এক টাকার দশটা দিন, পাঁচ টাকার তিনটে আর দশ টাকার দুটো, কত হল?
'পঁয়তাল্লিশ ।'
চল্লিশ নাও, আর ঐ মিউজিক্যাল কার্ডটা?
'ওটা এক পিসই আছে, পঞ্চাশ টাকা ।'
ওটা রেখে দিও, বিকেলে এসে নেব ।
(এরপর মনে মনে ছকে নেওয়া, কাকে এক, কাকে পাঁচ আর কাকে দশ, মিউজিক টা তো স্পেশাল ! )
এরপর যখন যেমন সময় পাওয়া যাবে, টিউটোরিয়ালে অথবা ক্লাস রুমে বসে, সুযোগ বুঝে খাম খুলে বের করে নিয়ে নাম গুলো লিখে নিলেই হল ।
রাতে কিছুক্ষণ টিভির সামনে বসে নিউ ইয়ার সেলিব্রিটিদের দেখে ঠিক সাড়ে বারোটায় জয় ঘুমোতে গেল । মিউজিক্যাল গ্রিটিং কার্ডটা বালিশের তলায় লুকিয়ে রাখল, যদি কেউ দেখে নেয় !
মাঝ রাতে হঠাৎ কি করে জানি মিউজিক্যাল কার্ডটা বেজে উঠল, ঘুম ভেঙ্গে সব কিছু কেমন অচেনা ঠেকল । মাথাটা কেমন ভার হয়ে আছে । কোনওমতে আড়মোঢ়া ভেঙে আয়নার সামনে তাকাতেই বুকটা ছ্যাত্ করে উঠল । আবছা মুখটা ঠাওর হলনা, কিন্তু মুখটা একটা লোকের, এই আন্দাজ তিরিশ বত্রিশ বছর । গালে হাত দিয়ে খোঁচা খোঁচা দাড়ি অনুভব হল ।
এবারে বোঝা গেল বয়সটা অনেক বেড়ে গেছে । কখন, কিভাবে সেটা দেখার আর সময় হয়ে ওঠেনি । মোবাইলটা বিরক্তিভরে নামিয়ে রেখে কি মনে হতে আরও একবার বালিশের তলায় হাত বুলোল, না কোনও গ্রিটিং কার্ড মিলল না, একটা পেট মোটা মানিব্যাগ, ভেতরে অনেক গুলো ব্যাংক কার্ড । মোবাইলটা আর একবার হাতে নিয়ে দেখল বেশিরভাগই অফিস পরিচিত, কয়েকজন পুরনো বন্ধুবান্ধব আর একটা টেক্সট মেসেজ, স্যালারি ক্রেডিট হয়ে গেছে, ডেবিট কার্ডটার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে নিয়ে জয় এবার নিজেই নিজেকে অস্ফুটে বলে উঠল "Happy New Year"
- অভিষেক বোস
No comments:
Post a Comment