠিক বাগে আনতে পারেনি। সম্ভবত মোজার মধ্যে উপহার ভেবেই পিছিয়ে পড়েছে (মোজা না মোজার সুরভি! সে নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে ) । তবে আমরা যারা ধর্মেও আছি আর খাওয়ারেও আছি তাদের দর্শন হল "যত মত, তত পদ" । (আর দেখুন না বড়দিন সবচেয়ে বেশি পালিত হয় কেকের দোকানে )
ততদিনে জেনে গেছি এই গোলার্ধে বড়দিন আসলে বড়দিন নয় উল্টে বেশ পুঁচকে একটা দিন । দিদাকে গিয়ে সে কথা বলতেই উত্তর এল ঘন্টা দিয়ে নয়, দিন বড় হয় ঘটনা দিয়ে ।
বেশ কয়েক বছর ধরে আমার কাছে বড়দিন মানে নাহুম । মধ্য কলকাতার এই ইহুদী দোকানের পাশ দিয়ে গেলে একটা ভক্তি ভাব জেগে ওঠে । এতদিনে আমার বেশকিছু দেশি, বিদেশি ক্রিশ্চিয়ান বন্ধু হয়েছে, সুতরাং কেকের সাথে উপরি পাওনা ক্রিসমাস ক্যারল ।
সময় পেলে এখনও চার্চে যায়, কলকাতার বিখ্যাত ক্যাথিড্রাল চার্চে । এখনও ভক্তি ভরে প্রনামের ঢল দেখি । তারপর ভীড়ের লোকগুলো ভীড় ঠেলে বেরিয়ে সেদিয়ে যায় আশেপাশের রেস্টুরেন্টে, যেখানে সান্টা আর রেনডিয়ার সাজিয়ে, স্পেশাল ইংলিশ মেনুর পসরা নিয়ে বসে থাকে । দিন শেষ হয়ে যায়, রাত বাড়তে থাকে । বর্ষবরনের আগে রুজি-রুটির সবচেয়ে বড় রাত ।
— অভিষেক বোস
👌🏼👌🏼
ReplyDelete