১০০ রূপয়ে কে ছুট্টা হোগা ?
কাহে চিন্তা কারতে হ্যায় , আপ কলকত্তা সে আয়ে হ্যাঁয় ?
আপকো ক্যায়সে পতা চলা ?
( নিজের হিন্দী আর হিন্দী ডায়ালেক্টে উপর আমার অগাধ আস্থা ৷ লেড়কা , লেড়কি মার্কা হিন্দী নয় )
আভি তো মিথিলা ছুটেগি
তাই তো , বিহার -নেপাল সীমানার এই ছোট্ট শহর থেকে সারা দিনে হয়তো ৫ টা ট্রেন যাতায়াত করে , স্টেশন যাওয়ার সময় সময় দেখেই বলে দেওয়া যায় কে কোথায় যাছছে।
কলকত্তা কঁহা রহতে হ্যায়?
-নিরুত্তর-
হম রহে হ্যায় কলকত্তা, পনরা সাল
হুমম
মেহনাত করনে সে কলকত্তা মে প্যায়সা হ্যায় বাবু।
হুম
ম্যায় খিদিরপুর মে থা, আউর খুব কামাতা থা, ফির বেটা কা বাড়কা নউকরি লাগা, তো হিয়া বুলা লিয়া, হিয়া আয়ে তো জামিন জায়দাত লিখাকে ঘর সে নিকাল দিয়া!
( এক শ্বাসে কথা গুলো বলে থামল)
আর চুপ থাকতে পারলাম না, জিজ্ঞেস করলাম
খিদিরপুর মে ক্যায়া কাম করতে থে?
মেকানিক থা, তেরা হাজার পগাড় মিলতা থা
ফির অউপাস কিউ নেহি গ্যায়ে?
মন টুট গ্যায়া থা, আউর মেরি লক্সমী ভি চল বসি
ক্যায়া কাম করতা হ্যায় বেটা?
বি.ডি.ও হ্যায়
বলে কি লোকটা !
স্টেশন পৌঁছে গেছিলাম , আর আমার তাড়াও ছিল , হঠাৎ মনে পড়ল আরে ! ভাড়া তো ঠিক করা হয়নি ! এখানে হামেশাই ৮০ টাকা ১০০ টাকা ভাড়া চেয়ে বসে ৷ আমার আবার খুচরোও নেই, ১০০ টাকা হাতে ধরিয়ে বললাম ছুট্টা করকে দিজিয়ে ৷ টাকাটা হাতে পেয়ে বৃদ্ধ দৌঁড়তে লাগল কাউন্টারের দিকে , এক মিনিট দু মিনিট পাঁচ মিনিট , আর আসে না !
গেল আমার ১oo টাকাটা , ষ্টেশনের দিকে রওনা দেব হঠাৎ দেখি ছুটে আসছে , ১০ টাকার ১০ টা নোট আমার হাতে দিয়ে বলল 'লিজিয়ে, অপকা গাড়ী ছুটনে বালি হ্যাঁয় ' ৷
কিতনা ?
৩০ রুপয়ে
একটা ১০০ টাকার নোট পকেট থেকে বের করে বললাম ' রাখ লি জিয়ে, আপ নে ওয়াক্ত সে পৌঁছা দিয়া '
দু হাত তুলে জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ বলে চীৎকার করে উঠল
আমার হঠাৎ করে মাঝির " শানদার, জবরদস্ত , জিন্দাবাদ " মনে পড়ে গেল
ঝুঁটি বাঁধা বৃদ্ধকে আমার দশরথ মাঝির মতোয় লাগছিল ৷
না ইনি কোনও পাহাড় ভেঙ্গে রাস্তা বানাননি, তবে এই বয়সেও যে শরীর ভেঙ্গে , নিজের বেঁচে থাকার রাস্তা বানিয়ে চলেছে সেটাই বা কম্ কিসে?
অনেকটা এগিয়ে এসেছিলাম , পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলাম ' দশরথ মাঝি তখনও হাত দুলিয়ে চলেছে '
- অভিষেক বোস

No comments:
Post a Comment