একদম পূবের দিকে বারান্দাটা যেখানে শেষ হয়েছে, যেখানে গরমকালে এসে দাঁড়ালে বকুল ফুলের গন্ধ নাকে আসে, সেখানেই রাখা থাকে মেহগনি কাঠের দুটো চেয়ার। এই পৈতৃক বাড়িটা ছাড়া অনির্বাণ ঐ দুটো সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছিল। চেয়ার দুটো অনির্বাণের খুব প্রিয়। অনেক মন খারাপ, ভালো লাগার সাক্ষী ঐ নিষ্প্রাণ প্রানী দুটো। অফিস থেকে ফিরে রোজকার মতো দুটো চা বানিয়ে চেয়ারটার কাছে এসে দাঁড়াল অনির্বাণ, নীরা আর চা করে না। নিজের চেয়ারে আয়েশ করে বসে চায়ের কাপটা মুখের কাছে এনে ঠোঁটে ছুঁইয়ে আবার নামিয়ে রাখল। আওয়াজ করে চা খাওয়াটা নীরার ভীষণ না পসন্দ। না পসন্দের লিস্টটা অবশ্য অনেক বড়। তবে অনির্বাণ নীরাকে ভীষণ ভালোবাসে তাই আজকাল আর কোনও নিয়ম ভাঙ্গে না।
"নীরা আজ সকালে আমি সাতটার সময় ঘুম থেকে উঠে পড়েছি জানো? তোমাকে দেখতে পেলাম না, তাই নিজেই ব্রেকফাস্ট বানিয়ে ফেললাম। "
" আরে না না। ফ্রিজের থেকে বাসি খাওয়ার বের করিনি। ওমলেট আর ব্রেডটোস্ট বানালাম। লবন টা মনে হয় বেশিই দিয়ে ফেলেছি, যাই হোক কাজ চালিয়ে নিয়েছি। "
উল্টো দিক থেকে কোনও উত্তর এল না।
রাগটা মনে হয় এখনও আছে।
" তুমি কি আমার সাথে কথা বলবে না বলে ঠিক করেছ? "
অনির্বাণ চায়ে পরপর চুমুক দিতে দিতে কথা বলে চলল, দ্বিতীয় কাপটা তখন ঠান্ডা হচ্ছে।
অনেক্ষণ ফাঁকা চেয়ারটার দিকে তাকিয়ে মনটা কেমন করে উঠল।সন্ধ্যাটা জমাট হচ্ছিল, দূরে কোথাও একটা পিউ কহাঁ ডেকে উঠল। সুরটা বড় বিষাদের।
আট বছর আগে নীরা এসেছিল এই বাড়িতে, এসে ঐ চেয়ারেই বসেছিল, চায়ের কাপ হাতে।
সেই প্রথম, সেই শেষ। নীরাকে আর কোনোদিন দেখেনি অনির্বাণ। এই বারান্দাতেই প্রেমটা ভেঙে গেছিল। কারনটা অবশ্য আর মনে পড়ে না। এখনও ভালো লাগা গুলো বারান্দার ঐ কোনাটাতে লেগে রয়েছে। চায়ের কাপ দুটো রোজ কানা ভর্তি হয়ে আসে, আর থাকে মেহগনি কাঠের দুটো চেয়ার।
— অভিষেক বোস

No comments:
Post a Comment