ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া
আজ থেকে 23 বছর আগে ঠিক এই সময় রবিবারের দিন, রবিবার টা আধা শেষ হয়ে যেত। অপেক্ষা করতাম আরও একটা রোববারের। টিভির পর্দায় তখন ক্রেডিট রোলিং আর গুলজারের লেখা সেই গান। Jungle Book শেষ অতএব আজকের মতো রোববারও শেষ। অ্যাড কমার্শিয়াল বাদ দিলে মেরে কেটে 20 মিনিট তার জন্য 24 x 7 অপেক্ষা। এরপর আর টিভির সামনে বসে থাকতাম না, সোজা খেলার মাঠে। এইভাবেই চলছিল, 52 টা এপিসোড শেষ হওয়ার পর কবে যে Jungle Book দুম করে শেষ হয়ে গেল বোঝা যায়নি। আমার ছোট্ট বেলার বন্ধুকে ঠিকঠাক Bye বলা হয়নি। ঐ হয়না, বাড়িতে গতরাতে যে পিসতুতো, মাসতুতো ভাই বোনরা আসত, যাদের সাথে অনেক রাত অবধি খেলা করতাম, আর ভাবতাম ইশশ এরা যদি এখানেই আমার সাথে থাকত !? পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে জানতে পারতাম "ওরা ভোর বেলা আমার ঘুম থেকে ওঠার আগেই চলে গেছে"। অনেকটা ঐ রকম মন খারাপ হয়েছিল।
মোগলি নেই তাই মোগলির স্মৃতিটুকুই থাক। মায়ের এক পরিচিত একজন আমাকে একটা পাঞ্জা (আসলে একটা ব্যুমেরাং, পাঞ্জা নামটা কিছতেই মনে পড়ছিল না, কাল ভাই মনে করিয়ে দিল ) বানিয়ে দিয়েছিল। মোটামুটি শ খানেক বার চালিয়ে বুঝতে পারলাম, চালানো টা জানতে হয়, এমনি এমনি ফিরে আসে না। আরও পরে জানতে পেরেছিলাম সব ব্যুমেরাং ফিরেও আসে না।
23 বছর পর :
আমি বহুদিন ধরে বিশ্বাস করি সবচেয়ে ভালো ব্যবসা যদি কিছু হয় তাহলে তা হল নস্টালজিয়ার ব্যবসা। যত পুরনো স্মৃতি তত ভালো রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট। তবে বুনট টা ভালো হতে হবে। কাল হাতে হাতে প্রমাণ পেলাম। একে Jungle Book তার উপরে 3D। আর আমার সাথে, আমার তেইশ বছর পুরনো পার্টনার, আমার পিসতুতো ভাই। সবথেকে চিন্তা ছিল মোগলিকে নিয়ে, যদি ছোটবেলার সাথে না মেলে তাহলে মনটাই ভেঙে যাবে। নীল শেঠি নামের যে ইন্দো আমেরিকান শিশু অভিনেতা মোগলি হয়েছিল এক কথায় Adorable (আমি এর পরিবর্ত বাংলা খুঁজে পেলাম না ।
3D ফরম্যাট দেখার বহু আগেই তো মনে মনে 3D প্রিন্ট করে ফেলেছিলাম। এখন শুধু মিলিয়ে নেওয়া। মোগলি সেখানে ফাটাফাটি এরপর আসল খলনায়ক শের খান। নানা পটেকরের গলাটা তখনও মনে দেগে আছে। পরিচালক বুদ্ধিমান লোক, ভারতীয় আবেগ বোঝে, তাই আবার নানা পটেকর। তবে ভয়েস মড্যুলেশনটা আলাদা, ঠিক জমল না। ওমপুরি আর ইরফান খান এর চরিত্রের গলাটা পাল্টাপাল্টি করলে আরও ভাল হত। আকরু বাকরুর চেহারাটাও অনেক বেশি ছোট। কিং লুই কিছুটা বাঁদরামো করল। কিন্তু এটা বড় দেশ, এখানে এরকম ছোটখাটো ভুল হয়েই থাকে। দিনের শেষে শিয়োনির জঙ্গলে যখন বাঘিরা, বালু, শেরখান, কা আর মোগলি এসে দাঁড়ায় তখন আলাদা আবেগ কাজ করে, হলদেটে পুরনো স্মৃতিগুলো মোচর দিয়ে ওঠে।
রুডিয়ার্ড কিপলিং খুব অত্যাচারী ব্রিটিশ ছিল। জঙ্গল বুক দেখার আর পড়ার পরে ভদ্রলোকের উপর মনটা একটু নরম হয়ে গিয়েছিল। আরও বড় হয়ে Gangadin পড়তে গিয়ে পুরোপুরি মাফ করে দিয়েছিলাম। ঐ যে বলে না, যাকে ভালোবাসি তার কোনও কিছুই খারাপ লাগে না।
সিনেমার গল্পটা এখানে আর বলব না। তবে যেই জাপানি অ্যানিমি টা আমরা দেখতাম তার সাথে কিছু অমিল আছে। আর হ্যাঁ হিন্দিতে দেখেছি, কারনটা অজানা নয় নিশ্চয়ই! ব্রেকের সময় একটা ছেলে ফোনে ওর বান্ধবী কে বলছিল " Jungle Book... in English.. No way.. I could've missed those name Baghira, Ka, Balu" জানা নেই হয়তো নামগুলো দূরদর্শন কর্তৃপক্ষ দেয়নি। ওটা রুডিয়ার্ড সাহেবের নিজের দেওয়া আর গল্পটাও ভারতীয় উপমহাদেশের গল্প।
ব্যুমেরাং এর গল্প বলছিলাম না। সেই ব্যুমেরাং টা ফিরে আসেনি, এমনকি 3D সিনেমার পর্দাতেও না। তবে এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিটে তেইশ বছর টাইম ট্র্যাভেল করে ফেলেছি।
- অভিষেক বোস
|
No comments:
Post a Comment