Wednesday, October 28, 2015

মানিক'দার রোল


                                                               মানিক'দার রোল


বিবেকানন্দ রোড ক্রসিং থেকে বিধান সরনীর বাম দিক ঘেষে কলেজস্ট্রিটের দিকে একটু এগোলেই মানিক'দার দোকান । পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও চোখে না পড়ার মতো । চার বাই চার এর ছোট্ট ঠিকানা । মানিক'দার রোল কলকাতা কাঠি রোলের মতো আহামরি নয় আবার বেদুইনের মতো বিখ্যাত নয় তবুও লোকে (আমিও তাহাদের একজন ) ভীড় করে । স্নেহ পদার্থের প্রতি যাদের স্নেহ আছে উত্তর কলকাতার সেইসব লোকেরাই এই ভীড়ের মুখ। 

মানিক দা রোল মিস্ত্রি নয়, ইন্টিরিয়র ডেকোরেটর । তাওয়া থেকে নধর লালচে হলুদ পরোটা গুলো যখন ডিমের পরশে গড়াগড়ি খেয়ে মানিক'দার হাতে চালান হয় ঠিক তার পরই শুরু হয় আসল শিল্প । কুঁচোনো পেঁয়াজ , কুঁচোনো লঙ্কা , হাতে পেষাই গোলমরিচ আর বিটনুন সব বাটিতে সাজানো থাকে ৷ ভীড় যতই বেশী হোক্ না কেন , প্রতিটা রোল হয় কাষ্টমাইজড , এক্কেবারে নোলা ফিট্ ৷ লঙ্কাকাণ্ড মিটে যাওয়ার পর মাংসের আত্মপ্রবেশ , আম রোলের দোকানের মতো শুকনো ছিবড়ে মাংসের পিস নয় , এক্কেবারে মায়াবী মশলা মাখানো মাংসের টুকরো ৷ প্রতিটি পিস্ বলে আমায় দ্যাখ , আমায় দ্যাখ ৷ মাংসেরা সুশৃঙ্খল ভাবে রোলের মাঝখানে লাইন দিয়ে দাড়িয়ে পড়লে শসের বাটি থেকে চামচে করে শস মাখানো হয় ৷ শসের ব্যাপারে মানিকদার সজাগ দৃষ্টি , বোতলঝাড়া কুমড়োর শস নয় নির্ভেজাল টমেটো আর গ্রিন চিলি শস ৷ শেষ তুলির প্রলেপে সবজে হলুদ তাজা লেবুর রস ।

এমনিতে মানিকদা ব্যস্ত মানুষ বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা অবধি টাকা রোল , রোল টাকা , আর আমিও এ পাড়ার বাসিন্দা নই , তাই বিশেষ কোনও কথাবার্তা হয় না । আমি শুধু গিয়ে বলি " ঘন্টাখানেকের আগে কি একটা এগ চিকেন রোল দিতে পারবে ? " এরপর পরোটা পাওয়ার পর একটা র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড , লঙ্কা কতটা ? শস হবে কি না ? গোলমরিচ দেব কি না ? খাব না নিয়ে যাব ? ব্যস ৷ এরবেশি আর কথা এগোয়নি ৷ কিছুদিন আগে মানিক'দার দোকানের সামনে এক বান্ধবীর সাথে দেখা , রোল খাওয়ার কথায় রাজী হতেই মানিক দা কে দুটো রোলের অর্ডার করলাম , মানিক দা একবার আমার দিকে মুখ তুলে চাইল তারপর অনেক দিনের পরিচিতর মতো করে বলল তোমার টা তে তো লঙ্কা বেশি হবে উনি তো প্রথমবার ওনার টা কেমন হবে ?

বুঝলাম ঐ র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড টা আসলে ব্যস্ততার মধ্যেও আড্ডা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ।

- অভিষেক বোস

1 comment: