জঙ্গলে জঙ্গলি দর্শন
গরুমারা ফরেস্টে পৌঁছে যেটা সবার আগে নজরে পড়বে সেটা হল শ'খানেক হোটেল /রিসর্ট । হঠাৎ করে ঠাওর করা মুশকিল জঙ্গলে এসেছি না ধর্মতলায় ৷ ছোট বড় মাঝারি সব রকমের পকেটোপযোগী থাকার বন্দোবস্ত ৷ কিন্ত একটা বিষয়ে এদের মিল দুর্ধর্ষ ৷ গাড়ি থেকে নামার পরই এদিক ওদিক থেকে শুধু হাতি আর গন্ডারের গল্প ভেসে আসবে I
"কাল হাতি গ্রীন ক্যাসেলের সামনে চলে এসেছিল "
"আমাদের হোটেলের পেছন দিকটা হাতি ভেঙ্গে দিয়ে চলে গেছে "
"কাল এই পিচ রাস্তার ওপর দিয়ে গন্ডার দৌড়াচ্ছিল"
"আজকে ভোরে স্টেশন থেকে ফেরার সময় এক পাল হাতির সামনে পড়ে গেছিলাম "
হাড় হিম করা সব হাতে গরম গল্প , একদম বুলবুল দাসের গরম ভাজার মতো কানে পরিবেশিত হবে ৷
গল্প শুনতে শুনতে ঢুকে পড়লাম , রিসর্টটা অবশ্য আমার এক বন্ধুর বাবার ৷ জঙ্গলের দিকেই কটেজটা বরাদ্দ হল , "আজ মোলাকাত হোকে হি রহেগা " বাঘ,হাতি না হোক এক জোড়া নিরীহ চুনী পান্না মার্কা নধর হরিণের দেখা কি মিলবে না ! আলবাত মিলবে ।
সন্ধ্যের দিকে রিসর্টের ধার ঘেষে চিকেন পাকোড়ার হাড্ডি চিবোচ্ছি , সার্ভিসের ছেলেটি বলল ' আপনারা যেখানে বসে আছেন, দুদিন আগে হাতি ওখানে চলে এসেছিল ' হেব্বি ব্যাপার, কি জায়গায় এলাম গুরু! এ কানার হস্তি দর্শন নয়, রীতিমতো হাতি পর্যবেক্ষন ৷
দস্তুরমতো আগুন জ্বালিয়ে আর গীটার বাজিয়ে আমরা হাতির আগমনী শুরু করলাম, দু চারটে নেড়ি কুত্তার বিকট প্রত্যুত্তর পেলেও 'সে তো এল না ,এল না'
কুছ পরোয়া নেহি ' মর্দ কি বাত আর হাতি কি মুলাকাত কাল সুবাহ হি হোগা '
ভোর বেলা ড্রাইভার সিউশরনের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো , সঙ্গে আদিবাদী গাইড তারাপদ হেমব্রম। গাইড ছাড়া প্রবেশ নিষেধ , সরকারের একটা সাধু উদ্যোগ যাতে আশেপাশের জঙ্গলবাসীরা টু পাইস করতে পারে .....
গোটা জঙ্গল ঘুরে যা যা দেখতে পেলাম
১. খান দশেক ময়ূর
২. দু ডজন বাঁদর
৩. হাতির দুদিন পুরনো প্রাতকৃত
৪. একটা ঠ্যাঙ খোড়া বাইসনের (ইন্ডিয়ান গৌড়া) দোদুল্যমান লেজ আর
৫. কেমোফ্লেজ টি শার্ট পরিহিত ,হাত বিঘত লম্বা লেন্স সহ DSLR শোভিত টুরিষ্ট
রিসর্টে পৌছে ম্যানেজার বাবুদা কে বললাম " শোনো বাবুদা , বাঘ ,সিংহ, হাতি , ঘোড়া সব কষ্ট ভুলে যাব , যদি একটা জিনিষ দেখাতে পারো "
বাবুদা শশব্যস্ত হয়ে বলল " কি বল্ ?"
একটা বুনো মুর্গি বাবুদা, এই কেজি তিনেক সাইজের , মাইরি বলছি আজ রাতের বেলা জিরে বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে একটা ঝাল ঝাল মাখা মাখা নিদেনপক্ষে একটি জঙলি মুরগির দর্শন না হলে, কলকাতা ফিরে কি মুখ দেখাব ?
ফিরে এসে বন্ধুর বাবাকে বলেছিলাম " হাতি, গরু কিছুই নেই। ঐ যে হাতিটা মাঝে মাঝে হানা দেয় , ওটা আসলে তোমাদের হোটেলিয়ার্স এ্যাশোশিয়েশনের পোষা হাতি , মাঝে খেলিয়ে দাও , যাতে গল্প চালু থাকে |
- অভিষেক বোস

Darun
ReplyDeleteThank you Sweetheart
Delete